Skip to main content

Full text of "Byadhi O Tahar Pratishedh"

See other formats


ন্যা্গি গু ভ্ডান্ডাল্ ওভিম্বেল 


জাগুতত ও কতকগুলি বিশেষ বিশেধ রোগের ইতিহাস, 
নিদান ও প্রতিষেধ সন্গান্ষে বিভ্ৃত শালোচ্না। 


সারার তত... . 


ডাক্তার শ্রীুরেন্দ্রনাথ ভষ্টাচাখ্ সাহিতা- 
বিশারদ প্রণীত। 


* স্পরহিীখা৮. এ 


কলিকাতা, , 
১০নং রাক্ত। ওক়ুদাস স্্রীট হইতে 


বি. কে, ভুষ্রীচার্স্য কর্তৃক প্রকাশিত 





১০৭৩ | 
ফুল) /* আট আনা খাজ + 


১১৭১ বহবাজার স্্ট, কলি কাত 
কলেজ প্রেদে এহ, সি, চক্রবহণী ছার! যুদছিত। 


উৎসর্গ 


ধিনি এই রোগ-পলাথিত বজগদেশে উপযুক্ত চিকিৎসক 
পংখ)া বাড়াহবাঞঃ সন্ত অনন্য অধ্যবসায় ও ক্লান্ত শ্রম স্বীকাণ 
করিয়া গিয়াছেন--বর্ধনান “কারমাইকেল্‌ মেডিকেল কলেজ: 
বহার জীবনের অক্ষয় কীর্তি--সেই পুণ্যত ভাক্তার 
আর, জি, কর 

এল, আর, সি, পি: এল, এম ( ঞডিন্‌ ) 

মহোদয়ের 

পবিজ নামে 

এই ক্ষুত্র গ্রন্থ উদ্সর্গীকৃত হইবা। 


বিজ্ঞাপন । 


“ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ" “আধ্যাবর্ত্ নামক মাসিক 
শপে ধারাবাহিককূপে প্রকাশিত হইয়াছিজ ; তখনত আমাল 
কয়েকজন বন্ধু ইভাকে পুস্তকাকারে বাঁভব করিসার জুন 
অনুরোধ করেন : কিন্তু সময় € প্যোগ দজাবে এত পাল পটিয়া 
উঠে নাই । 

প্রথষে যে ভাবে সন্দভগুলি মাসিক পাত্র বাহির হইয়াছিল 
এবার তাহারে কোন একানে অংশ পতিতা হইল "বাল 
স্থানে স্নে আনেক শাবশ্যক বিষয়ঞ্ত নহষাক্তন কা গেল 
এখন "এ পুন্তক 1৮কিশুসাশ্াস্কানভিজ্ ব্যক্তিগণের কি 
উপকারে আসিলেই আমার পরি এম সঙ্চুল হ্হাবৰ। 

উপসংহারে বন্তবা এই যু. আমারি পারুম পদ ডাক্তার 
আযুক্ত স্ারশচন্দ মর এল, এম, এস, ৪ কনিরাজ 
শ্রীযুক্ত কঙ্দেনাথ “ভষগাচানা মহাশর়ছয় এব" পলাদরপ্রাতিত 
শ্রীমান মন্মথনাথ অটটাচাষা এই পুস্তক প্রণরন কালে আমাকে 
অনেক প্রকারে সাহাযা করিয়াফ্রেল । কজ্জন্য আমি তাহাদের 
নিকট বিশেষভাবে খণা | 
গোখরডাঙ্গ! | 
১৪ পরুগণা । শ্রীশ্বরেন্দরনণথ ভষ্টাচাধ্য। 


€ষ। ১৯২৯% | 


বিষয় । পা । 
রোগ- বীজাণু ৯ ৬ 
দ্ালেবিয়া স্বর ১" - ৮ 
টাইফয়েড ও কলেরা রঃ ২১ 
প্লেগ বা মছামারী ্ রড 
মক্ষন! *-. ?২ 
ডিপ্থিরিশ্ব -* ৬৭ 
কালোতঙ্ক ৮ রর 
পম্ষ্টঙ্থায মি 
হাম ও বনস্ত রা ৯৯ 


স্পিকার আতা 5 


ন্যান্সি ও৩ ভাহ্হাল্ ওাভিস্বে 1 


জিপঠে 222 ১0 


রোগ-_ বীজাণু। 


এই  “বাঁধি-মল্দির” মানব-দেভে প্রতিদিন কঙ্ি শঙ্গ 
হোগ-বীজ কত ভাপে প্রবেশ করিতেছে, ভাতা ভাপিলে জ্ঞানহার 

ভইতে ভয়" বক্ষ গুগাদির বীজ যেমন আমাদেস সাসভবনকে 
আজঙর করিয়! অস্কুবিত ভয় এব কালক্রোমে শাখা-প্রশীঙা। 
বিজু রিপুবপক সভাকে পাতিত করে, বাপি-বীজ * মনই 
দে5-গেহে নানাভানে প্রবিষ্ট তইয়া বংশবুদ্ধি করত উভাকে 
বিনষ্ট করিতে চেষ্টা পায়। পাশ্চাতা বীক্ততন্তুজ্ঞ পঞ্চিতগণ 
স্থির করিয়াছেন বে ম্যালেরিয়া, কলেরা, নন্মনা প্রভৃতি সকল 
রোগেবই বীজাণু আছে । এমন কি, তোমার যদি সদ্দি হয়, 
তাভা হইলেও বুঝিতে তইবে সদ্দির বীক্জাণু তোমার দেকতে 
পবিষ্ট হইয়া তোমাকে পীড়িত করিয়াছে । এত কাল ফে 
শরাকে আমরা বয়োধন্ধমা বলিয়া জানিতাম, এখন তাহাও 


২ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


বীজাণুঘটিত রোগ বলিয়া স্থিরীকৃত হইয়াছে । আমাদের অন্ত 
মধ্যে নানা জীবের বসতি আছে। বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এঁ 
সকল জীবাণু দলপুষ্ট হয়। তখন তাহাদের গাত্র নিঃস্ত 
রস সমস্ত মানবদেহে ব্যাপ্ত হইয়া বাদ্ধক্য আনয়ন করে। 
একবার পারিসের পাস্তুর চিকিৎসালয়ের অধ্যক্ষ মহাত্মা 
মেচ্নিকফ্‌ এ বিষময় রস সুক্গমাগ্র পিচকারি দ্বারা এক বাঁদরের 
শরীরে প্রবিষ্ট করান। দেখিতে দেখিতে জরার তাড়নায় 
কপিরাজের পৃষ্ঠ ভগ্ন, কটি মগ্ ও দেহ রুগ্ন হইয়া পড়িল! 
তাহার লোমরাজিও শুভ্রবর্ণ ধারণ করিতে বিলম্ব করে নাই । 

জীব ও উদ্ভিদ ভেদে বীজাণু দুই প্রকার। ডাক্তার! 
জীবাণুকে 119102098. এবং উদ্ভিজ্জাণুকে 138016718 নামে 
অভিহিত করেন। উত্ভিড্জীণুর মধ্যে যাহারা ঈষত দীর্ঘাকার 
তাহার! 13201111 এবং যাহারা গোলাকার তাহারা ০9০০1 সংজ্ঞা 
প্রাপ্ত হয়। ফল কথা, কি প্রাণিজাতীয় কি উদ্ভিদ্‌জাতীয় সকল 
বীজাণুরই জীবনীশক্তি আছে। এজন্য উহাদিগকে এক কথায় 
“জীবাণু” মাখ্যা দেওয়া হইয়া! থাকে। 

বীগাণু সর্বব্যাপী ; জলে, স্থলে» অনিলে ইহারা আত্মগোপন 
করিতে পারে । আমাদের বাড়ীর স্ত্রীলোকরা যখন সম্মার্জনীর 
দ্বারা ঘর-দ্বার পরিষ্কত করেন, তখন সেই ধুলি-মলের মধ্যেও 
অসংখ্য বীজাণু বিদ্যমান থাকে । জল, বায়ু ও খাদ্যাদি সংযোগে 
এই বীজাণু আমাদের দেহাভ্যন্তরে চলিয়া যায়। কোন কোন 
বীজীণু মশা, মাছি, ইন্দুর প্রভৃতির দ্বারাও মানব-দেহে 


রোগ-_বীজাণু। ৩ 


ংক্রামিত হয়। ভুয়োদর্শন দ্বারা স্থিরীকৃত হইয়াছে যে, একটি 
মক্ষিকা তাহার পক্ষ ও পদের সাহায্যে ২৫০ দুই শত পঞ্চাশ 
হইতে ৬৬০০০০০ ছয়ষট্টি লক্ষ রোগ-বীজাণু বহন করিতে 
পারে। 
বীজাণুগণ অণুদেহী। ইহাদের আকার এত সুম্ষম যে 
অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহাষ্য ব্যতীত আমরা চন্ধ চক্ষুতে উহাদিগক্ডে 
দেখিতে পাই না। কোন কোন রোগের বীজাণু অণুবীক্ষণেও 
মামাদের নয়নগোচর হয় না। বীজাণুর শারীরিক গঠনেরও 
বিলক্ষণ পার্থক্য আছে। কোন কোনটি বর্ভলাকার ; কোন 
(কোনটি অনতিদীর্ঘ সরল রেখাকার। আবার কাহারও কাহারও 
দেহ জয়ঢাক বাজাইবার যষ্টির অনুরূপ । ইহার! অত্যন্ত ক্লেশ- 
সহনশীল ; বরফের মধ্যে রাখিয়া! দিলেও এক একটি দীর্ঘকাল 
সজীব থাকে । প্রখর রবিতাপে ও ফুটন্ত জলে সকল বীজাণুই 
গতারুঃ হয়। 
অণুদেহী হইলেও বীজাণুর শক্তি অসীম । একটি বিশাল- 
কায় বলিষ্ঠ জীবকে ইহারা অল্পকালের মধ্যেই অবসন্ন করিয়া 
ফেলিতে পারে! ভারতের প্রপ্দ্ধ পলোয়ান্‌ গোলামের যখন 
ওলাউঠা হয়, তখন কয়েকবার মাত্র ভেদের পর তিনি এতাদৃশ 
দুর্বল হইয়া পড়েন যে হস্তোত্তলন করিয়া পুত্রকে আলিজন 
করিতে পারেন নাই। তৎুকালে সেই মুমূর্ষু বীরবর ক্ষোভে 
কম্পিতক্টে বলিয়াছিলেন “হায় ! রোগের কি অনীম শক্তি । 
একদিন যে হস্ত দ্বারা আমি অবলীলাক্রমে উপলখগ্ড 


৪ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


সকল চুর্ণ করিয়াছি, আজ এই মহাপ্রয়াণ দিনে দেই 
হস্ত এতদূর হীনবল হইয়াছে যে আমার প্রাণপ্রতিম পুন্রকে 
সে একবার শেষ আলিঙ্গন করিতে পারিল না ৮ এড়িয়াদহ 
নিবাসী, কাশী প্রবাসী মদ্ীয় জনৈক বন্ধু মুষ্ট্যাঘাতে ঝুন' 
নারিকেল ভগ্ন করিতে পারিতেন। তীহার স্তায় দৈহিক বল 
বাঙ্গালীর মধ্যে অল্প লোকেরই দেখিয়াছি । একদা বন্ধুবর 
জ্ররাতিসারে আক্রান্ত হইলে আমি চিকিস! করিতে গিয়াচিলাম | 
মিত্রালয়ে উপস্থিত হইয়া দেখিলাম দুই দ্রিনের ভ্বরেই তিনি 
উত্থানশক্তি রহিত হইয়া শষ্যায় পড়িয়। মুত্রপুরীষাদি পরিতাগ 
করিতেছেন। তীহাকে তদবস্থ দেখিয়া আমি সবিস্ময়ে 
বলিয়াছিলাম “কি হে' দুই দিনের অহ্থখে এত কাতর 
হইয়াছ ?” তত্রস্তরে ক্ষীণকঞ্ে বন্ধু বলিলেন “ভায়া, এক 
ুষ্ঠ্যাঘাতে অমুক পলোয়ানের উরু ভগ্ন করিয়াছিলাম কিন্ত দুরন্ত 
রোগ আমার মেরুদণ্ড ভগ্ন করিয়াছে 1৮ 

তাই বলিতেছিলাম রোগ-বীজাণুর শক্তি অসীম। ভাবিয়' 
দেখিলে বোধ হয় ইহারা মন্ত মাতঙ্গ অপেক্ষাও অধিক বলশালী ; 
সভ্যতালোকদীপ্ত স্থানের লোকেরা অধুনা এই বীজাণুর ভয়ে 
এতাদৃশ ভীত যে তাহাদের মধ্যে “বীজাণু-বাযু” নামে এক 
প্রকার অভিনব ব্যাধি দেখা দিয়াছে । কিছুদিন পূর্বের সংবাদ 
পত্রে পড়িয়াছিলাম ফরাসীদেশের রাজধানী পারিস সহরে এক 
বীজাণু-বায়ুগ্রন্তা বিদুষীবালা প্রাণভয়ে অস্থির হইয়া একটি 
স্বৃহত্ বাসভবন নিন্মাণ করাইয়াছেন। এ ভবনে তিনি বসতি 


রোগ- বীজাণু । ৫ 


করেন। বিবিধ প্রক্রিয়া দ্বারা যে বায়ু বীজাণুশুন্ত কর! হইয়াছে 
তাহাই এ গৃহে প্রবেশ করিতে পারে। খাদ্যপানীয়াদিও 
সম্যক বীজাণুশুন্য না করিয়া এ রমণী গ্রহণ করেন না। 
তিনি যে স্থানে বিচরণ করেন, তৎস্থানও বীজাণুরহিত। 
বোধ হয়, এই সভ্য! শ্বেতাঙ্গী আমাদের “হনুমান-_-বিভীষণের” 
হ্যায় অমরত্ব লাভ করিতে ইচ্ছা করিয়াছেন । 

রোগ-বীজাণু দেহ-প্রবিষ্ট হইয়া যে ভাবে বংশবৃদ্ধি করে 
তাহা শুনিলে আশ্চর্যযান্বিত হইতে হয়। প্রথমে একটি বীজাণু 
দ্বিধা বিভক্ত হইয়া দুইটি হয়। এ দুইটি হইতে আবার চারিটি 
হইয়া থাকে। এই রূপে অল্পকাল মধ্যে একটি জীবাণু হইতে 
বহুসংখ্যক জীবের সৃষ্টি হয়। এ সকল জীবাণু বাঁ উদ্ভিড্জাণুর 
গীত্র নিঃস্থত রসই আমাদের শরীরে নানাপ্রকার সাংঘাতিক রোগ 
আনয়ন করে গীড়িত ব্যক্তির মল, মুত্র ও বমিত পদার্থাদির 
লহিত রোগ-বীজাণুগণ আবার নির্গত হইয়া জলে-স্থলে ব! 
ব্যোমপথে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত হয়। 

যেকোন রোগের বীজাণু মানব-দেহে অনুপ্রবিষ্ট হইয়াই 
যে সকল সময় রোগানয়ন করিতে পারে, একথা বলা যায় না। 
আমরা একটু জলপান করিলাম, অমনই এ জলটুকুর সহিত 
অসংখ্য বারি-সহায় বীজাণু আমাদের জঠর মধ্যে চলিয়া 
গেল। প্রতি শ্বাসগ্রহণে কত কোটি কোটি বীজাণু বায়ুর 
স্কন্ধে চড়িয়া আমাদের ফুস্ফুদ মধ্যে উপস্থিত হইতেছে। 
কিন্তু কৈ, আমরা ত সকল সময় পীড়িত হই না পরম 


শু ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


কারুণিক পরমেশ্বর আমাদের ছুরবস্থা বিবেচনা করিয়াই 
প্রাগুক্ত মহাশক্রর উপদ্রব হইতে আমাদিগকে রক্ষা করিবার 
এক শ্ুন্দর ব্যবস্থা করিয়াছেন। বিধি আমাদের শরীরে এমন 
একটি ব্যাধি প্রতিষেধক শক্তি দিয়াছেন, যাহার সহিত সংগ্রাম 
করিয়া রোগ-বীজাণুগণ প্রায়শঃ পঞ্চত্ব পায়। আমাদের রক্তস্ছ 
শ্বেত কণিকাই আমাদের রক্ষক এবং উহাঁরাই এ সকল রোগ- 
বীজাণুর ভক্ষক। 

মনুষ্য-রক্ত মোটামুটি ভ্রিবিধ সামগ্রীর সমবায়ে প্রস্তুত । 
রক্তের তরল পদার্থকে রক্তরস বা “সিরাম্” বলে। এ 
রক্তরসের মধ্যে শ্বেত ও লোহিত ছুই প্রকারের কণিকা আছে। 
এ কণিকাগুলি এতাদৃশ সুন্মম যে চন্ম চক্ষুতে উহাদিগকে 
দেখিতে পাওয়া যায় নাক্। চক্ষুর চক্ষু অণুবীক্ষণের দ্বারা আমরা 
উহা্দিগকে দেখিতে পাই। সুস্থ রক্তে শেত কণিক অপেক্ষা 
লোহিত কণিকার সংখ্যা ৩৭০ গুণ অধিক। এক সুচ্যগ্রবিন্দু 
মনুষ্যরক্তে ৫০ লক্ষ লোহিত কণিকা ও প্রায় ১৫ সহজ শ্বেত 
কণিকা থাকিতে পারে । 

রোগ-বীজাণু রক্তে প্রবেশ করিলেই চতুদ্দিক হইতে 
পঙ্গপালের ন্যায় শবেতকণিকাদল আসিয়া উহাদিগকে সমরশায়ী 
করে এবং একে একে সকলকে ভক্ষণ করিয়া ফেলে। 


* খেত কণিকার ব্যান (10121006661 ) তত ত ইর্চি এবং লোহিত 
কণিকার ব্যাস ছল্ত ইঞ্চি 


রোগ-_বীজাণু। রণ 


আমাদের শরীরে রোগ-বীজাণুর সহিত শ্বেত কণিকার এই 
গ্রাম অবিরাম চলিতেছে । 

জনাকীর্ণ স্থানে বাঁস, দুশ্চিন্তা, কদাহার, অত্যন্ত পরিশ্রম, 
শীতাতপ সেবন প্রভৃতি যে কোন কারণে রক্তের শ্বেত 
কণিকাগুলির অরুচি রোগ জন্মিলে আমাদের আর রক্ষা নাই। 
তখন রোগ-বীজাণুসকল নির্বিবিত্ে বংশবুদ্ধ করিয়া আমাদিগকে 
পাড়িত করিয়া ফেলে । যতক্ষণ আমাদের রক্তে শ্বেত কণিকা 
সতেজ থাকে, ততক্ষণ আমরা নিরাপদ থাকিতে পারি । তখন, 
রোগ-বীজাণু দেহ-প্রবিষ্ট হইলেও রোগানয়ন করিতে পারে না। 

আমাদের পাকস্থলীর অজ্সরসে (08501010105 ) পড়িয়াও 
অনেক সময় অনেক বীজাণু প্রাণ হারায়। এ রসের প্রভাব 
উহারা সহ করিতে পারে না। 

ইংরাজীতে একটি কথা! আছে--'€ 705৮5771107 15 1961661 
11720 00076 ৮--অর্থাৎ রোগ হইলে তাহার শাস্তি করা অপেক্ষা 
যাহাতে রোগ না হয় সেই চেষ্টা করাই সমীচীন। কতকগুলি 
প্রধান প্রধান রোগের বীজাণু কি উপায়ে মানব-দেহে সংক্রামিত 
হয় এবং কেমন করিয়াই বা আমরা তাহাদের আক্রমণ হইতে 
আত্মরক্ষা করিতে পারি তাহা একে একে বলা যাইতেছে । 


ম্যালেরিয়া জর । 


মুদলমান এঁতিহাসিকগণ একদিন এই ফল-ফুল-শালিনী 
শস্যাভর। বঙ্গভূমিকে « [97280756 08 68107 ৮ অর্থাৎ ভূম্ব্গ 
বলিয়া বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন। ইংরাজী ১৮০৭ ত্ব্দে ও 
তাঁকালিক গভর্ণর জেনারেল জর্ভ মিণ্টো মহোদয় বাঙ্গালীর 
দৈহিক গঠন দেখিয়া আনন্দে লিখিয়াছিলেন,__ 
তর 009৮৪ 92৮ 50177810050706 21:90. 11769) 215 
17001 90119210107 10 119.0725 150110), জা1095০ 1077)8 
1 701071160 2150. 10110956816 910100017, 11955 2712 1211, 
[2019001121) 2117191010 7506১ [02115007 91721990 270 
৮10) 0172 10651 13095911019 085 01 ০0001800172)06 
৪100. 16900165- 101)552 (68001705816 ০01 015 10951 


013551091] £0101392 17)090015 111) 2091 ৮2016 
2 076 58106 0000-৮ 


এখন আর সে বাঙ্গালা ও বাঙ্গালী নাই। “ভুন্বর্গ* এখন 
ম্যালেরিয়াগ্রস্ত । তাহার পল্লীগুলি বুঝি নিশ্রদীপ হইতে 
বদিল। ম্যালেরিয়া-জীর্ণ পল্লীবাসীর দেহ এখন ব্যাধির সামান্য 
তাড়নায় পরাভূত হুইধ1 জীবনবৃন্ত হইতে বিচ্যুত হইতেছে । 

পূর্ববকালে আমাদের দেশে এই জনপদধ্বংসকারী ব্যাধি 
এরূপ প্রবলভাবে ও স্থায়ীরূপে ছিল না বলিয়াই বোধ হয়। 


ম্যালেরিয়া জবর । ৯ 


দক্ষিণ আমেরিকার আমেজান ও আফ্রিকার অরেঞ্জ নদীর উভয় 
কুলবর্তী ভূখণ্ডে এবং ইটালির কাম্পানা নামক জলাভূমিতে 
অনেক দিন হইতে ম্যালেরিয়ার প্রাছুর্ভাবের কথা শুনা যায়। 
এক সময়ে ইংলগ্ডেও ইহার প্রভাব কম ছিল নাঁ। বন্গদেশের 
মধ্যে সর্বপ্রথমে যশোহর জেলায় আরন্ধ হইয়া ইহা! ক্রমশঃ 
সর্ববত্র ব্যাপ্ত হয়। কথিত আছে ১৮৩৩ খুষ্টাব্দে ৭০০ শত 
কয়েদী ঢাকা হইতে যশোহর পর্য্যন্ত একটি সুদীর্ঘ রাজপথ 
নিন্মীণে নিযুক্ত ছিল। যশোহরের মহম্মদপুর গ্রামে কাধা 
করিবার সময় তাহারা হঠাৎ দুরন্ত জ্বররোগে আক্রান্ত হয় 
এবং অল্পদিনের মধ্যেই তন্মধ্যে দেড় শত লোক দেহত্যাগ 
করিল। অতঃপর সাত বসর ধরিয়া এই জ্বর অতি প্রবলভাবে 
তদ্দেশবাসী জনগণকে বিধ্বস্ত করিতে থাকে । 

১৮৩৩ হইতে ১৮৪০ খুষ্টাব্ড পর্য্যন্ত ম্যালেরিয়! গদখালিতে 
মহামারী রূপে আত্মপ্রকাশ করে। ১৮৪৫ খুষ্টাব্বে ইহা 
বনগ্রাম ও চাকদহে আসে এবং ১৮৫৬ খৃষ্টাব্দে বীরনগর বা 
উলা ধ্বংস করিয়া কীচড়াপাড়া, হালিসহর, নৈহাটা, ত্রিবেণী 
প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পরিব্যাপ্ত হয়। 

১৮৬০ খুষ্টান্দে এই জ্বর বদ্ধমানে নবপ্রবেশ করে। 
'বদ্ধমানবাসী ইতঃপৃর্বেবে ষে স্বাস্থ্যস্থখ উপভোগ করিতেছিল, 
এই বগসর হইতে তাহা অন্তহিত হইল। তাহাদের ভাগ্যাকাশে 
প্রলয়ের চিহ্ৃম্বরূপ ধূমকেতু দেখা দিল। দেখিতে দেখিতে 
কয়েক বর্ষের মধ্যেই এ প্রদেশের জনপদগুলি শ্মশানে 


১৪ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ । 


পরিণত হইতে বসিল। রোগে, শোকে লোক ত্রাহি ত্রাহি 
ডাক ছাড়িল। দেশের সংবাদপত্রসমূহ গভর্ণমেণ্টের চি্তাকর্ষণ 
করিবার জন্য দুন্দুভিনাদে এই মন্মন্তুদ সংবাদ বিঘোধিত করিতে 
লাগিল। ইহার অল্লদিন পরেই ম্যালেরিয়া হুগলি ও হাওড়া 
জেলায় প্রবেশ করিয়! তদ্দেশবাসীরও সর্বনাশ করিতে আরম্ত 
করে। এখন বাঙ্গালার সমস্ত জেলাতেই ইহার সমান অধিকার । 
ইহার উৎপাতে স্থজলা, স্ৃফলা, শস্তশ্যামলা বঙ্গজননীর সন্তান 
সন্ভতিগণ জীর্ণ, শীর্ণ ও কঞ্কালসার। বাঙ্গালীর সে পুষ্টদেহ, 
তুষ্ট মন আর নাই। সেই বলদৃপ্ত পদবিক্ষেপের স্থলে এখন 
তাহার! অতি কষ্টে দেহভার বহন করিয়া ক্লান্ত পদে বিচরণ 
করিতেছে । এই বিষম ব্যাধির আলিঙ্গন ভয়ে ভীত হইয়| 
লক্গীর বরপুত্রগণ বাস্তরভিটা পরিত্যাগ করিয়া সহরবাস করিতে 
বাধা হইয়াছেন। তীহাদের প্রয়াণে বঙ্গপলীর যে দশা ঘটিয়াছে, 
সে দৃশ্য দেখিলে মৃত কবির সেই শোকোচ্ছাস মনে পড়ে, 

“কি ছুর্দশা ! ছিল যথা বাসগৃহশ্রেণী কত, 

কোলাহল মুখরিত মধুকর চক্রমত, 

খান কত জীর্ণ ঘর রহিয়াছে সেথা আজি, 

ঘিরিয়াছে চারিদিকে তৃণগুল্ম বনরাজি ! 

ধনীর প্রাসাদ চূড়া ভাঙ্গিয়া পড়েছে ভূমে, 

মন্দির, প্রাচীর, স্তস্ত সকলি মেদিনী চুমে ! 

ভাঙ্গিয়াছে বীধাঘাট নিবিড় শৈবালদল, 

করিয়াছে জলাশয় সমল পঙ্কিল তল ! 


ম্যালেরিয়। জর । ১১. 


দন যাতায়াত শুন্য পল্লীপথগুলি পাশে, 
ছু'ধারে ঘিরেছে বনে, বিকট কণ্টক হাসে ' 
যে হয়েছে কৃতবিদ্য, লতেছে সম্পদ বল, 
সেই করিয়াছে ভিটা শ্বাপদ ভ্রমণ স্থল।” 


যে ম্যালেরিয়ার পৈশাচিক অত্যাচারে বাঙ্গালার শান্ত, শ্িগ্ধ 
পল্লীগুলি আজ মহাশ্মশানে পরিণত--যাহার কবলে পড়িয়া গ্রতি 
বণুসর প্রায় দশ লক্ষ বঙ্গবাপী অকালে ভবের খেল! সাঙ্গ 
করিতেছে--সেই ম্যালেরিয়ার নিদান নিণয়ের জন্য অনেক সময় 
অনেক চেষ্টা হইয়া গিয়াছে। পূর্ববর্তী মনীধষিগণের মতে 
জলাভূমিতে লতাগুল্মাদি পচিয়া যে বিষ-বাম্প উৎপন্ন হয়, তাহাই 
ম্যালেরিয়ার কারণ। আবার কেহ কেহ বলিতেন, দুষিত 
জলপানেই এই রোগ জন্মিয়া থাকে । ১৮৮০ খুব ফরাসী 
সৈনিকদলের ডাক্তার ল্যাভেরন্‌ এই রোগের প্রকৃত কারণ 
আবিষ্কত করিয়। জগদ্বাসীর এঁকান্তিক শ্রদ্ধা! আকর্ষণ করিয়াছেন। 
তাহার মতে এক প্রকার জীবাণুই (11953100901070 ) এই দুরন্ত 
ভ্বরের জনয়িতা% ৷ এই জীবাণুগণ অণুদেহী এবং এক কোবধুক্ত। 
ইহারা সহত্রগুণ পরিবদ্ধিত হইলে এক একটি বৈঁচ ফলের ন্যায় 
দৃষট হয়। আদিতে জলে কিংবা স্থলে কোথায় ইহারা প্রথম 
জন্মগ্রহণ করিয়াছিল তাহ!র নিশ্চয়তা নাই। 


* এক দিন অস্তর জ্বর, পালাজ্বর প্রভৃতি ভিন্ন.ভিন্ন প্রকার ম্যালেরিয়া জ্বরের 
ভন্ম ভিন্ন জীবাণু আছে। 


১২ বাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


কিউলেক্স জাতীয় (0০015 ) মশকগণ গোদ রোগের জীবাণু 
বহন করে। ইহা দেখিয়া সর্বপ্রথমেই মহামতি ম্যান্সন্‌ 
অনুমান করেন যে ম্যালেরিয়া-জীবাণুও বোধ হয় এরূপ 
কোন জাতীয় মশকের দ্বারা রোগীর শরীর হইতে স্ুুস্থদেহে 
ক্রামিত হয়। তাহার অনুমানের উপর নির্ভর করিয়া ডাক্তার 
রস্‌ নানাঁজাতীয় মশক লইয়! পরীক্ষা করিতে আরম্ভ করেন। 
অবশেষে ১৮৯৫ খুষ্টীব্দে উক্ত মহাত্বা সপ্রমাণ করেন যে 
এনোফিলিস্‌ জাতীয় মশকই ম্যালেরিয়া জীবাণুর বাহকঞ্চ । 
তিনি বলেন-__ 


“1৬121711215 006 10 [012510281৮৩ 01 0৮ 
17911) 0001 0179 70185102, 18006 2 25 0৬৭০৪, 
10152. 11510761708600ত 0006 ঠা 01 21870, 09 
1001 11৮6 1] 1116 [শা12511) 1115 1176 02105 01 076 
50710571010) 155 চ1015- 10176 20010116155 (1061)- 
56159 2016 0116 10819119] 0019.9102.-) 


এনোফিলিস্‌ মশক রোগীর দেহে হুল বিদ্ধ করিয়া রক্তপান- 
কালে রোগ-জীবাণু টানিয়। লয়। কয়েক দিবস পরে মশক 
দেহে জীবাণুর বংশবৃদ্ধি হইতে থাকে । এই অবস্থায় এ মশক 
কোন স্থস্থ ব্যক্তিকে দংশন করিলেই মশকের লালার সহিত 


* েগোমাইয়! ফ্যাসিক়েটা” নামক মশক পীত জরের বীজাণু বহন করে। 
কালাজ্বর এক প্রকার ছারপোক। দ্বারাই সংবাহিত হয়। « [২6127515)6 


6৮51 "এর € এক প্রকার বিশেষ জ্বরের ) বীঙ্গাণু আটালুর দ্বারাই মানব-দেছে 
সংক্রামিত হয়। 


ম্যালেরিয়। জর । ১৩ 


ম্যালেরিয়া-জীবাণু দষ্ট ব্যক্তির রক্তে প্রবিষ্ট হইয়া রোগানয়ন 
করিতে সমর্থ হয়। 

অল্পদিন হইল বিলাতের অধ্যাপক ডাক্তার এ, ই, সিপ্লে 
মহোদয় এনোফিলিস্‌ মশকের গতি-প্রকৃতি বিশেষরূপে লক্ষ্য 
করিয়া এই দিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছেন যে পুরুষ মশকের দংশন 
দ্বারা রোগ বিস্তারের ভয় নাই ; মশক পত্রীরাই বিষবাহিকা । 
উহারা দংশনকাঁলে দষ্টম্থানে ডিম পাড়িয়া চলিয়া যায়। 
এ ডিমের সঙ্গে রোগ-জীবাণু দেহপ্রবিষ্ট হইয়া ম্যালেরিয়া 
স্রের স্ট্টি কলে। 

মশকগণ ঘেমন সকলে মিলিয়া গুণ গুণ স্বরে গীত গাভিতে 
খাকে, মশকীরা সেরূপ করে না। তাহারা চোরের ন্যায় 
নিঃশব্দে আসিয়াই আমাদের দেহে ছুলবিদ্ধ করে। 

মহাত্ব! সিপ্লে দীর্ঘ ১৫ বৎসরকাল পূথিবীর বিতিন্ন স্/ন 
পরিভ্রমণ করিয়া মশক সম্বন্ধে আরও যে সকল অভিজ্ঞত। লাভ 
করিয়াছেন তাহা এই, - 

হরিদ্রা এই জাতীয় মশকের প্রধান শত্রু ; হরিদ্রার গন্ধে 
উহার মরিয়া যাঁয়। যে ঘরে অধিক পরিমাণে হরিদ্রা চূর্ণ 
থাকে তথায় মশকের প্রবেশাধিকার নাই। উহারা এ দ্রব্যকে 
এত ভয় করে যে হরিপ্রাবর্ণে রঞ্জিত বস্ত্রের উপরেও বলিতে 
সাহস করে না । 

নীলরড্টি ইহাদের বড়ই প্রিয়। তাই ইহারা ঝাঁকে ঝাঁকে 
উড়িয়া গিয়া নীলানম্বরেই বগিয়া থাকে। নীলাম্বর পাইলে 


১৪ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


মার কোন স্থানে উহারা বসিতে চাহে না। পিপ্লে যখন 
আাফ্রিকার মশক প্রধান স্থানে বাস করিতেন, তখন তিনি তাহার 
তান্ুর কাপড় নীলরড্‌ ছারা রঞ্জিত করিয়া লইয়াছিলেন। ইহার 
ফলে রাত্রিতে বখন তিনি নিদ্রান্খ উপভোগ করিতেন, তখন 
একটি মশকও তাহাকে দংশন করিয়া নিজ্লার ব্যাঘাত ঘটাইত না; 
সকলে সেই নীল তান্বুর উপর বসিয়া মজগুল হইয়া থাকিত। 
সিপ্লে বলেন মশকের ভ্বাণশক্তি একেবারেই নাই । 
তাহারা শব শুনিয়া আহার অন্বেষণে সেই দিকে ধাবিত হয় । 
যে সকল ব্যক্তি বেশ স্থিরভাবে বসিয়া থাকে-_-কোন প্রকার 
শব্দ করে না__-তাহাদের দংশনভ্বীল। বড় একটা সহা করিতে 
হয় না। বেশী কথাবার্তী কহিলে অথবা যে কোন প্রকার শব্দ 
করিলেই এই ক্ষুদ্র রাক্ষসের দল পালে পালে আসিয়া ঘাড়ে 
পড়ে। নিদ্রাবস্থায় যাহাদের নাসিক! গঞর্জিতে থাকে, তাহাদের 
আর রক্ষা নাই। খাটের শব্দ, পার্খবপরিবর্তনের শব্দ বা এরূপ 
কোন একটি শব্দ শুনিতে পাইলেই উহারা সেই দিকে ছুটিয়া 
যায় এবং শয়িত ব্যক্তির অঙ্গে বসিয়া ভুল ফুটাইতে থাকে । 
অনেকে বলিয়া থাকেন, মশকদংশনেই যদি ম্যালেরিয়া জ্বর 
হইত তবে সার। বঙ্গদেশে বোধ হয় একটি লোকও সুস্থ থাকিত 
নী। কিন্তু মনে রাখ! উচিত, যে কোন মশক দংশন করিলেই 
ম্যালেরিয়া জ্বর হয় না। কেবল মাত্র এনোফিলিস্‌ জাতীয় 
মশকই ম্য।লেরিয়া-জীবাণুর বাহক। সাধারণ মশক হইতে 
এই এনোফিলিস্‌ মশকের অনেক পার্থক্য আছে। একটু লক্ষ্য 


ম্যালেরিয়া জর । ১৫ 


করিয়া দেখিলেই সকলে ইহা বুঝিতে পারেন। এ মশকের 
হুলের উভয় পার্থ দুইটি শু'ড় ও পক্ষোপরি ছিট ছিটু চিহ্ন দেখা 
যায়। ইহারা গৃহভিভ্ভিতে কখনই সোজা হইয়া বসিতে পারে 
নাঁ_বাকা ভাবেই বসে। 

নালা, নর্দামা, খানা, ডোবা প্রভৃতি স্থানগুলি এনোফিলিস্‌ 
মশকের জন্মস্থান । বর্ষা সমাগমে বঙ্গপল্লীসমুহে যে ম্যালেরিয়। 
ভ্বুরের আধিক্য দৃষ্ট হয়, তাহার কারণ এ সময়ে খানা, ডোবা 
জলপুর্ণ হওয়ায় মশকীরা ডিম পাড়িবার স্থবিধা পায়। এ ডিম 
হইতে অসংখ্য মশকের জন্ম হয়। মশকতন্ববিদ পণ্ডিতগণ 
বলেন প্রত্যেক মশকী এক সময়ে ১৫০ হইতে ২০০ ডিন্ব প্রসব 
করিয়া থাকে । 

ম্যালেরিয়া জীবাণু মশক কর্তৃক মনু্য-রক্তে প্রবিষ্ট হইয়া 
বংশবৃদ্ধি করে এবং সঙ্গে সঙ্গে রক্ত নষ্ট করিয়া ফেলে। এই 
রক্তদৌষই ম্যালেরিয়া জ্বরের বিপদের হেতু । ডাক্তার রস্‌ 
বলেন যে দেশে এনোফিলিস্‌ নাই, তথায় ম্যালেরিয়া নাই। যে 
কোন উপায়ে দেশ এনোফিলিস্‌ শুন্য করিতে পাঁরিলেই 
ম্যালেরিয়াশূন্য হইবে। এ কথার প্রমাণও যথেষ্ট পাওয়া 
গিয়াছে। সে কালে কলিকাতায় মশকের বড়ই প্রাদুর্ভাব 
ছিল। *রেতে মশা, দিনে মাছি, এই নিয়ে কল্কাতায় 
আছি*--এই প্রচলিত বাক্য অদ্যাপি তাহার সাক্ষ্য প্রদান 
'করিতেছে। কলিকাতায় তখন ভ্রেরও একাধিপত্য । লোক 
এজবরকে “পাকান্বর” বলিত। কোন কোন বৎসর বর্যাকালে 


১৪ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


এই জ্বরে তথাকার যুরোপীয় অধিবাসিবর্গের তিন ভাগ মৃত্যুমুখে 
পতিত হইত। যে এক ভাগ জীবিত থাকিত, তাহারা প্রাণরক্ষা 
করিতে পারিয়াছে বলিয়৷ প্রতি বসর ১৫ই অক্টোবর তারিখে 
একটি আনন্দ-ভোজের অনুষ্ঠান করিত। পূর্ববকালে আফ্রিকার 
কোন জনপদে ম্যালেরিয়ার অতিশয় দৌরাআ্য ছিল। অনেক 
শ্বেতাঙ্গ পুরুষ কন্মোপলক্ষে এ স্থানে গিয়া অল্পকাল মধ্যেই 
পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হইত । এই জন্য এ স্তানকে লোক শ্বেত মনুষ্ের 
“গোরস্তান” বলিত । এক্ষণে তথায় ম্যালেরিয়া নাই বলিলেই 
হয়। ইহার কারণ অনুসন্ধান করিয়। দেখা গিয়াছে, এ স্থানে 
আর মশক নাই। 

১৮৯৫ হইতে ১৮৯৯ খুষ্টাব্দ পর্যান্ত ম|লয় উপদ্বীপে 
ম্ালেরিয়ার উপদ্রব বিলক্ষণ ছিল। মশক ধ্বংসের ফলে 
দে শ্থানেও ম্যালেরিমীর গর্ব খর্নন হইয়াছে । প্যানেমার 
অবস্থা ভাবিয়! দেখ । একদা রেল রাস্ত! প্রস্থ করিবার জন্য 
শআাফ্রিকা হইতে এক সহজ নিগ্রো আশিয়া প্যানেমায় প্রেরণ 
করা হয়। কিন্তু ছয় মাসের মধ তাহারা! সকলেই জ্বর রোগে 
হুবধাম পরিত্যাগ করে। আর একবার এ উদ্দেশ্যে তথায় 
সহত্রীধিক চীনবাসীকে পাঠান হইল। তাহারাও ছয় মাসের 
মধ্যে নিগ্রোদিগের অনুগমন করিয়াছিল। বিগত ১৯১৩ 
খৃষ্টাব্দে তথায় প্রতি সহন্ত্রে ৮ জন মাত্র ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত 
হইয়াছিল। প্যানেমাতে ম্যালেরিয়া নিবারণের যেযে উপায় 
অবল্ধিত হয় তাহা এই-- 


ম্যালেরিয়া জর। ১৭ 


১। প্রত্যেক বাড়ীর একশত গজের মধো এনোফিলিস্‌ 
জাতীয় মশকীর ডিম পাঁড়িধার স্থানগুলি নষ্ট করিয়া দেওয়া হয় 

২। বাড়ীর সানিধ্যে যাহাতে মশককুল আশ্রয় লইঙ্ডে 
না পারে তাহার প্রতিও বিশেষ লক্ষ্য রাখা হইয়াছিল । 

৩। প্রত্যেক বাড়ীর লোক, বাড়ীর দরজা, জানাল! 
তাঅনিম্মিত এক প্রকার সহ্িদ্র আবরণ দ্বারা এরূপ ভাবে 
আবদ্ধ করিয়াছিল যাহাতে উহার মধ্যে মশক প্রবেশ করিতে 
না পারে, অথচ বায়ু যাতায়াতের ব্যাধাত না হয়। 

৪1 মশকীর ডিম পাড়িবার যে স্থানগুলি নস্ট করা সম্ভব 
হয় নাই, তথায় কেরোসিন তৈলবা তুদ্ কোন ভিম্বনাশক 
বিষ-পদার্থ মধ্যে মধ্যে ঢালিয়] দেওয়া হইত | 

ম্যালেরিয়াপ্রধান দেশে বাস করিয়া ম্যালেরিয়ার আক্রমণ 
হইতে আহ্ারক্ষা! করিতে হইলে যাহাতে স্থাস্থ্যভঙ্গ না হয় এবং 
এনোফিলিস্‌ মশকে দ:শন করিতে না পারে তদ্বিষয়ে লক্ষ্য 
রাখাই প্রধান কাধ্যা। কোন খতুতেই শীতবাতসমাকুল স্থানে 
অথবা আদ্র ভূমিতে শয়ন কর! বিধেয় নহে। খাঁটু বং 
পর্বাঙ্কোপরি শয়নস্থান নির্দেশ করিবে । এনোফিলিস্‌ জাতীয় 
মশকগণ প্রায়শঃ দিবাভাগে দংশন করে না; স্থতরাং রাত্রিকালে 
মশারি ব্যবহার ও জাম! পরিধান করিয়া মশকের দংশন হইতে 
আস্মারকষা করিতে সচেষ্ট থাকিবে । বাঁসগুহগুলি যাভাতে 


 *কার্বপিক এসিড ৩০ গ্রেণ, জল ৮ আউন্প। এই লোশন অল্প গ্রিমারিনের 
চিত মিশাইয়া গাত্রে মাখিলে অনেকক্ষণ পণ্যন্ত মশদু কামডাইতভে পাবে না| 


সস 


সি 


১৮ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


পরিষ্কত পরিচ্ছন্ন থাকে এবং উহার মধ্যে বাতালোক সমানভাবে 
প্রবেশ করিতে পারে, তদ্বিষয়ে যত্রবান্‌ হইতে হইবে। 
আঙ্গিনা ও বাসভবনের পার্বতী স্থান সমূহে বনজঙ্গল হইতে 
দেওয়া অন্ুচিত। বাড়ীর জল যাহাতে সহজেই নিকাশ হয়, 
তাহার বন্দোবস্ত করিবে। ভদ্রাসনের নিকটব্তী স্তনে খানা, 
ডোবা! থাকিলে বর্ষাসমাগমের পূর্বেই উহাদিগকে ভরাট করা 
কর্তবা। বাড়ীর সান্নিধ্যে যাহাতে এক বিন্দু জলও কোন স্থানে 
জমিতে ন৷ পারে তদ্বিষয়ে খরদৃষ্টি রাখিতে হইবে । 

কেহ কেহ বলিয়া থাকেন এই সকল শ্ি্য়িম পালন কর 
বন্ুব্যয় সাধ্য ; কিন্তু আমি বলি, তাহা নহে। অট্রালিকাবাসী 
ও কুটারবাসী সকলেই ইচ্ছা করিলে নিজ নিজ গৃহ স্বাস্থ্যোপযোগী 
করিয়া রাখিতে পারেন। আমরা বাহিরে লন্বশাট পটাবুত 
বাবু সাজিয়৷ বেড়াইয়া থাকি; কিন্তু ঘরে আসিয়া দেওয়ালের 
গাত্রে ও খাটের পার্শে কফ, কাস ফেলিতে ত্রুটি করি না। 
আমাদের বাহিরের বৈঠকখানাটি ঝাড়, বেল প্রভৃতি বহুবিধ 
আলোকাধারে সজ্জিত; কিন্ত্রু রান্নাঘরের পার্খশ্হিত জল নালী 
ভাত, ফেন ও কদলা পত্রাদি দ্বারা আবদ্ধ । 

অবস্থা বৈগুণ্যহেতু খানা, ডোবা ভরাট করিতে অসমর্থ 
হইলে বর্ষাকালে মধ্যে মধ্যে উহাদের জলে কিছু কিছু কেরোসিন 
তৈল নিক্ষেপ করিলে অভীষ্ট কতক পরিমাণে পিদ্ধ হইতে 
পারে। ইহা দ্বারা মশকীর ডিম্বগুলি ([.7% ) বিনষ্ট হয়। 
ডাক্তার সার্‌ কৈলাস চন্দ্র বসু বলেন বাকসের কাচা পাতা জলে 


ম্যালেরিয়া জর। ১৯ 


ডুবাইয়া রাখিলে মশক ডিম্ব ধ্বংদ হয়। পল্লীবাঁসিগণ এই 
সনায়াসলাধ্য উপায় ইচ্ছ! করিলেই অবলম্বন করিতে পারেন। 

পল্লীগ্রামে দেখিতে পাই গুহস্থগণ বাসগুহের সম্মুখেই 
আঁন্তাকুড় করিয়া রাখেন। এ স্থানে আবজ্জনাদি: নিক্ষেপ 
ও মল-মুত্র ত্যাগ করা হয়। কাহারও কাহারও গুহপ্রাঙ্গণের 
মধ্যে গোময়স্ত্ুপ পচিতে থাকে । এই সকল পৃতিগন্ধময় স্থানে 
রাশি রাশি মশা-মাছির প্রাছুর্ভাব হয়। আমাদের দেশের 
গুহলল্সনীরা সর্বদাই বলিয়া থাকেন-_-“আচার বিচারেই লক্ষ্মীর 
কৃপা ।” এই “আচার বিচারের” কথা যদ্দি তাহাদের সকল 
সময় মনে থাকে তাহা হইলে আমার্দের অনেক দুঃখ দূর হয়। 
সায়ংকালে বাসগৃহে ধুনা-গঙ্গাজল দিয়া তুলসীতলায় দীপ 
দেখাইলেই কেবল “আচার-বিচার” হয় না। ঝিষ্টামৃত্র ও 
বাড়ীর আবর্জনাগুলি পরিদ্ৃত করিবার ভয়ে প্রাঙ্গণের এক 
পার্খে জমা করিয়া বাহিরে আচার দেখাইলে কি হইবে? 
আচার-প্রিয় বঙ্গজননীগণ মিথ্যাচার ত্যাগ করিয়া সদাচার শিক্ষা 
করিলে বঙ্গগৃহ শান্তিময় হইতে পারে। 

ম্যালেরির়। প্রতিষেধক উপায়গুলি একে একে বল! হইল । 
এইবার আর একটি কথ! বলিয়া! আমার বক্তব্য শেষ করিব। 

বর্ষা বা শর কালে পল্লীগ্রামে বাস করিয়া মশক দংশন 
হইতে একেবারে অব্যাহতি পাওয়া অসম্ভব বলিলেই চলে। 
অতএব এ সময় বাড়ীর প্রত্যেক সুস্থ ব্যক্তি প্রতি সপ্তাহে দুই 
দিনে একুনে অন্ততঃ ১০ রতি কুইনাইন সেবন করিতে ভুলিবে 


০ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


না। নালকদিগের পক্ষে বয়; অনুযায়ী মাত্রা কম করিয়া 
লইবে। মনে রাখিও-_একমাত্র কুইনাইনই ম্যালেরিয়া-জীবাণুর 
মৃত্যুশর ৷ তবে উহা মল্লমাত্রায় প্রযুক্ত হইলে ফলপ্রদ হয় না, 
বরঃ তদ্গারা ম্যালেরিয়া-জীবাণুর শক্তি আরও বদ্দিত হয়: 
এজন্য প্রতিদিন এক আধ্‌ রতি কুইনাইন সেবন ন! করিয়া 
সপ্তাতে ছুই দিনে কিছু আধিক মাত্রায় সেবুন করাই স্বাস্থ] । 


টাইফয়েড ও কলেরা । 


টাইফয়েড গুরকে আমাদের ভাষায় অভিন্যাস সান্সিপাতিক 
ভূর বলা যার়। জন বহুল সহরেই এই রোগের প্রানর্ভাব 
অধিক । ১৫ হইতে ৩৫ বসরের মধ্যে স্ত্রী অপেক্ষা পুরুষগণ 
ইহা দ্বারা অধিক আক্রান্ত হইয়া থাকে । পরীক্ষা দারা 
স্বীকৃত হইয়াছে বে, এক' প্রকার জলবাহন জীবাণুই এই 
রোগের নিদান। সাধারণতঃ দুগ্ধ ও জলের সহিত এই জীবাণু 
মানবদেহে প্রবিষ্ট হয়। ১৮৭৩ খুষ্টান্দের নিদাঘকালে 
বিলাতের কোন একটি বিশিষ্ট গোঁশালার দুগ্ধ পান করিয়া 
৫০০ শত লোক এককালীন এই রোগাক্রান্ত হইয়াছিল। 
অবিশুদ্ধ জলেই টাইফয়েড জীবাণু (01010 1১31] ) 
অবশ্থিতি করে । আমাদের এই নদীমাতৃক বঙ্গদেশে যে সকল 
স্বল্পতোয়। বা রুদ্ধগতি মজ। নদী আছে, তাহাদের জলে এই 
সকল জীবাণু স্বচ্ছন্দে বংশবৃদ্ধি করিয়া বসতি করিতে পারে । 
কিন্তু খরক্রোতা পুণ্যতোয়৷ ভাগীরথীর জলের এমন একটি শক্তি 
আছে যে উহার মধ্যে কোন জীবাণুই অধিক কাল জীবিত 
থাকিতে পারে না । অনেকে দেখিয়া থাকিবেন যে, বসরাবধি 
শঙ্গোদক তুলিয়া রাখিলেও তন্মধ্যে কীট জন্মে না। গঙ্গার 
এইরূপ মাহাজ্য স্মরণ করিয়াই বুঝি স্বয়ং শঙ্করাচাধ্য বলিয়া- 


২২ ব্যাধি ও তাছার প্রতিষেধ। 


ছিলেন_-“তব তট নিকটে যস্য নিবাস, খলু বৈকুণ্টে তস্থ 
নিবাসঃ।৮ শুনিয়াছি দিল্লীশ্বর আকবর শাহ হরিদ্বার হইতে 
গঙ্গোদক আনাইয়া পান করিতেন। কলিকাতা-বাহিনী গঙ্গার 
উপস্থিত যে দুর্দশা! হইয়াছে, এবং যে পরিমাণে কলরাশির 
ও সেপ্টিক্‌ ট্যাঙ্কের ময়লা উহাতে ফেল হয়, তাহাতে তাহার 
আবিল ও আবর্জনাময় জল নির্ভয়ে পান করিতে কিন্তু শঙ্কা 
হয়। 

টাইফয়েড জীবাণু উদ্ভিদ জাতীয়। ইহারা পানীয়জলের 
সহিত মনুষ্যদেহে প্রবিষ্ট হইয়া বংশবৃদ্ধি করত মনুষ্কের প্রীহা, 
যকৃ, অন্ত্র, মুত্রস্থলী প্রভৃতি যন্ত্রে ব্যাপ্ত হয়। রোগীর মূত্র- 
পুরীষের সহিত জীবাণুগুলি আবার নির্গত হইতে থাকে! 
বীজতব্বচ্ঞ পণ্ডিতগণ বলেন এক সুচ্যগ্রবিন্দু মুত্রে সহজ্র সহত্র 
এই জীবাণু দেখিতে পাওয়! যায়। 

রোগীর মল-মুত্রে মক্ষিকা বসিয়া পরে এ মাছি আবার 
খাদাদ্রব্য স্পর্শ করিলে খাদ্যদাতা ও গৃহীতা উভয়েরই এই রোগ 
জন্মিবার সম্তাবনা। 

টাইফয়েড রোগী নিরাময় হইলেও তাহাদের শরীরে স্ুদীর্ঘ 
কাল%* এই রোগ-জীবাণু জীবিত থাকে । তখন তাহারা আশ্রয়- 
দীতার বিশেষ কোন অনিষ্ট করে না বটে কিন্তু এ সকল ব্যক্তি 
যে কোন স্থানে গিয়া পান-ভোজন ও মল-মুত্র ত্যাগ করিলেই 
তত্স্থানে রোগ বিস্তার হইতে পারে । একদা বিলাতের বৃষ্টল 


কহ কেহ বলেন ৫* পধাাশ বৎসন পথধ্যস্তও থাকিতে পারে। 


টাইফয়েড ও কলেরা । ২৩ 


সহরের কোন আতুরাশ্রমে এক শ্বেতাঙ্গী শুশ্রাধাকারিণী নিযুক্ত 
হ'ন। তিনি হাসপাতালে প্রবিষ্ট হইলেই তথাকার লোকদিগের 
মধ্ো টাইফয়েড জ্বর দেখ! দেয়। ইহার কারণ অনুসন্ধানে জান! 
গেল যে এ নবাগত রমণীর দেহে রোগ-জীবাণুর ভাণ্ডার 
রহিয়াছে । এঁ বিষভাগ্ডোদরী কন্ম্চুত হইলে রোগও অদৃশ্য 
হুইল | 

পশুদিগের মধ্যেও টাইফয়েড জ্বর হইয়া থাকে । কোন 
সময়ে জান্মাণী দেশে টাইফয়েড রোগগ্রস্ত গো-বসের মাংস 
ভক্ষণ করিয়। অনেকগুলি লোক এই রোগাক্রান্ত হয় । 

জলবাহন জীবাণুগুলির মধ্যে কলেরা বা ওলাউঠা রোগের 
বাজাণু মন্যতম। ইহারাও উত্ভিদ্র জাতীয়। এই উদ্ভিজ্ভাণু 
গুলির আকার ইংরাজী কম! চিহ্বের ন্যায় বলিয়া ডাক্তাররা! 
উহ্াদিগকে “কমাবেসিলাস” (0077102702010105” ) আখ্যা 
দিয়াছেন। ওলাউঠা রোগীর মল ও বমিত পদার্থে এই উত্ভিজ্জাণু 
যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়। আমরা চন্ষম চক্ষুতে উহাদিগকে 
দেখিতে পাই না বটে, কিন্তু অণুবীক্ষণের সাহাযো যখন দেখি 
এক বিন্দু মলে সহত্্র সহত্র “কমাবেসিলাস” পুচ্ছ পরিচালন 
করিয়৷ বেড়াইতেছে, তখন বিল্ময় বিহ্বল চিত্তে বলিতে ইচ্ছা হয়, 
ধন্য বীজতত্ববিদ্ন মহাত্মীগণ ! ধন্য বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান ! 

অনেকদিন হইতে এই কালাস্তক ব্যাধি--ওলাউঠা__ 
এতদেেশে আধিপত্য করিতেছে । তবে ম্যালেরিয়া জ্বরের ন্যায় 
ইনি সর্বদাই মনুষ্য-সমাজে বাস করেন না। মানবজাতি ঘন ঘন 


২৪ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


ইহার প্রেমালিঙ্গন লাভ করিলে এতদিনে বুঝি সৃষ্টি লোপ 
পাইত। বৎসরের মধ্য দুই দশ দিনের জন্য ইনি বাঙ্গালার 
যে জনপদগুলিতে পরিভ্রমণ করেন, তাহাতেই অনেক সংসার 
ছারখার হইয়। যায়। ১৮১৭ খুষ্টান্দে ইংরাজ রাজন্বের 
প্রারস্তকালে ইনি একবার রাক্ষসীঘূর্তিতে লর্ড হেষ্টিংসের 
সেনাদলের সহিত সাক্ষাৎ করিয়াছিলেন । ইহার “শুভাগমনে” 
সপ্তাহকাল মধ্যে ৭৬৪ জন সৈন্য ও তাহাদের ৮০০০ সহত্রর 
সঙ্গী চিরতরে মর্তধাম পরিত্যাগ করে। বাঙ্গলাদেশের মধ্যে 
যশোহরই ইহার প্রথম লীলাক্ষেত্র । এক্ষণে সমগ্র বঙ্গে কোন 
কোন বুসর লক্ষাধিক নরনারী এই সাংঘাতিক রোগে মৃত্যুমুখে 
পতিত হইয়া থাকে । 

ওলাউঠা রোগের “কমাবেসিলাস্” টাইফয়েড জীবাণুর 
স্যায় সাধারণতঃ জল ও দুগ্ধের সহিত মানব-দ্ে্তে প্রবিষ্ট হয় 
মনুষ্যের পাকস্থলী স্ৃস্থ থাকিলে এই উদ্ভিজ্জীণু অনেক সময় 
বিনষ্ট হইয়া যায়। পাকস্থলীর অশ্নরসের প্রভাব ইহারা সহ্য 
করিতে পারে না। যে কোন কারণে মনুষ্যের স্থাস্থ্যহানি 
ঘটিলে এই উদ্ভিজ্জাণু দেহাভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করিয়া রোগানয়ন 
করে। 

ওলাউঠা রোগীর মললিপ্ত বন্ত্াদি যে পুক্ষরিণীতে ধৌত কর! 
হয়, সেই পুক্করিণীর জল ব্যবহার করিয়া এক এক সময়ে এক 


গউদরাময়। আমাশয়, প্রভৃতি রোগের বীজাণুও বারি সহায়ে মনুষ্যদেহে 
সংক্রামিত হয়। 


টাইফয়েড ও কলেরা । ২৫ 


একটি পল জনশুন্য হইয়া যায়। অনেক সময় এতদ্েশীর় গোপ- 
নন্দনেরা যেখানে সেখানে দুপ্ধপাত্র ধৌত করিয়া বা রও যে 
কোন স্থানের জল মিশ্রিত করিয়া এই সকল রোগ-বীজাণু সং 
করে ও খরিদ্দারগণের মধ্যে রোগ বিস্তারের হেতৃভৃত রি 
থাকে। 

রোগবীঞজ-সম্বলিত জলে হস্ত মুখ প্রক্ষালিত করিলে অথবা 
উহাতে বাসন মাজিলে জলবাসী জীবাণুগণ আমাদের দেহ- 
প্রবিষ্ট হইবার সুযোগ পায়। এই সকল রোগ-জীবাণু 
বহির্জগে ও ভূমধ্যে দীর্ঘকাল জীবিত থাকিতে পারে । কোন 
একটি মজা নদীর সান্গিধ্যে এক সমাধিক্ষেত্র ছিল। এ স্থানে 
অনেক সময় ওলাউঠা রোগীর মৃত দেহও কবর দেওয়া হয়। 
কালক্রমে এ ভূখণ্ড নদীগর্ভে পতিত হইলে জল দুষিত হইয়া 
পড়ে। নদীর তশকুলবর্তী জনগ্রণ এ জল ব্যবহার করিয়। 
ওলাউঠা রোগাক্রান্ত হইয়াছিল। স্থাম্থ্যবিধি মতে এইজন্য 
হিন্দুর দাহ প্রথা! প্রশংসনীয়। আধ্যমনীষিগণ অনেক ভবিষ্যৎ 
চিন্ত। করিয়া এই সকল স্থনিয়ম করিয়া গিয়াছেন। ইংরাজ- 
দিগের মধ্যে এখন অনেকেই দাহ প্রথার পক্ষপাতী । মৃতদেহ 
দাহ করিলে আশ্রয় ও আশ্রিত উভয়ই যুগপৎ তস্মীভূত হইয়া 
যায়। সংক্রামক রোগে মৃত্যু হইলে যদি কবর দিতে হয়, তবে 
চুণের দ্বারা শবদেহ আবৃত করিয়া কবর দেওয়াই স্থৃব্যবস্থা! 

টাইফয়েড ও ওলাউঠা রোগ হইতে আত্মরক্ষা করিতে 
হইলে সকল প্রকার খাদ্যের বিশেষতঃ পানীয় জলের বিশুদ্ধতার 


৫ 


২ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


প্রতি লক্ষ্য রাখাই প্রধান আবশ্যক । আমাদের দেশবাঁসিগণের 
এতদ্বিষয়ে জ্ঞান এত সন্কীর্ণ যে তাহারা যে জল পান 
করে, সেই জলেই আবার রোগীর মল-মুত্র সিক্ত শয্যা বসনা'দি 
ধৌত করিতে ভীত হয়না । তাহারা এই বিষতুল্য জল পান 
করিয়া সবান্ধবে প্রাণত্যাগ করিবে, তথাচ পানীয় জল দিত 
করিতে পশ্চা্পদ নহে। আমাদের শান্ত্রকর্তারা জলের 
প্রয়োজনীয়ত। সম্যক উপলব্ধি করিয়াই বলিয়া গিফ্লাছেন “আপো 
নারায়ণ; স্বয়ম্‌।” হিন্দুশান্ত্রে জলকে দেবতাভ্ভানে অর্চনা 
করিবার কথা বনু স্থানে লিখিত আছে । মহাভারতে উক্ত 
আছে--“উভে মৃত্রপুরীষে তু নাগ্, কুর্য্যাৎ কদাচন”-__অর্থাৎ 
জলে কদাঁচ ঘুত্র পুরীষাদি তাগ করিবে না। আমরা এই সকল 
কথা এখন বাভুলের উক্তি মনে করিয়া মান্য কবি না। ইংরাঁজ 
কবি পোপ যথার্থ বলিয়াছেন-_ | 

“6 11] ০00৮ 98017915 (0019) 59 150 ০ 70৬ ; 
€)0 ৮1501 50105) 100 00001, ৮11] 01010]. 0১ 3০. 

আমাদের দেশের অনেক ধর্মমধবজী ব্রা্ধণ পণ্ডিত অবগাহন 
কালে পরিত্যক্ত কান হস্ততালুতে নিক্ষিপ্ত করিয়া পরে সেই 
হস্ত জলে ধৌত করিয়া ফেলেন। ব্যবহারাজীব যেমন : 
আইনের কুট তর্কের দ্বারা অপরাধীকে নির্দোষ প্রমাণ করিতে 
সচেষ্ট হন, এই সকল ধন্মময় পুরুষ তেমনই শীস্ত্রীনুশীসন 
এতন্তাবে পালন করিরাও অসার তর্কের দ্বারা আপনাদিগকে 
নিষ্পাপ প্রতিপন্ন করেন। উদ্দেশ্যবিহীন হইয়া কাধ্য করিলে 


টাইফয়েড ও কলের]। ২৭ 


কোণ ফলোধয় তয় না। শাস্ত্রে জলকে কেন দেবতা বল! 
হইয়াছে তাহার সত্য তথ্য যে দিন দেশবাসী ভাল করিয়া বুঝিবে, 
সেই দিন হইতে চিত্রগুপ্তের হিসাব নিকাশের তালিকায় 
আসামী--সংখ্যাও অনেক হাস হইয়] পড়িবে। 

ক্রামক রোগের প্রাছুর্ভাবকালে যথাসম্ভব স্বাস্থ্যরক্ষার 
নিয়ম পালন করিয়া শরীর ও মন স্স্থ রাখিতে সচেষ্ট থাকিবে । 
দুশ্চিন্তা, দুস্পাচ্য দ্রব্য আহার, রাত্রি জাগরণ, শীতাতপ 
সেবন, ভয়, অতাধিক পরিশ্রম প্রভৃতি স্থাস্থহানিকর কারণ 
গুলি সর্ববথা পরিহাধ্য। এই সময়ে শুন্যোদরে অধিকক্ষণ 
থাকিতে নাই। পাকস্থলী খাদ্যপুর্ণ খাবিলে অশ্নরস 
নিঃসরণ হইতে থাকে; স্তৃুতরাং তণকালে অল্পসংখাক রোঁগ- 
জীবাণু উদরস্থ হইলেও অস্নরসের প্রভাবে তাহারা গতাস্থ 
হইয়া পড়ে। 

গ্রামে টাইফয়েড বা কলের! রোগ প্রাছুভূতি হইলে যাহাতে 
রোগ-বীজ নিজ নিজ গৃহে প্রবেশ করিতে না পারে তদ্দিষয়ে 
গ্রামবাসিগণ বিশেষ মনোযোগী হইবে । 

যে সকল খাদ্যসামগ্রী না রীধিয়। আহার করা চলে, তাহা 
বাজার হইতে বাড়ীতে আনিবে না। দোকানের প্রস্তত পাণ 
কখনই ব্যবহার করিবে না। অনেক সময় তাম্বুল বিক্রেতা 
তান্ুলের সহিত যে জল ব্যবহার করে তদ্দারাই রোগ-বীজাণু 
আমাদের দেহে সংক্রামিত হয়। 

খাদ্যদ্রব্য মক্ষিকা বসিতে দিবে না। মক্ষিকাগণ নান! 


২৮ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


দরিকৃ্দেশ হইতে কলেরা ও আর আর অনেক রোগের বাঁজাণু 
বহন করিয়া! আনে। 

ধূলিকণার সহিতও এই সকল রোগ-বীজ উড়িয়৷ বেড়ায়। 
অতএব খাদ্যে ধুলিকণার সংস্পর্শ না হয় তদ্বিষয়ে সর্বদাই 
লক্ষ্য রাঁখিবে। 

হস্ত রীতিমত ধৌত না করিয়া খাদ্যদ্রব্য স্পর্শ করিও না। 
দত্তের দ্বারা নখ কাটা বা পুনঃ পুনঃ মুখে হাত দিয়া অঙ্গুলিতে 
থুতু লাগাইয়া পুস্তকের পাতা উল্টান প্রভৃতি কুমত্যাস ত্যাগ 
করিবে। এক সময়ে কলিকাতার কোন এক সরকাৰি 
চিকিৎসালয়ে হঠাৎ কয়েকজন ওলাউঠা রোগে আক্রান্ত হয় । 
কোথা হইতে কি ভাবে এই বাঁজ ই।সপাতালে প্রবেশ করিল 
তাহার অনুসন্ধান করিতে গিয়া তত্রত্য প্রথিতনামা চিকিৎসকগণ 
দেখিলেন ষে এক ভূৃত্যের হস্তে ওলাউঠার উদ্ভিজ্জাণু 
যুক্ত ছিল। অনেক সময় এইরূপ অলক্ষিতভাবে রোগ.বীজ 
দেশীন্তর হইতে রোগ-শুন্য দেশে আসিয়া উপস্থিত হয়। 
একদ! বিহারের পাটনা সরে ওলাউঠ! রোগের অত্যন্ত প্রাদুর্ভাব 
হইয়াছিল। দানাপুরের সেনানিবাসে যাহাতে পাটনার কোন 
দ্রব্য ব। নরনারী প্রবেশ করিতে ন! পারে তশুপক্ষে উচ্চপদস্থ 
কম্মচারিগণ 'এক নিষেধাজ্ঞ। প্রচার করিলেন। একদিন মলিন 
বলনাবৃত জনৈক দরিদ্র ব্যক্তি এ স্থানে ভিক্ষা করিতে আসিলে 
সেনানিবাদের দ্বাররক্ষী তাহার গলদেশে হস্ত প্রদান করিয়া 
তাড়াইয়া দিল। এই ঘটনার পরদিনই সেই রক্ষী সৈন্যের 


টাইফয়েড ও কলের|। ১৯ 


ওলাউঠা রোগ হইয়াছিল। সম্ভবতঃ ভিক্ষুকের মলিন বসনে 
কোথা হইতে কি প্রকারে রোগ-বীজাণু লিপ্ত হয়। পরে এ 
নাজ সৈনিকের হস্তে লাগিয়াই এই অনর্থ ঘটাইয়াছে। 

বাজারের যে কোন স্থানের সোডা, লেমনেড প্রভৃতি পানীয় 
পান করিবে না। উহা বিশ্বস্ত কারখানায় প্রস্তুত হওয়া চাই। 
দূষিত জলে প্রস্তুত সোডা লেমনেড পান করিয়। সংক্রামক রোগ 
হইতে শুনা গিয়াছে । 

আহার্যা সামগ্রা সকল সময়েই গরম গরম ভক্ষণ করিবে । 
লবণ বা অন্য কোন বস্তু মাটাতে রাখিয়া খাইবে না। পানীয় 
জল-পাত্র কখন অনাবুহ রাখিও না। উহার মধ্যে ঘটা, গেলাস 
বা অপর কোন ক্ষুদ্র পাত্র ডুবাইয়া জল তুলিবে না। 

রোগের প্রাহুর্ভাবকালে নিজের রক্ষিত পুম্করিণী বা কূপের 
জল ব্যতীত বাহিরের জল বাবহার করিবে নক: অবিশুদ্ধ 
জলে বাসন মাজিয়া তাহাতে খাদাদ্রব্য রক্ষা করিলেও অনেক 
সময় অলক্ষিতভাবে রোগ-বীজ উদরস্থ হয়। পুক্ষরিণী বা 
কূপের জলের পবিভ্রতা সম্বন্ধে সন্দেহ থাকিলে এ জল রীতিমত 
সিদ্ধ করিয়া ব্যবহার করিতে বাধা নাই। আমরা ইচ্ছা করিলে 
নিজ নিজ পুঙ্গরিণী বা কূপ সংশোধন করিয়া লইতে পারি। 
অবশ্টা এই উপায়ে জল শোধন করা কিছু ব্যয় সাধ্য । একটি 
পরিষ্কত পাত্রে পাঁরমাঙ্গা-নেট-অব.-পটাস্‌ ( 1011)1:00:5,01708111 
06 7০053) গুলিয়া পু্ষরিণী বা কুপের জলে ঢালিয়া দিতে 
হইবে। যতক্ষণ জলের রছ্‌ অল্প বেগুনিয়া বর্ণ না হয় ততক্ষণ 


৩০ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


মল্প অল্প গুলিয়া ঢালিয়া দিবে । জলের রঙ্‌ অল্প বেগুনিয়া 
বর্ণ হইলে আর ধিবার প্রয়োজন নাই। এইরূপে শোধন 
করার পর দুই তিন দিবস এ জল ব্যবহার না করিলেই ভাল 
হয়। যর্দি নিতান্ত আবশ্যক হয় তবে ১২ ঘণ্টা পরে ব্যবহার 
করিতে পার। ইহাতে জল বিস্বাদ হয় না। 

পারমাঙ্গা-নেট্-মব-পটাস্‌ ডাক্তারখানায় পাওয়া যায়। 
ইহা রক্তব্ণ দানাবিশিষ্ট পদার্থ। সাধারণতঃ প্রত্যেক কুপ 
শোধন করিতে এই দ্রব্য অদ্ধ ছটাক হইতে এক ছটাক পধ্যস্ত 
লাগিতে পারে। 

গোয়ালার দুগ্ধ অথবা অপরিচিত জল পান করিতে হইলে 
রীতিমত না ফুটাইয়া কখনই ব্যবহার করিবে না। অনেকে 
মনে করেন, জল নিন্মল, স্বচ্ছ ও স্বাছু হইলেই উহা! নিরাপদে 
পান করা যায়। এ ধারণা সম্পূ্ণ ভ্রমাগরক। টাইফয়েড, 
কলেরা, অতিসার, আমাশয় প্রভাতি রোগের বীজাণু জলের 
সহিত অল্প মিশ্রিত থাকিলে উহার বর্ণের বা স্বাদের কোন 
ব্যতিক্রম হয় না) আমরা এরূপ হতভ্ভান হইয়াছি ঘে প্রত্যহ 
বোঁড়শোপচারে অন্ন ব্যঞ্জন প্রস্তুত করাইভে পারি কিন্তু পানীয় 
জলটুকু ফুটাইয়। লইতে পারি না। ইহার কলও ফলিতেছে। 
আমাদের “অস্ত্রে দন্তে” না দেওয়া সঞ্চিত ধন চিকিৎসকেরা 
লইতেছেন এবং প্রাণগুলি কলের, অতিসার, টাইফয়েডের 
উদর পুর্ণ করিতেছে । যদি এই সকল ব্যাধির গ্রাস হইতে 
মাত্বরক্ষ। করিতে ইচ্ছা থাকে, তবে পানীয় জল ও দুগ্ধ রীতিমত 


টাইফয়েড ও কলেরা ৩১ 


স্থসিদ্ধ করিয়া পান কর। জল ঈষদুষ্খ করিলে জলবাসী 
জীবাণুগণের মৃত্যু হয় না ইহা সর্ববদা মনে রাখিবে। 

বাড়ীতে টাইফয়েড বা কলেরা দেখা দিলে যাহাতে রোগ- 
বিস্তার না হয় তৎপক্ষে গৃহস্থ যত্ববান হইবে। রোগীর 
পরিচর্ধ্যাকারিগণ শ্ীতিমত হস্ত প্রক্ষালন না করিয়া খাদ্য গ্রহণ 
অথবা খাদ্য।দি প্রস্তুত করিবে না। রোগীর মল ও বমিত 
পদার্থাদি দ্বারা কলুষিত শহ্যা বন্দি দগ্ধ অথবা পল্লীর বহুদূরে 
যে স্থানে পুক্করিণী, কপ, নদী ব| পয়ঃপ্রণালী নাই এমত স্থানে 
প্রোথিত করিতে হইবে । বাড়ী ঘর দ্বার সদা সর্বদা পরিষ্কৃত 
পরিচ্ছন্ন রাখিবে। পয়ঃপ্রণালী, পাইখানা প্রভৃতি স্থানগুলি 
প্রতিদিন দুই ভিন বার ফেনাইল দ্বারা ধৌত করিবে। কোন 
স্থানে তরকারীর খোসা, মাছ, মাংস ব। ফেন ইত্যাদি পচিতে 
দিবে না। পানীয় জল ও দুগ্ধ উদ্ভমরূপে স্থসিদ্দ না করিয়া 
কখনই ব্যবহার করিবে না। বাড়ীর পুর্বব সঞ্চিত জল পরিত্যাগ 
করিয়া জলাধারগুলি ফুটন্ত জলে ভিতর বাহির পুন; পুনঃ 
ধৌত করিয়া লইবে। হস্ত মুখ প্রক্ষালনের জন্য যে জল 
আবশ্যক, তাহাও স্ুুসিদ্ধ হওয়া উচিত। পানীয় জলটুকু সিদ 
করিলেই যথেষ্ট, এরূপ ধারণা রাখিও না। অনেক সময় গৃহস্থ 
স্ুসিদ্ধ জল পান করেন বটে কিন্তু ভাতে জল দিবার সময় 
কাচা জল ব্যবহার করিয়া থাকেন। ওলাউঠার প্রাছুর্ভাব- 
কালে এইরূপ অপাঁরচিত জল-সিক্ত পান্ত।ভাত খাঁইয়! রোগা- 
ক্রান্ত হইতে শুনা গিয়াছে। 


৩২ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


ভোজন পাত্রাদি সংস্কৃত করিয়৷ ছুই তিন বার ফুটন্ত জলে 
ধৌত করিয়া লইবে। উহাদিগকে মাটীতে সাঁজাইয়া রাঁখিবে 
না ;--কোন উচ্চ স্থানে তুলিয়! রাখিবে। 

রোগীর ঘরে কোন তক্ষ্য বা পানীয় রক্ষা করা নব! এ ঘরে 
বসিয়া কিছু আহার করা৷ কখনই কর্তব্য নহে । 

বাড়ীর সুস্থ জনগণ রোগীর কক্ষ হইতে অনেক দুরে ধুলি- 
মক্ষিক পরিশৃন্য এক পরিষ্কৃত স্থানে বসিয়া হস্ত উত্তমরূপে 
ধৌত করিয়া তগ্তজল-ধৌত বাসনে স্তুসিদ্ধ অন্নপানীয় গরম 
গাকিতে থাকিতে গ্রহণ করিবে এবং আহারান্তে সিদ্ধ জলে 
আচমন করিবে । এ লময়ে কোন দ্রবাই সিদ্ধ না করিঘ! 
খাইবে না। সকল সামগ্রী উত্তমরূপে ঢাকিয়! রাখিবে। 

মনে কোন প্রকার ভয় আসিতে দিবে না; যাহাতে শরীর- 
মন তুস্থ থাকে তাভাই করিবে । জানিয়া রাখিও-_আম্দের 
দেহে যে বিধি-দরত্ত ব্যাধি প্রতিবেধক শক্তি আছে, শরীর ও 
মন ভগ্ন হইলে সে শক্তিও ক্ষুপ্ন হয়। কাজে কাজেই তখন 
অতি সহজেই রোগ-বীজাণু আমাদিগকে পাঠিত করিয়। 
ফেলে । 

অনেকে কলেরা টাইফয়েড রোগীর পরিচর্ধ্যা করিতে শঙ্ক- 
বোধ করেন। রোগী স্পর্শ করিলেই এই সকল রোগ হয় না। 
ভোজ্য পানীয়ের সহিত রোগ বীজাণু উদরস্থ না হইলে ভয়ের 
কোন কারণ নাই। ভোজ্য পানীয় বীজাণুশুন্য রাখিতে পারিলে, 
পান-ভোজনপাত্র পরিক্কত রাখিলে এবং হস্ত পরিশোধক জলে 


টাইফয়েড ও কলেরা। ৩৩ 


ধৌত করিয়া খাদ্য গ্রহণ করিলে এই সকল রোগীর বমিত 
পদার্থ ও মুত্র-পুরীষ-_যাহার সহিত রোগ-বীজাণু বহির্গত হয়-- 
ঘাঁটিলেও কোন বিপদ্‌ হয় না। | 

কিছুদিন হইতে পণ্ডিত হ্যাফ্কিনের ওলাউঠা নিবারক 
টিকার পরীক্ষা চলিতেছে । উহা যদি সফল হয় তাহা হইলে 
আমরা শীঘ্রই দেশ ভইতে ওলাউঠ! ভীতি দূর করিতে সমর্থ 
ভইন। উক্ত মহাত্বা ওলাউঠ৷ বিষ ক্ষীণ করিয়া লইয়া উদরের 
দক্ষিণ পার্খে অধস্তাচীক রূপে (ভাইপোডাগিক) প্রয়োগ করেন। 
প্রথম বিষ প্রয়োগের পর দেহের উত্তাপ কিছু বুদ্ধি হয়; 
শিরঃপীড়া এবং বিদ্ধ স্থানে অল্প বেদন৷ ও স্ফীতি দৃষ্ট হয়। যষ্ঠ 
দ্বিবসে বিষের অপেক্ষাকৃত উগ্রভর দ্রব দ্বিতীয়বার প্রবিষ্ট করান 
হয়। এ সময়েও শরীরের তাপাধিক্য ও স্থানীয় বেদনা প্রকাশ 
পায়; কিন্তু স্ফীতি দৃষ্ট হয় না। এ বেদনা তিন দিবসের অধিক 
থাকে না। উদরাময় বা কোন প্রকার পরিপাক বিকার উপস্থিত 
না হইয়া অনেকের ২৮ ঘণ্টার মধ্যেই অস্থস্থাস্থা তিরোহিত 
হয়। ১৮৯৯ খুষ্টাব্দে পুরুলিয়া ও স্থলকিন্‌ “কুলি-নিবাসে” 
২৩৮৮ জন শ্রমজীবীকে এই টিকা দেওয়া হয়। পুর্ব পুর্বৰ 
বশুসরাপেক্ষা এই বশুসর তথায় ওলাউঠা রোগের প্রাছুর্ভাৰ অল্পই 
দুষ হইয়াছিল। এক সময়ে কতিপয় পল্লীতে এই রোগের 
প্রানুর্ভাব হইলে ডাক্তার পাউয়েল্‌ অনুসন্ধান করিয়া দেখিয়া- 
চিলেন যে টিকা হয়" নাই এমন ৬৫৪৯ জনের মধ্যে ১৯৮ জন 


ওলাউঠা রোগে পীড়িত হয় এবং ১২৪ জন ভবলীলা সাঙ্গ করে। 
৩ 


৩৪ বাধি ও তাহাক প্রতিষেধ। 


অপর পক্ষে টিক! গ্রহণকারী ৫৭৭৮ এনের মধো কেবলমাত্র 
২৭ জন রোগাক্রান্ত এবং ১৪ জন মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছিল। 
উভয় সম্প্রদায়ের পীড়া ও মৃত্যুর হার সমান হইলে টিকাধারিগণের 
মধ্যে ২৭ জনের পরিবর্তে ১৭৪ জন পীড়িত এবং ১৪ জনের 
পরিবর্ভে ১০৯ জন মুত হইত। এতদ্বারা প্রমাণ হইতেছে যে 
টিকাধারী অপেক্ষ! টিকাবঞ্ভিত জন সাধারণের মধ্যে এই রোগে 
মৃত্যুর হার প্রায় অধ্টগুণ অধিক । ওলাউঠার টিকা প্রচলিত 
হইলে শ্বেত খধি হাফ্কিনের নাম জগদ্বাসীর চিরস্মরণীয় হইয়া 
খাকিবে। 

কোন কোন লব্ধপ্রতিষ্ঠ চিকিৎসক বলেন যে, যে সকল 
লোক তাতম্রখণ্ড নাড়াচাড়া করে বা তাঅখনিনে কাঁধ্য করে 
তাহাদের প্রায় ওলাউঠ। হয় না। তীভাদের মতে শরীরে পুর্ব 
হইতে তাত ধারণ করিলে এই ব্যাধির আক্রমণ হইতে রক্ষা 
পাওয়া যায়। এই কথার কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নাই বটে 
তবে হিন্দু জ্যোতিষ শাস্ত্রানুসারে ইহার স্থমীমাংসা হইতে পারে। 
সূর্যাদি গ্রহগণ বিরুদ্ধ হইলেই আমাদের শরীরে রোগ প্রবিষ্ট 
হয়। কোন্‌ গ্রভ হইতে কোন্‌ ব্যাধির উতপন্তি তাহাও শাস্ত্রে 
নির্দিষ্ট আছে । রবি-_হৃদ্কম্প, শিরঃগীড়া, সদ্দি-গন্্মী, ওলাউঠা, 
চক্ষু ও মুখ রোগকারক গ্রহ। এই ছুষ্ট গ্রহ তুষ্ট থাকিলে মন্ুষ্তের 
এ সকল রোগ ভোগ করিতে হয় না । শাস্ত্র বলিয়াছেন 

“সূধ্যাদি দোষশাস্ত্যে বীরধ্যাণি ভূজেন তাত্র শছৌ চ। 

বিদ্রম কাঞ্চন মুক্তা রজত ত্রিপু লৌহ রাজ পানি” ॥ 


টাইফয়েড ও কলেরা । ৩৫ 


অতএব দেখা যাইতেছে, বাছুমুলে তাত্্ধারণ করিলে সেই 
মানবের প্রতি সুষ্যগ্রহ প্রসন্ন হইয়া থাকেন। কাজে কাজেই 
উপরি উক্ত গ্রহজ ব্যাধিগুলি আর হুইতে পারে না । তাত্রই 
সূ্যের প্রয় সামগ্রী। এই জন্য সূষ্যপৃজায় তা্প্রতিমা ও 
তাত্রালঙ্কার আবশ্যক হয়। পুজান্তে গ্রহ-বিপ্রকে যে সকল 
সামগ্রী দান করিবার বিধি আছে তন্মধ্যেও প্ল্রত হেম তাত্রম্” 
পদের উল্লেখ দেখা যায় । 

অনেকে গ্রহশান্তির কথায় বিশ্বাদ না করিতে পারেন । 
এখনকার দিনে কেহ এ সকল কথা বলিলেও লোকে তাহাকে 
বাতুলালয়ে পাঠাইবার ব্যবস্থা দিয়া থাকেন। তবে ইহা জানিয়া 
রাখিও---আধ্যখধিগণ যে সকল বিধি লিপিবদ্ধ করিয়াছেন 
তন্মধ্যে কোন গুটঢ় সত্য নিশ্চয়ই নিহিত আছে । অনেক স্থানে 
তাহারা প্রকৃত কারণ গোপন করিয়া এক একটি বিষয়ের এক 
একটি বাহ কারণ দ্েখাইয়। গিয়াছেন॥। আজ লোক িজ্ছানা- 
লোকে ভাহাদের প্রদত্ত ব্যবস্থাগুলির রহস্য কিছু কিছু অনুভব 
করিতেছে । আগ্তোপদেশ গ্রহণ করিলে জীবের মঙ্গল ভিন্ন 
অমঙ্গল নাই। 


৩৪ ব্াধি ও তাহাৰ প্রতিষেধ । 


অপর পক্ষে টিক! গ্রহণকারী ৫৭৭৮ এনের মধ্যে কেবলমাত্র 
২৭ জন রোগাক্রান্ত এবং ১৪ জন মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছিল। 
উভয় সম্প্রদায়ের পীড়া ও মৃত্যুর হার সমান হইলে টিকাধারিগণের 
মধ্যে ২৭ জনের পরিবর্তে ১৭৪ জন পীড়িত এবং ১৪ জনের 
পরিবন্তে ১০৯ জন মৃত হইত । এতদ্বারা প্রমাণ হইতেছে যে 
টিকাধারী অপেক্ষা! টিকাবজ্জিত জন সাধারণের মধ্যে এই রোগে 
মৃত্যুর হার প্রায় অব্টগুণ অধিক। ওলাউঠার টিকা প্রচলিত 
হইলে শ্বেত খষি হা।ক্কিনের নাম জগদ্বাসীর চিরস্মরণীয় হইয়া 
থাকিবে । 

কোন কোন লব্বপ্রতিষ্ঠ চিকিৎসক বলেন যে, যে সকল 
লোক তাত্রখণ্ড নাড়াচাড়া করে বা তামখনিতে কাধ্য করে 
তাহাদের প্রায় ওলাউঠা হয় না। তীাভাদের মতে শরীরে পুর্ব 
হইতে তাত ধারণ করিলে এই ব্যাধির আক্রমণ হইতে রক্ষা 
পাওয়া যায়। এই কথার কোন বৈচ্ভানিক প্রমাণ নাই বটে 
তবে হিন্দু জ্যোতিষ শান্ত্রানুসারে ইহার স্ুমীমাংস1 হইতে পারে। 
সূধ্যাদি গ্রহগণ বিরুদ্ধ হইলেই আমাদের শরীরে রোগ প্রবিষ্ট 
হয়। কোন্‌ গ্রহ হইতে কোন্‌ ব্যাধির উৎপত্তি তাহাও শাস্তে 
নির্দিষফ আছে । রবি-_হৃদ্কম্প, শিরঃগীড়া, সদ্দি-গম্স্ী, ওলাউঠা, 
চক্ষু ও মুখ রোগকারক গ্রহ। এই দুষ্ট গ্রহ তষ্ট থাকিলে মনুষ্যের 
এঁ সকল রোগ ভোগ করিতে হয় না। শাস্ত্র বলিয়াছেন-__ 

“দুধ্যাদি দোষশান্ত্যে বীর্য্যাণি ভুজেন তাত্র শত্ৌ চ। 

বিদ্রম কাঞ্চন মুক্তা রজত ত্রিপু' লৌহ রাজ পট্ানি” ॥ 


টাইফয়েড ও কলেরা । ৩৫ 


অতএব দেখা যাইতেছে, বাহুমূলে তাত্ধারণ করিলে সেই 
মানবের প্রতি সূষ্যগ্রহ প্রসন্ন হইয়। থাকেন। কাজে কাজেই 
উপরি উক্ত গ্রহজ ব্যাধিগুলি আর হইতে পারে না। তাত্রই 
ূর্যোর প্রয় সামগ্রী। এই জগ্ঠ ঘূর্ধ্পূজায় তা্জপ্রতিমা ও 
তাম্রালঙ্কার আবশ্বক হয়। পুজান্তে গ্রহ-বিগ্রকে যে সকল 
সামগ্রী দান করিবার বিধি আছে তম্মধ্যেও প্রত হেম তাত্রম” 
পদের উল্লেখ দেখা যায়। 

অনেকে গ্রহশান্তির কথায় বিশ্বাদ না করিতে পারেন। 
এখনকার দিনে কেহ এ সকল কথা বলিলেও লোকে তাহাকে 
বাডুলালয়ে পাঠাইবার ব্যবস্থা দিয়া থাকেন। তবে ইহা জানিয়া 
রাখিও__আধ্যখধিগণ যে সকল বিধি লিপিবদ্ধ করিয়াছেন 
তন্মধ্যে কোন গুঢ সত্য নিশ্চয়ই নিহিত আছে। অনেক স্থানে 
তাহার! প্রকৃত কারণ গোপন করিয়া এক একটি বিষয়ের এক 
একটি বাহ কারণ দেখাইয়া গিয়াছেন। আজ লোক নিজ্ঞানা- 
লোকে ঠাহাদের প্রদত্ত ব্যবস্থাগুলির রহস্য কিছু কিছু অনুতব 
করিতেছে। আপ্তোপদেশ গ্রহণ করিলে জীবের মঙ্গল তিন 
অমঙ্গল নাই। 


প্লেগ বা মহামারী । 


কিছুদিন হইতে আসমুদ্র হিমাচল ভারতের প্রধান প্রধান 
সহরে প্লেগ-রোগের অনুগ্রহ দৃষ্টি পড়িয়াছে। বল বিক্রমে 
এই ব্যাধি ওলাউঠা অপেক্ষা কোন অংশে হীন নহে । অনেকে 
মনে করেন, প্লেগ এতদ্দেশে নবাগত ; কিন্তু সে ধারণ! ভ্রমাত্ক : 
এই রোগ হিন্দুস্থানে পুর্বব পরিচিত। সেকালে লোক ইহাকে 
মহামারী বলিত। পুরাবৃত্ত লেখকগণ বলেন মিসরের কাইরে' 
নগরই ইহার আদিস্থান। এই জনবহুল অস্বাস্থ্যকর সহরে 
উহা উত্পন্ন হইয়া ক্রমে জগঘ্যাপী হইয়া পড়ে। কাইরো 
নগরের রাজপথগুলি তখন অত্যন্ত অপ্রশস্ত ছিল। তথাকার 
অধিবাসিগণও নিতান্ত মলিনভাবে বসতি করিত। নাইল 
নদীর একটি শাখা এই সহরের মধ্য দিয়া প্রবাহিত হয়। 
বশসরের কোন কোন সময়ে এ শাখা-নদীটি প্রায় জলশৃন্ত 
হইয়া গাকিত। তখন নাগরিকগণ গ্রাম্য-জঞ্াল ও গো- 
মেষাদদির মৃতদেহ ইহার গর্ভে নিক্ষিণ্ড করিতে ইতস্ততঃ করিত 
না। এই প্রক্ষিপ্ত আবর্ভনারাশির পুতিগন্ধে দিত্যগুল 
আমোদিত করিলে সহরে প্লেগে আলিয়া দেখা দিত। কিন্ত 
নাইলের জলবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শাখা-নদীটি আবার, খরজোতা 
হইলেই এই সাংঘাতিক ব্যাধি অদৃশ্য হইত। যে সকল 


প্লেগ বা মহামারী । ৩৭ 


'বিগলিত জীবের দেহোৎপঙ্ন হুগন্ধ প্লেগ-রোগকে আহ্বান করে 
বলিয়! প্রাচীন মিসরবাসীদের মনে ধারণা ছিল, সেই সকল 
জীবের মাংস ভক্ষণ করিবার জন্য দেশের লোক সমবেত হইয়। 
শকুনিজাতীয় এক প্রকার পক্ষীর আরাধনা করিত। 

খুষ্ট পূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে এই রোগে এথেন্স নগরে এত 
লোকক্ষয় হইয়াছিল যে মহামাংসভুক্‌ শৃগাল কুক্ধরেও শব-দেহ 
স্পর্শ, করে নাই। চতুর্দশ শতাব্দীতে মহামারী যুরোপ, এসিয়া 
ও আফ্রিক। মহাদেশগুলিকে বিশেষভাবে বিধ্বস্ত করে। 
ইহার আক্রমণে এক য়রোপের ২৫০০০০০০ সন্তান বিনষ্ট হয়। 
১৬৬৫ খৃষ্টাব্দে এই বিষম ব্যাধি যখন উগ্রমুর্তিতে ইংলগ্ডে 
প্রবেশ করে, তখন লগুন সহরের অধিবাসি-সংখ্যার এক 
তৃতীয়াংশ ইহাতে মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছিল । 

প্রাচীন কাল হইতে হিমাপ্রি প্রদেশের অনেক স্থানে প্লেগ 
শমনাগমন করিতেছে । জাহাঙ্গীর বাদশাহের রাজত্বকালে 
১৬১১ হইতে ১৬১৮ খৃষ্টাব্দ পর্য্যস্ত কাশ্মীর, আগ্রা প্রভৃতি 
ভারতের প্রধান প্রধান স্থানে মহামারীর বিশেষ প্রাদুভাৰ 
হইয়া গিয়াছে । তণ্কালে নগরবাসিগণ প্রাণভয়ে ভীত হইয়া 
গৃহাশ্রম পরিত্যাগ পুর্ববক প্রান্তরে পর্ণশালা নিম্মীণ করিয়া 
বসতি করিয়াছিল । ইহার উৎপাতে স্বয়ং দিল্লীশ্বর আগ্রা হইতে 
আহম্মাদাবাদ সহরে পলায়ন করেন; কিন্তু এ স্থানও নিরাপদ 
ছিল না। সম্রাট যখন দেখিলেন তাহার পক্ষে এই নব 
নির্বাচিত শ্থানও নির্বিবিশঙ্ক নহে তখন তিনি অনন্যোপায় হইয়। 


৩৮ ব্যাধি ও তাহার প্রতিযেধ। 


এই দেশকে “বেমারিস্থান” অর্থাৎ রোগ-নিবাস বলিয়া সম্বোধন 
করিয়াছিলেন। এক সময়ে লাহোরে ইহার আক্রমণে এত 
লোকের মৃত্যু হইয়াছিল যে শবদেহের পুতিগন্ধে অবশিষ্ট, 
লোক ঘরের বাহির হইতে পারে নাই। ১৭০৭ খুষ্টাব্ধে 
বারহান্পুরে ইহার প্রকট মূর্তির কথা মনে পড়িলে অদ্যাবধি 
লোকের হৃদ্কম্প উপস্থিত হয়। উহার আগমনে সম্রাট 
বাহাদুর শাহের সেনানিবাস দেখিতে দেখিতে শবনিবাসে 
পরিণত হইয়া পড়ে । একদিকে শিবির-শ্রেণী এবং অপর দিকে 
অসংখ্য সমাধিস্ূপ, এই লোমহ্ষণ দৃশ্য দেখিয়া মনুষ্যমাত্রই 
ভীত, চকিত ও উদ্ভ্রান্ত হইয়া উঠিয়াছিল। এই সময়ে তিন 
ক্রোশ দূরে একটি শবদেহ স্থানান্তরিত করিতে প্রতি বাহককে 
কুড়ি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দিতেও লোকে কাতর হয় নাই । 
১৮১২ হইতে ১৮২১ খুষ্টাব্দ পর্ান্ত গ্লেগ কচ্ছদেশে বিষম 
উৎপাত করে। তশু্কালে যাহাতে এই রোগ দেশান্তরে 
পরিব্যাপ্ত না হয়, সে পক্ষে যত্বের ব্রটি হয় নাই ; কিন্তু কুটিল 
ব্যাধি সকল চেষ্টা যতুকে উপেক্ষা করিয়া সগর্বেন পার্বর্তী 
স্থানসমূহ আক্রমণ করিয়াছিল। ১৮৯৬ খুষ্টীবদে বোম্বাই ও 
১৮৯৮ খৃষ্টাব্দে বাঙ্গালোর সহরে ইহার তাগুবলীলা তদদেশ- 
বাসীর চিরস্মরণীয় হইয়া আছে। ১৮৯৬ হইতে ১৮৯৯ খৃষ্টাব্ড 
পধ্যন্ত তিন বতসরে ইহা দ্বারা সমগ্র ভারতে মোট ৪৩০৫০ ০ 
লোকের সৃতা হয়; কিন্তু তন্মধ্যে ৩৭৬৩০০ জন কেবল বোম্বাই 
প্রদেশবাসী | 


প্লেগ বা মহামারী । ৩৯ 


কয়েক বশুসর পুর্বে যখন গ্রেগরোগ কলিকাত! মহানগরীতে 
নবপ্রবেশ করে তখন এ জনকোলাহল মুখরিত স্থানের কি 
দুর্দশা হইয়াছিল, তাহা কে না ধিদিত আছেন? এই ব্যাধি-শক্রু 
কর্তক রাজধানী আক্রান্ত হইলে বাদশাহ নিজ অসুল্য জীবন 
রক্ষার আগ্রহ জন্য স্য।নান্তরে পলায়ন করিয়াছিলেন । কিন্তু 
বোম্বাই ও কলকাতা--এই ধনজনসৌধপুরী ছুইটি-__যখন 
প্রেগের দৌরাহ্বোযে প্রকম্পিত, তখন কর্তব্যপরায়ণ লর্ড স্তাগু- 
হাষ্টট ও মহামতি সার জন্‌ উডবরণ্‌ প্রভৃতি প্রাদেশিক শাসন- 
কর্ভারা নশ্বর জীবনের মায়া মমন্ঠা পরিহার করি নিভীক হৃদয়ে 
রাজধানীতে উপস্থিত থাকিয়া রোগ দুর কবিধার বিভিত ব্যবস্থা 
ও নাগরিকগণকে অশেষ পান্ত্বনা প্রদান করিচ্চে জ্রুটি করেন 
নাই! এই স্থানেই ইংরাজের মহল । 

এই ব্যাধির নিদান 'নণয়ের জন্য নেক পাল হইতে নানা 
চেফ্টা হইতেছিল ; কিন্তু সে সকল ফলপ্রসূ হয় নাই। ১৮৯৪ 
খুষ্টাব্দে যখন এই দুরন্ত ন্যাধি হংকং নগর আক্রমণ করে, তখন 
জাপানী বৈজ্ঞানিক কিটাসাটো প্রমুখ কয়েক জন পণ্ডিত 
অনেক গবেষণ! দ্বারা স্থির করিলেন যে এক প্রকার জীবাণুই 
এই রোগের কারণ। এ জীবাণুর নাম “বেসিলাস্‌ পেস্টিস্” 
€138.011105 129615 )। 

প্রেগ-জীবাণু কিরূপে এক স্থান হইতে অন্য স্থানে সঞ্চালিত 
হয়, তদ্বিযয়ে চিকিতসকগণের মধ্যে মতভেদ ছিল। কেহ 
কেহ বলিতেন মুষিকই ইহার বাহন। অপর সম্প্রদায় এই 


৪০ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


মতের পরিপন্থী । তীহাদ্দের মতে গণপতি বাহনের সহিত এই 
রোগের সম্বদ্ধ আছে বটে কিন্ত মুষিক 'কর্ভক ইহারা অন্য স্থানে 
'নীত হয় না। 

প্লেগ-জীবাণু ভূগর্ডে বাস করে। মুষিকগণ সর্বপ্রথম 
ইহা দ্বারা আক্রান্ত হইয়া দলে দলে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। 
মুষিকদেহে এক প্রকার রক্ত'পায়ী ক্ষুদ্র মক্ষিকা (1২: 168) 
বসতি করে। প্নেগাক্রান্ত মুষিকের রক্ত পান করিয়া এ 
মক্ষিকাগণ যখন ব্যাধিগ্রস্ত হয়, তখন তাহারা যে মনুষ্যকে দংশন 
করে তাহার প্লেগরোগ হইয়া গাকে। এইরুপে মুষিক-দেভ- 
বাসী ক্ষুদ্র মক্ষিকা বিশেষের দ্বারা প্লেগ-বাজাণু মানবদেহে 
অনুপ্রবিষ্ট হয়। শেষোক্ত মতই অধুনা পণ্ডিতসমাজ কর্ডুক 
গৃহীত হইয়াছেক্চ। | 

পুনা সহরে প্লেগের প্রাহুর্ভাকালে এই বিষয়ের উত্তম 
প্রমাণ পাওয়া গিয়াছিল। যে কয়েকটি গৃ্ভ প্রেগ প্রথম 
প্রবেশ করে, সে গুলি শীম্ই জনশূন্য হইয়া পড়িল। এ 
সকল গৃহবাসী মুষিকগণও ইভপূর্বেব পঞ্চ প্রাপ্ত হইয়াছিল ; 
কিন্তু তাহাতেও প্লেগের পরিব্যাপ্তি নষ্ট হয় নাই। তখন 
চিকিৎসকগণ কারণ অনুসন্ধান করিতে গিয়া দেখিলেন মুষিক- 
দেহবাসী ক্ষুদ্র মক্ষিকা সকল প্রেগ-দুষ্ট স্থানে উড়িয়া 


*কেহ কেহ বলেন ইন্দুর-মক্ষিকাগণ দংশন করিয়া এই রোগের জীবাণু 
নিক্ষেপ করে না। তাহার! দংশনকালে তৎস্থানে মলত্যাগ করে। এ্র মলের 
সহিত জীবাণু নির্গত হয়। 


প্রেগ বা! মহামারী । ৪১ 


বেড়াইতেছে। অপুবীক্ষণ যুস্তরের সাহায্যে তাহাদের ক্ষুত্র 
দেহাত্যন্তরে প্লেগ জীবাণু পরিলক্ষিত হইয়াছিল। 

অতি প্রাচীন কালের লোকেরাও মুষিকের সহিত মহামারীর 
সম্বন্ধ আছে বলিয়া বিশ্বাস করিত । এক সময়ে ইনুদিদিগের 
“ঈশ্বরের সিন্দুক” নামক পুজ্য বস্তু পালেষ্টিনের লোকেরা 
বলপুর্ববক গ্রহণ করিয়াছিল। ইহার অব্যবহিত পরেই 
পালে্িনে প্লেগের প্রাদুর্ভাব হয় । তখন ধন্মযাজক ও মন্ত্রজ্বগণ 
দেশবাসীকে বলিয়াছিলেন__-“ইনুদিদিগের পুজ্য বস্তু ফিরাইয়া 
দাও এবং পাপের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ এ সঙ্গে তাহাদিগকে পঞ্চ 
স্বর্ণ মুষিক ও পঞ্চ হিরগয় অর্ববদ প্রদান কর” 

“ 1205 01052150, [15৩ 59106] 010707905, 200 
৬০ 90100) 11106, 2,0001-0105 109 0176 10017)9615 91 
(116 19105 01 1116 1171115117)05 : 007 0106 0014500 ত2 


01) 9০ ৪11 ৪100 01) 901 10105. 


1. 52270101 ডা]. 


প্লেগ-জীবাণু দেহাত্যস্তরে পচ ছয় দিবস গুপ্তাবস্থায় থাকিয়া 
রোগ আনয়ন করে। ডাক্তার ইয়ার্সিন বলেন, যে কোন 
উপায়ে এই ভীষণ জীবাণু দেহ-প্রবিষ্ট হইলেই মনুষ্যের আর 
নিস্তার নাই। বস্ত্রাদি সংযোগে অথবা ধূলিকণার সহিত এই 
জীবাণু স্থানান্তরে গমন করিতে পারে। পণ্ডিত কিটাসাটো 
পরীক্ষা দ্বার স্থির করিয়াছেন যে, প্রথর রৌদ্র, কার্নবলিক 


৪২ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


লোশনে এবং চুণের জলে এই জীবাণু ক্ষণকাল মধ্যেই পঞ্চত্ব 
প্রাপ্ত হয়। 

লক্ষণ ভেদে এই রোগ চারি ভাগেবিভক্ত; যথা-_ 
বিউবোনিক, নিউমোনিক, সেপ্টিসিমিক ও ইন্টেফ্টাইনাল, 
টাইপ্‌। এই রোগে মৃত্যুর হার শতকরা ৯০ অপেক্ষাও অধিক | 

নিউমোনিক-প্লেগ অত্যন্ত সংক্রামক । রোগীর শ্বাস 
প্রশ্থাস ও শ্রেয়ার সহিত এই রোগ-জীবাএু বহিগত হয়। 
স্থতরাং এই সকল রোগীর পরিচধ্যাকারিগণের বিশেষ সতর্ক 
থাকা উচিত। রণকেশরী নেপোলিয়ন যখন বিরাট বাহিনী 
লইয়া সিরিয় প্রদেশে অভিযান করেন তখন তাহার সেনা- 
দলের মধ্যে অনেকে নিউমোনিক প্ণেগাক্রান্ত ভ্ইয়াছিলেন। 
নিভীক-হৃদয়ে বোনাপা্ট এ সমস্ত গীড়িত সৈন্যকে স্বয়ং 
দেখিতে যাইতেন ; কিন্থু তিনি সকলকে এই উপদেশ দিতেন 
যে এমত দূরে থাকিয়া রোগীর সহিত বাক্যালাপ করিবে যেন 
তাহার পরিত্যক্ত প্রশ্বাস বা শ্রেক্সা তোমার মুখস্পর্শ করিতে 
নাপরে। 

কদন্নভোজন, বাতালোকহীন আঙ্ত্র ও জনাকীর্ণ স্থানে বাস, 
অপরিদ্কত বেশভৃষা, দুর্গন্ধ ভোগ, শীত সেবা প্রভৃতি এই রোগের 
গৌণ কারণ। পণ্ডিতগণ বলেন--« [119 ৪ 0156859 ০01, 
(111), ৪. 01559.56 01 0 2000. ৪. 0156996 01 [১০৮6700.৮ 

যে যারোপ একদিন এই রোগের মাকর ছিল, আজ তথায় 
পেগের প্রবেশাধিকার নাই বলিলেই হয়। বর্তমান কালে: 


প্লেগ বা মহামারা। ৭৩. 


বিজ্ঞানানুমোদিত স্বাস্থ্যোন্নতিকর পথাবলম্বনে যুরোপের জনপদ- 
গুলি রচিত হইয়াছে। তুরস্ক ও রুসিয়ার কোন কোন নগর 
এখনও পূর্বববগু অস্বাস্থ্যকর আছে । এই জন্য এ সকল স্থানে 
প্লেগের গতায়াত আজও অবরুদ্ধ হয় নাই। ১৬৬৬ খুষ্টাব্ে 
লগুন নগরে এক ভীষণ অগ্ন্যৎপাত হইয়াছিল। তৎুকালে 
১৩০০০ সহত্র গৃহ ও ৮৯টি ভজনালয় একবারে ভম্মন্থূপে 
পরিণত হয়। এই দুর্ঘটনার পর স্বাস্থ্যবিধিমতে এ নগর নব- 
নিশ্মিত হইয়াছে । অগ্নিকাণ্ডের পর বসর হইতে আজ পধ্যস্ত 
এই উন্নত সহরে কখন প্লেগ হইতে শুনা যায় নাই । আমাদের 
দেশের প্রধান প্রধান নগরগুলি স্থাস্থাতন্তজ্ঞ বিবুধজনের 
মনোভদ্ত নহে। নাগরিকগণও স্্াস্থ্যরক্ষায় সম্পূর্ণ উদাসীন। 
নিবিড় লোকারণ্য কলিকাতার মধ্যে বড়বাজার প্রভৃতি কতিপয় 
পলী সম্পূর্ণরূপে মনুষ্যবাসের অযোগ্য, গুহস্থের বাড়ীগুলি 
এত ঘন সন্নিবিষ্ট যে তন্মধ্যে বাতালোক প্রবেশের উপায় নাই। 
এক একটি অপ্রশস্ত পথে কখন সূর্ধ্য ব্রণ পতিত হর না; 
তাহারা চিরদিনই অসূষ্ধ্যম্পশ্য রহিয়াছে। জনগহুন বোম্বাই 
সহরেও গলিপথ বিরল নহে। তথায় কোন কোন বাড়ীতে 
আবার সহস্রাধিক লোক নাকি এক সঙ্গে বসতি করে । কাশী, 
এলাহাবাদ, কাণপুর, আগ্রা, দিল্লী, লাহোর প্রভৃতি ভারতীয় 
সহরের মধ্যে নিবাত, নিষ্প্রত স্থানের অপ্রাচুর্য নাই। পশ্চিম- 
দেশীয় ভদ্রলোকদিগের অনেক বাড়ী এমতভাবে প্রস্তুত যে, 
একটিমাত্র দ্বার ভিন্ন গৃহাভ্যন্তরে বায়ু প্রবিষ্ট হইবার ছ্িতীয় 


8৪ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


পন্থা দেখা যায় না। ইহার উপরে নগরের কলকারখানাগুলি 
আবার ধুমোদগীরণ করিয়া বিরত বায়ু "দুষিত করিতেছে ; 
সুতরাং প্লেগ বলিয়া কেন, এই সকল দোষবনুল সহরে সকল 
রোগই অজ্ঞাততবাস করিতে পারে। 

প্লগ সংক্রামক ব্যাধি ; কিন্তু তাহ বলিয়! রোগীকে স্পর্শ 
করিলেই প্লেগ হয় না। সাধারণতঃ ইন্দুর-মক্ষিকার (1২91 
1৩৫ ) দংশন দ্বারাই এই রোগবীজ মানব-দেহে প্রবিষ্ট হয়। 
তবে শরীরে কোন প্রকার ক্ষত থাকিলে প্লেগ-রোগীর গৃহে না 
যাওয়াই সমীচীন । বাড়ীর কাহারও প্লেগ হইলে রোগীকে 
তৎক্ষণাৎ এক পুথক ঘরে রাখা উচিত। শু শীষাকারিগণ হস্ত 
ও পরিধেয় বসনাদি উত্তমরূপে পরিশোধক জলে ধৌত করিয়া 
অন্ন-পানাদি গ্রহণ করিবে । সংক্রামক রোগীর পরিচধ্যাকারী 
যে সকল সাধারণ নিয়ম প্রতিপালন করিতে বাধ্য, ইহাতেও 
সেই সকল নিয়ম অবশ্য প্রতিপাল্য । 

নিউমোনিক-প্নেগাক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ যত কম হয় ততই 
মঙ্গল। এ রোগীর পরিত্যক্ত প্রশ্বাম বা শ্রেম্বা। মুখে লাগিলে 
প্লেগ হওয়া অপস্তব নহে। অবস্থায় কুলাইলে বাড়ীর সুস্থ 
জনগণকে স্থানান্তরে পাঠানই স্তুব্যবস্থা। রোগীর কক্ষে 
যাহাতে যথেষ্ট পরিমাণে বাতালোক প্রবেশ করে, তদ্বিষয়ে 
মনোযোগী হইতে হইবে। প্রেগাক্রান্ত ব্যক্তির কফ, কাল, মূত্র, 
পুরীষাদি মে স্থানে নিক্ষিণ্ত হয়, তৎস্থান অবিলম্বে ফেনাইল 
অথবা কার্ববলিক লোশন দ্বারা ধৌত করিবে । কলের!।-_ 


প্লেগ বা মহামারী । ৪৫. 


টাইফয়েড রোগীর বন্তরাদির ্যায় প্লেগ-রোগীর সমল শধ্যাবসনার্দি 
অবিলম্বে দগ্ধ করা কর্তব্য । ঘরে মধ্যে মধ্যে গন্ধক, অগুরু, 
লোবান প্রভৃতি পুড়াইলে ভাল হয়। গৃহাত্যন্তরস্থ বায়ুতে যে 
সকল রোগ-বীজাণু ভাসমান থাকে, এতদ্দারা সেগুলি বিনষ্ট 
হইতে পারে। 

রোগীর গৃহে অধিক লোক থাকা নিষিদ্ধ। কিন্তু এ স্ুনিয়ম 
আমাদের সমাজের নিকট সর্ব্থা অনাদূত। এ দেশে কাহারও 
কোন পীড়া হইলে রোগীর স্বজন বান্ধব হইতে প্রতিবেশী গ্রাম- 
বাসী. পধ্যন্ত সকলেই দিবানিশি তাহাকে দেখিতে আসিয়' 
গাকেন। এই সময়একুটুন্ব কুটুম্বিনীগণের শ্বরতরজ্গে রোগী-নিবাস 
মুখরিত হইয়া উঠে। লোৌকলোচনে ইহা আপাততঃ মধুময় 
হইলেও জ্ঞান-দৃষ্টিতে ইহা বিষতুল্য । গ্বহজনত1 আদৌ ব্যাধিত- 
জন মনোরপ্রীক নহে। বন্ধুবর্গের উপযুণ্পরি প্রশ্নবাণে জড্গরিত 
হইয়া রোগী বিনিদ্র-নয়নে কাল কাটাইতে বাধ্য হয়। 

দ্বিতীয়তঃ ইহা! দ্বারা স্থানীয় বায়ু অধিকতর দুষিত হইয়! 
পড়ে। অব্যাহত বিশ্রামই রোগাপনোদনের প্ররুষ্ট উপায়।, 
আমর! ভালবাসার খাতিরে সেই সর্বববাদিসম্মত হিতোপদেশ 
অগ্রাহা করিয়া রোগীর রোগবৃদ্ধির হেতুভূত হইয়া থাকি ! 
কোন কোন মায়াবিনী রমণী সঙ্ভান রোগীর সম্মুখেই আবার 
অশ্রু বিসঙ্ন করেন। ইহাতে রোগীর মনে ম্রণ-ত্রাস 
উপস্থিত হইয়া হৃদয়দৌর্ববল্যরূপ যে অভিনব ব্যাধি আনয়ন 
করে তাহা মন্ত্রৌধধির অসাধ্য । “বিষাদে! রোগ বদ্ধকানাং”-__ 


নে ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


ইহাই ঢারকীয় নীতি । রোগবদ্ধক নিষ্ানসমূহ্থের মধ্যে বিষাদই 
(10০61755100 ) শ্রেষ্ঠতম । অনেক সময়ে সমাগত জনসঙ্ঘ 
দ্বারা নানা দিগ্দেশে রোগব্যাপ্তির পথ স্গম হয়। দেশবাসীর 
জানচক্ষুরুন্মেষিত হইলে এই মন্দ প্রথার সহজেই তিরোধান 
হইতে পারে। 

প্লেগরোগীর শবদেহ দাহ করাই প্রশস্ত; যেহেতু কবর 
দিলে রোগ বিস্তারের পথ স্থগম হইতে পারে। ঘে গৃহে রোগা 
বাস করে তাহা পরিশোধক জলে ধৌত করত ঢুণকাম করিয়। 
ব্যবহার করিবে। কীচ। খর হইলে অগ্রিদাতভে সকল আপদ্‌ 
দুর হয়। 

প্লেগাক্রান্ত ব্যক্তি নিরাময় হইলেও মাসাধিক কাল তাহাকে 
স্বস্থ সঙ্গে আসিতে দেওয়া অনুচিত ; পরিচধ্যাকারিগণকেও, 
দশ দিবস পুথক বাঁস করাইলে দেশের ও দশের স্থুমঙ্গল 
হইতে পারে। 

পল্লীর কোন বাড়ীতে প্লেগ হইলে তথায় গতায়াত করা 
অনুচিত। অধিকন্তু সম্ভব হইলে স্থান ত্যাগই প্রশস্ত । এই 
সময়ে স্বাস্থ্যরক্ষার নিয়মগুলি প্রতিপালন করা অতাবশ্যক । 
খাদ্য-পানীয়ের বিশুদ্ধতার প্রতি সর্বদাই খরদৃষ্টি রাখিতে 
হইবে । ভোজ্য সামগ্রীতে মক্ষিকা বসিলে অথবা পীড়িত 
মুষিকের মলসংযুক্ত থাকিলে ভোক্তার "প্লেগ হওয়া আশ্চধ্য 
নহে। প্লেগ-ছুষ্ট স্থান হইতে আনীত ত্রব্যা্দি বাবহার করিবে না। 
ইন্দুর-মক্ষিকাগণ এ সকল সামগ্রী সম্তারের সহিত স্থানান্তরে 


প্লেগ বা মহামারী '. ৪৭ 


নীত হয়। শয্যা বসনাদি প্রত্যহ রৌদ্র্পগ্ত করা ভাল। দুগ্ধ 
ও জল স্থসিদ্ধ না করিয়া কাচ পান করা উচিত নহে। 

রোগের প্রাছুর্ভাবকালে আর্দ্র মৃত্তিকায় শয়ন ও নগ্রপদে 
বিচরণ উভয়ই সম্পূর্ণ অহিতকর | প্লেগ-জীবাণু পদলগ্র হইয়া 
মানব-দেহে অনুপ্রবিষ্ট হইতে পারে। শ্তরাং মোজা ও জুতা 
পরিহিত হইয়া ভ্রমণ করিলে অনেক সময়, প্রাগুভ্ভ ব্যাধির 
আক্রমণ হইতে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। এই রোগ নিল্গতল- 
বাসী অপরিষ্কত লোকদিগের মধ্যে অধিক হইয়া গাকে। 
অতএব অবস্থায় কুলাহইলে দ্বিতল অথবা ত্রিতলে বাস করাই 
সঙ্গত। বাড়ীর প্রত্যেক ঘর যাহাতে খট্খটে ও বাালোকপুর্ণ 
থাকে তদ্বিষয়ে গৃহস্থ মনৌবোগী হইবে। রবিকর-সংস্পষ্ট 
অবাধ-বাতসঞ্চার গৃহে প্লেগের অণুদেহী জীবগণ অত্যন্লকালও 
থাকিতে পারে না। আঁস্তাকুড়, পাইখানা ও পয়ঃ প্রণালী 
প্রভৃতি দুর্গন্ধময় স্থান সকল প্রত্যভ দুইবার ফেনাইল দ্বার ধৌত 
করিবে । মোটকথা, পরিষ্কৃত পরিচ্ছন্ন থাকিলে প্লেগ সহজে 
আক্রমণ কারতে পারে না। 4 01022110655 15 1785]07 ৮__ 
এই নীতিকথা সর্ববদাই মনে রাখা উচিত। নাসগ্রহে বাহাতে 
মুষিককুল আশ্রয় না পায় তদ্িষয়ে সদ সর্বদা লক্ষ্য রাখিতে 
হইবে। শশ্ ভাণ্ডার, চাউলের গুদাম প্রভৃতি যে সকল নিভৃত 
স্থানে মুষিকদল বাস করে, তথায় এই রোগের প্রাছুর্ভাব 
অধিক। ইন্দুর গতায়ুঃ হইলে ৩দ্েহবাী ক্ষুত্র মক্ষিকাগণ 
আশ্রয় অন্বেষণে ইতস্ততঃ দৌড়াদৌড়ি করিতে থাকে এবং যে 


৪৮ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


গৃহে মৃষিকের বাস আছে তথায় গিয়া উপস্থিত হয়: বাড়ীতে 
মৃত ইন্দুর দেখিলে সব্বাগ্রে তদুপরি কিঞ্চিও কেরোসিন তৈল 
ঢালিয়া দিয়া একটি কাষ্টের চিম্টা দ্বারা উহাকে উঠাইবে এবং 
দুরে একস্থানে তৃণাচ্ছাদিত করিয়া এ চিম্টাসহ উহাকে দগ্ধ 
করিয়া ফেলিবে। এই সঙ্গে যষেস্থানে মৃতদেহ পতিত ছিল, 
তৎস্থানও ফেনাইল দ্বারা ধৌত করিতে ভূলিবে না। 

মুষিকগণ দিবালোকে গহবর হইতে বাহির হইয়া ক্রীড়া 
করিতে করিতে পঞ্চত্ব পাইলে বুঝিতে হইবে এ গ্রহে প্লেগ 
প্রবেশ করিয়াছে । এমত ক্ষেত্রে ঝটিতি আশ্রয় ত্যাগ করাই 
প্রশস্ত । এবশ্বিধ দূষিত গৃহ, উষধ-জলে বিশোধিত ও চুণকাম 
করিয়া জনশূগ্য অবস্থায় কিছুকাল উন্মুক্ত রাখিলে পুনর্ববাসোপ- 
যোগী হইতে পারে । 

এই সকল অর্থগর্ভ শাস্ত্রানুশাসন শুনিয়া কেহ কেহ 
ওদা্তব্যঞ্তক সহাস্ত আস্তে বলিয়া থাকেন_-“অদৃষ্টে থাকিলেই 
রোগ হইবে; তাহার জন্য আবার এত পরিশ্রম করিবার 
আবশ্যকতা। কি”? উহাদের মতে মানুষমাত্রই ভাগ্যাধীন ; 
সুতরাং সেই অলঙ্বনীয় ভাগ্যের বিরুদ্ধাচরণ করিতে গিয়! বুথা 
হস্ত পদাদি চালনে ক্লান্ত হওয়! অপেক্ষা গ্রাম সংক্রামক রোগে 
রসাঁতলে যাইলেও নিশ্চেষ্ট অবস্থায় বসিয়া সধূম-কলিকা- 
কিরীটিনী গড়গড়ার সেবা করাই বিধি। এই সকল জ্্ান- 
গর্ববিত পুরুষসিংহের মনোবিকার দূর করিতে পারি. আমার 
এমত শক্তি নাই। তবে ধুলি-মল-পরিশুন্য বাতালোকময় স্বর্গ- 


প্লেগ বা মহামারী ৷ ৪৯ 


তুল্য স্থানের অধিবাসী ম্থপরিচ্ছন্ন শ্বেতাঙ্গদিগের স্থাস্থ্যের 
সহিত, আবজ্ভনারাশি পরিপুর্ণ ছুর্গন্ধময় নরকনিন্দিত স্থানের 
অধিবাসী কৃষ্ণাঙদিগের স্বাস্থ্যের তুলনা করিলে অদৃষ্টবাদীর 
মনের আঁধার ঘুচিতে পারে । 

জনপদধবংসকারী বহুরূপী প্লেগ-রাক্ষসের কবল হইতে মনুষ্য 
দিগকে রক্ষা করিবার জন্য জগতের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিকগণ বন্বিধ 
চেষ্টা করিতেছেন। কোঁন কোন বিজ্ঞ চিকিৎসক বলেন 
পর্ধযাপ্ত তৈল মাখিলে এই রোগাক্রমণের ভয় থাকে না। 
আবার কেহ কেহ ইগ্নেসিয়া নামক বৃক্ষ-বিশেষের বীজ দক্ষিণ 
হস্তে ধারণ করিতে উপদেশ দিয়া থাকেন। আরঙ্মনিয়ানগণ: 
প্লেগের প্রাছুভাবকালে এই কীজ বাহুমূলে ধারণ করিত । কিন্তু 
তাহা। বলিয়া এ সকল কথার উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করা যাইতে 
পারে না। “এপিয়াটিক কোয়াটারলী রিভিউ” নামক পত্রে 
ডাক্তার গামপেল লবণকে এই রোগের প্রতিষেধক বলিয়া 
বর্ণনা করিয়াছেন। উত্তর-পশ্চিম দেশবাসীর মধ্যে অনেক 
অভিজ্ঞ লোক নিম্ব ভোজনের পক্ষপাতী । তীাহারা বলেন 
প্রত্যহ নিন্বপত্র খাইলে প্রেগ হয় না। লবণ ও নিহ্বপত্র উভয়ই 
জীবাণুনাশক, তণুপক্ষে সন্দেহ নাই। আমাদের শরীরে যে 
সকল উপাদান আছে, লবণ তন্মধ্যে অন্যতম । লবণাভাব 
ঘটিলে রক্ত নিকৃষ্টাবস্থা প্রাপ্ত হয়, এবং দেহ রোগপ্রবণ 
হইয়া পড়ে । পরীক্ষা দ্বারা শ্থিরীকৃত হইয়াছে যে ওলাউঠা 


রোগেও লবণ স্থৃফলপ্রদ। গেবিলগ্রীটু চিকিৎসালয়ে কেবল 
৪ 


রর ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


মাত্র লবণমিশ্র দ্বারা ওলাউঠা রোগীর চিকিৎসা করাতে এই 
রোগে মৃত্যুর হার শতকরা ১৪ হইতে দেখা গিয়াছিল। উপরি 
উক্ত নিত্য ব্যবহার্ধ্য সামগ্রী দুইটির গুণাবলী স্মরণ করিলে 
উহাদিগকে প্লেগের প্রতিষেধক বলিয়া বিশ্বাস হয়। সকলেই 
ইচ্ছা করিলে এই অমূল্য ভেষজদ্বয়ের শক্তি পরীক্ষা করিতে 
পারেন। 

কিছুদ্দিন হইল প্লেগনিবারক এক প্রকার টিকা আবিষ্কৃত 
হইয়াছে । যদ্দিও এই টিকার শক্তি মানব-দেহে অধিককাল স্থায়ী 
হয় না, তথাচ ইহা দ্বারা রোগের প্রাছুর্ভাবকালে অনায়াসে 
আত্মরক্ষা কর! যাইতে পারে। 

আমাদের দেশের জনসাধারণ প্রেগের টিকা গ্রহণ করিতে 
ভীত হইয়া থাকেন ; কিন্তু ইহাতে ভয়ের কোন কারণ নাই। 
যেসকল ব্যক্তি প্লেগ-ুষ্ট-স্থানে বসতি করেন, অথবা প্রেগ- 
রোগীর শুশ্বাধা করেন, তীহার। অবিচলিত চিত্তে এই টিকা 
গ্রহণ করিবেন। 

প্রথমতঃ মাংসের কাথে প্লেগ-জীবাণু নিক্ষিপ্ত করিয়া প্রক্রিয়া 
দ্বারা উহাদিগকে নিজীব করা হয়। পরে এ ম্বৃত জীবাণু 
সম্বলিত ক্কাথ লইয়া টিকা! দেওয়া হইয়া! থাকে । এই টিকার 
রোগ-নিবারিণী শক্তি বু পরীক্ষা! দ্বারা প্রমাণিত হইয়াছে । 
১৮৯৭ হইতে ১৯০০ খুষ্টা্ পর্্যস্ত মেজার ব্যানার মান 
(12107 13217176702] 1701, 9. 89001000509] 
91 076 17500 [59620 12100181015) 1391709%- ) 


প্লেগ ব। মহামারী । ৫১ 


টকার কলাফল দেখিয়া মন্তব্য প্রকাশ করিয়াছিলেন যে, উপযুক্ত 
দূময়ে ইহা গ্রহণ করিলে রোগাক্রমণের ভয় ও মৃত্যু সম্ভাবন! 
অপেক্ষাকৃত অনেক কম থাকে । আশা করি, বহুদর্শী ডাক্তার 
ব্ানার মানের কথায় বিশ্বাস করিয়া সকলেই এই নির্দোষ 
টকার প্রতি শ্রদ্ধাবান্‌ হইবেন। 


যন্বনা । 


ংক্রামক ব্যাধিসমূহের মধ্যে যন্সনা অন্যতম । রোগস্রেন্ঠ 
বলিয়া ইহা রাজযন্ষনা উপাধি পাইয়াছে। কথিত আছে, 
দক্ষরাজের অভিশাপে চন্দ্রই প্রথমে বন্মারোগে আক্রান্ত 
হইয়াছিলেন। দেব চিকিতসক ধন্বন্তরির উপদেশানুসারে রোগ- 
শান্তির জন্য নিশাপতি দিবা যামিনী অঙ্কে এক শশক ধারণ 
করিয়া থাকিতেন। এই জন্যই চন্দ্রের আর একটি নাম 
শশাঙ্ক । কোন্‌ সময়ে এই রোগ মনুষ্য সমাজে প্রথম প্রবেশ 
করে তাহা নির্ণয় কর! দুঃসাধ্য ৷ 

মহাভারতীয় যুগে প্রমোদা-জন-মনোহারী ভূপতি বিচিত্রবীধ্য 
মহিষী যুগলের সহিত নিরন্তর প্রমত্ত থাকিয়। যৌবনারস্তেই 
বন্ষমা। রোগে প্রাণত্যাগ করেন। খ্বট, জম্মাইবার তিন চারি শত 
বৎসর পুর্বে্বে পাশ্চাত্য দেশবাসী পণ্ডিত হিপক্রিটিস্‌ তদীয় 
পুস্তকে এই রোগের বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন। আধ্যদিগের 
স্বপ্রাচীন চরক গ্রন্থেও ইহার রিশদ বিবরণ বিবৃত আছে । 
বর্তমান কালে প্রতিবসর জগতে যত লোকের মৃত্যু হয় তাহার 
সপ্তম অথবা অষ্টমাংশ-_-এই যন্ষনা রোগেই মরিয়! থাকে । 
কিন্তু পুর্ববকালে পুণ্যভূমি আধ্যাবর্তে ইহার আধিপত্য অল্লই 
দুষ্ট হইত। এখন আমাদের ভাগ্যদোষেই বল, অথবা কন্ম- 


যক্ষা । ৫৩ 


দোষেই বল অনেক বাল-কিশোর-যুবা অনুদিন ইহার কবলে 
পড়িয়া মরণের পথে অগ্রসর হইতেছে । ইহার কারণ কি? 
এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকে হয়ত স্থান্থ্যহানির সমুদয় কারণ 
দেশের জল বায়ুর স্বন্ধে চাপাইয়া নিশ্চিস্ত হইবেন। কিন্তু 
আমি তাহাদের সহিত সমমতাবলম্বী হইতে পারি না। 
মামাদের পুর্বব পুরুষগণ আহার বিহারাদির স্ুবিধান দ্বারা স্বাস্থা- 
রক্ষা করিয়া শতাতীতজীবী হইয়া! গিয়াছেন। আমরা সেই 
সকল মহাত্ব'র পদাস্কান্ুসরণে উদাসীন হইয়া! অকালে কালাগ্নিতে 
জীবনকে আহুতি প্রদান করিতেছি । বদিও বর্তমান সময়ে 
এতদ্দেশীয় জলবায়ু আমাদের স্থান্য্যের পক্ষে অনুকূল নহে, 
ভথাপি আমর! যে স্বখাত সলিলে ডুবিয়া' মরিতেছি তাহ 
অস্বীকার করিবার উপায় নাই। আমাদের পিতৃ পিতামহগণ 
ঝন্ষমুহূর্তে গাত্রোখান করিতেন, কায়িক পরিশ্রম করিতেন এবং 
ব্রহ্মচর্ধাব্রত পালন করিতেন। আমরা এ সকল কিছুই করি না। 
মামর1! বেল! ছয় দণ্ড পধ্যন্ত শয্যায় পড়িয়া থাকি, ছুই পদ 
ইাটিতে হইলে ট্রাম গাড়ীর জন্য এক ঘণ্থী অপেক্ষা করি এবং 
আহার বিহার সম্বন্ধে কোন নিয়মাধীন থাকিতে চাহি না। 
হুর্ভোজন, ছুরালাপ, ছুরালম্য ও ইন্দ্রিয়ভোগবাসনাই এখন 
আমাদের নিত্যকন্ম হইয়াছে। 
শান্তর বলিতেছেন-_ 
“যুক্তাহারো যুক্তনিদ্রো মিতবাড মিতমৈথুনঃ 
স্বচ্ছোনভ্রঃ শুচির্দক্ষে। যুক্তঃ স্যাৎ সর্ববকন্ধস্তু” ॥ 


৫৫ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


আমরা এই সকল অনুশাসন প্রলাপোক্তি মনে করিয়া মান্ত 
করি না। হিন্দুশান্ত্রে তিথি নক্ষত্রানুসারে খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ 
বর্জনের বিধি নিষেধ আছে। সেই অসাধারণ ধীশক্তিসম্পন্ন 
মহ্তাপুরুষগণের চিন্তাপ্রসূত সকল তত্বই আজ এদেশবাসীর 
নিকট উপেক্ষণীয়। আমাদের কিসে কি হইতেছে কেমন 
করিয়। বলিব। 

ক্ষয়কাস বীজাণু-ঘটিত ব্যাধি। ফুস্ফুসই এই রোগের 
শান্তিধাম ; সুতরাং শরীরের মপরাপর যন্ত্র অপেক্ষা প্রাগুক্ত 
যন্তটি উহাদের দ্বারা অধিক আক্রান্ত হইয়া থাকে । রসগ্রন্থি, 
স্বরযন্ত্র, মেরুদণ্ড অন্ত্র প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন শারীর-যন্ত্রেও ক্ষয়রোগ 
₹ইতে পারে। পাকস্থলী ও মাংসপেশীসমূহ কচিৎ এই রোগে 
আত্রান্ত হয়। এ সকল স্থানের ক্ষয়রোগ প্রতিষেধক শস্তি 

পেক্ষাকৃত অধিক । 

পৃথিবীর সকল স্থানেই যন্মমারোগের আধিপত্য আছে । 
হবে বুরোপ ও আমেরিকা! প্রভৃতি সভ্যতালোকদীপ্ত মহাদেশে 
ইহার যথেষ্ট প্রাহুর্ভাব । অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর 
মধ্যস্থিত দ্বীপসমূহে পুর্বেব এই রোগ ছিল না। অধুন1 তদে'শ: 
বাসিগণ যুরোগীয়দিগের সহিত সাহচধ্য করিয়া রোগ-পশর: 
স্বদেশে আমদানি করিয়াছে । যে সকল অসভ্য জাতি সভ্যতার 
বাঞুয়ায় পড়িয়া বিপন হয় নাই, তাহাদের প্রতি যন্নার অনুগ্রহ- 
দষ্টি অদ্যাপি অনেক কম আছে। একদ! জীবতত্ববিদ্‌ পণ্ডিত 
মেচ্নিকফ কোন্‌ দেশে বন্ষনা রোগের প্রাদুর্ভাব কি প্রকার তাহ' 


যল্মা ৷ ৫৫ 


নিরূপণ করিতে গিয়া দেখিয়াছিলেন যে, যে সকল জাতি সভ্য- 
দেশের যত উপকণ্টে বসতি করে তাহাদের মধ্যে এই কাল 
বাধির আধিপত্য তত অধিক । পরক্ত্র ষাহাঁদের দেশে অদ্যাবধি 
সভ্যতালোক প্রবেশ করে নাই তাহাদের দেহ যন্ষ্মাবীজের 
পক্ষে অনুর্ববর ক্ষেত্র। ক্যাস্পিয়ন্‌ সমুদ্রকৃলবর্তী পললীসমূহের 
অধিবাসী অসভা কাল্মুখ (1১9177010) জাতির মধ্যে যন্গনা- 
রোগ হইতে দেখা যায় না। তবে যে সকল কাল্মুখ 
কন্মোপলক্ষে স্থুমভ্য দেশে আসিয়া বদতি করে, তাহাদের মধ্যে 
এই রোগের অপ্রাচ্ধ্য নাই। পুর্বেবে মেদিরা দেশেও মন্মনা- 
রোগ চিল না। এখন অনেক ক্ষয়রোগী দেশান্তর হইতে বায়ু 
পরিবর্্নের জন্য এই স্বাস্থ্যকর স্থানে গিয়। বাস করায় সংস্পর্শ 
দোষে মেদ্দিরাবালীর মধ্যেও বন্মনারোগ প্রকাশ পাইতেছে। 
ভূতলবামী অপেক্ষা উত্তঙ্গ শৈলবাসিগণের ক্ষয়কাস অল্পই হইয়! 
থাকে । ইহার কারণ। সমতল স্থানস্থিত-ব্যক্তি অপেক্ষা! তাহাদের 
সর্ববদাই গভীর শ্বাসগ্রহণ করিতে হয়; স্তুতরাং পুনঃ পুনঃ 
গভীর শ্বাসগ্রহণে শ্বাসযন্ত্রের গঠন সুদৃঢ় হইয়া উহাদের 
যান্ত্রিক-রোগ প্রবণত। বিনষ্ট হইয়া যায়। আমাদের নিত্যকন্ষম 
সন্ধা আহ্িকের মধ্যে যে প্রাণায়ামের বিধি আছে তদ্দারাও 
ফুস্ফুসদ্ধয় পরিপুষ্ট ও বলীয়ান্‌ হইতে পারে। কিন্তু আমরা 
সভ্যতার উচ্চস্তরে আসীন হইয়া! অনেকদিন হইতে ত্রিসন্ধ্যা 
বর্জিত হইয়াছি। যে দুই দশজন অদ্যাবধি দয়া করিয়া এই 
যোগিজন কাম্য অনুষ্ঠানটি রক্ষা করিতেছেন, তীহারাও সাংসারিক 


৫৬ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


গ্রালা-মালায় প্রপীড়িত হইয়া অশান্তমনে নাসিকায় হস্তপ্রদান 
পূর্বক একবার মন্ত্র কয়েকটি উচ্চারণ করেন মাত্র। অধুনা 
বাঙ্গালাদেশের কত শত লোক প্রতি বশুসর এক যন্গমা-রোগেই 
অকালে মহাপ্রয়াণ করিতেছে । যে দেশে ব্রাহ্গমুহুত্তে 
গাত্রোখান করিয়া বহিঃশৌচ সমাপনান্তে দেবোদেশ্যে পুষ্পচয়ন 
করিয়া বেড়াইবার বাবস্থা রহিয়াছে-_যে দেশে ত্রিসন্ধা। 
প্রাণায়াম করিলে মানসিক, বাচিক ও কায়িক পাপ সকল 
বিনষ্ট হয় বলিয়া লোকের বিশ্বাস--যে দেশে দিবানিদ্রা 
মহাপাপ বলিয়া গণনীয়--যে দেশে মহাজনের খণ করিরাও 
রত ভোজন করিবার উপদেশ দিয়াছেন-স্্যে দেশে ব্রল্গচর্ধা 
ব্রতানুষ্ঠানে সিদ্ধিলাভ করিয়! দার পরিগ্রহ করিবার বিধি আছে, 
সে দেশের লোক আয়ুক্সান না হইবার কোন কারণ নাই। 
তথায় যন্ষা-রোগের এতাদৃশ প্রভাব থাকা অনুচিত। 

অতি প্রাচীনকালের জ্ঞানবৃদ্ধ বৈদ্যগণ যক্ষা'কে সংক্রামক 
ব্যাধি বলিয়া স্বীকার করিতেন। আয়ুর্ধ্বেদে উক্ত আছে,_ 

“জুরঃ কুষ্ঠঞ্চ শোষশ্চ নেত্রাভিষ্যন্দিরেব চ 
৬. ৬ % সংক্রামন্তি নরানরং” | 

এই রোগের কারণ নির্ণয়ের জন্য পুরাকালে পাশ্চাত্যদেশে অনেক 
চেষ্টা হইয়াছে। সেল্সাস্‌, গ্যালেন্‌, বেলি প্রভৃতি সে কালের 
বিদ্জ্জন সমাজের মুখপাত্রগণ ইহার সম্বন্ধে অনেক আলোচনা 
করিয়া গিয়াছেন। ১৮৬৫ খুষ্টাব্ধে ভেলিমেন্‌ নামক জনৈক 
ফরাসী চিকিৎসক যন্ষমা-রোগীর পরিত্যক্ত কাস শশকদেহে 


যঙ্ষম।। ৫৭ 


পিচক।রি দ্বারা প্রবিষ্ট করান। ইহার ফলে এ সকল প্প্রাণী 
অত্যল্নকাল মধ্যে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। কিন্তু যন্মনা-রোগীর 
কাসে এমন কি বিধ-পদার্থ আছে, যাহা অন্য জীবের দেহে 
প্রবিষ্ট হইলে রোগানয়ন করিতে পারে, সে সত্য তথ্য তণুকালে 
কেহই আবিক্ষার করিতে পারেন নাই। এই ঘটনার কিছুকাল 
পরে ১৮৮২ খৃষ্টাব্দে মহাত্মা কক্‌ অনেক পরীক্ষা দ্বারা স্থির 
করিলেন যে এক প্রকার উদ্ভিজ্জাগুই এই রোগের নিদান। 
এই উদ্ভিজ্জাণুগুলির আকার দৈর্ঘ্যে ০১৮ ইঞ্চি এবং প্রস্থে 
০৪$ন ইঞ্চি । ইহাদের কোন প্রকার বর্ণ বৈচিত্র বা গতি শক্তি 
নাই। প্রক্রিরা দ্বারা ইহাদিগকে রপ্রিত করিতে না পারিলে 
অণুবীক্ষণের সাহায্যে আমর! উহাদিগকে নয়নগোচর করিতে 
পারি না। এই বীজাণুর দৈহিক আবরণ এক প্রকার তৈলাক্ত 
পদার্থ দ্বারা নিশ্রিত। ভেষজাদি সহজে এই বীজাণুর দেহপ্রবিষ্ট 
হইভে পারে না। স্ৃতরাং উহার্দিগকে বিনাশ কর! কৃচ্ছ,সাধ্য। 

বহির্জগতে যন্সনার উদ্ভিজ্জাণু অনেককাল জীবিত থাকে । 
রোগীর শু্ক শ্রেম্বার মধ্যে ইহাদিগকে ছুই মাসেরও অধিক- 
কাল জীবিত থাকিতে দেখা গিয়াছে। জলে ও ভূগর্ভে ইহার! 
দীর্ঘকাল সজীব থাকে । এই অণুদেতী উদ্তিজ্জনিচয়ের শরীর 
এতাদৃশ ক্লেশসহনশীল যে বরফের মধ্যে রাখিয়া দিলেও 
ইহারা সহজে গতায়ুঃ হয় না। 

ক্ষয়কাসের বীজাণুর নাম “বেসিলাস্‌ টিউবার কিউলোসিস্‌। 
€13901]195 00610019515 )1 এ বীঁজাণু ফুস্ফুস মধ্যে 


৫৮ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


প্রবিষ্ট হইয়৷ স্থানীয় উত্তেজনা উপস্থিত করে। পরে উত্তেজিত 
স্থানে গুটিকা বা “টিউবারকল্‌” জন্মিয়া থাকে । যক্ষ্যারোগের 
যে সকল লক্ষণ আছে, এই গুটিকার উৎপত্তিই তন্মধ্যে 
শ্রেষ্ঠতম । -যে সময় বীজাণুতন্ব মানবের জ্ঞানাতীত ছিল তখন 
এই গুটিকা দেখিয়াই যক্ষম-রোগ নির্ববাচিত হইত। ভিষক্ত্রেষ্ঠ 
ডাক্তার পিল্ভিয়াস্‌ সর্ববপ্রথমে এই গুটিকোতুপত্তির কথা 
জগদ্বাসীর জ্ঞানগোচর করিয়াছিলেন । 

মানব ব্যতীত অন্য জীবেরও যন্গনারোগ হইয়া থাকে । 
মানুষের মন্ত্রে বে ক্ষয়রোগ জন্মে, যন্গনা-পীড়িত গবাদির মাংস- 
ভক্ষণ ব৷ ছুপ্ধপানই তাহার কারণ। 

পাকযন্ত্রের বাধিসমুহের বীজ যেমন মল ও বমিত 
পদার্থাদির সহিত নির্গত হয়, এই অসাধা ব্যাধির বীজ ও তেমনই 
রোগীর শ্রেক্সার সহিত নির্গত হইয়! থাকে । যে কলে রোগীর 
কফ কাসাদি নিক্ষিণ্ত হয় অথবা কফ কানাদি রক্ষা করিবার 
আধার ধৌত করা হয়, সেই জল পান করিয়া মনুষ্য এই 
রোগাক্রান্ত হইতে পারে। ধক্ষা-রোগীর পরিত্যক্ত শ্র্রেশ্ব! 
শুষ্ক হইয়া! ধুলিকণার সহিত মিশ্রিত থাকে এবং সচরাচর এই 
বিষাক্ত ধুলিকণ নিশ্বাসের সহিত দেহপ্রবিষ্ট হইয়াই রোগানয়ন 
করে্। টেপিনিয়র নামক জনৈক অনুসন্ধায়ী এক জময়ে 

* সদ্দি, কাসি, ইন্ফুয়েঞ্জা, হুপিংকফ্‌ প্রভৃতি রোগের বীজাণুও ধূলিকণার 


সহিত 'মিশিয়া বাযুত্বারা আমাদের দেহমধ্যে চাপিত হয়। আজকাল এদেশে 
ইনাধুযেঞ্জী মহীমারীরূপে প্রকাশ পাইতেছে। রোগীর মুখ ও নাসিকা নিংস্তনত 


বক্ষ | ৫৯. 


কতকগুলি কুকুরকে একটি গৃহে আবদ্ধ করিয়া তন্মধ্যে ক্ষয়- 
কাসগ্রস্ত ব্যক্তির শ্রে্সা কোন উপায়ে সুন্মমাকারে নিক্ষেপ 
করিয়াছিলেন। কিছুদিন পরে তিনি দেখিলেন, গৃহ মধ্যস্থিত 
কয়েকটি কুকুর যন্মমা-রোগে আক্রান্ত হইয়াছে। কেহ কেহ 
বলেন, ক্ষত সংযোগেও এই বীজাণু মানবদেহে অনুপ্রবিষ্ট 
গইতে পারে; কিন্তু এরূপ ঘটন! বিরল। তবে হস্তে ক্ষত 
থাকিলে যন্মারোগীর মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ না করাই সমীচীন। 
অভিজ্ঞতা দ্বারা স্থিরীকৃত হইয়াছে যে যন্মমারোগীর সহিত 
একত্র বাস বা ভোজন করিলে এই রোগ আক্রমণ করিতে পারে । 
রোগীর পরিত্যক্ত প্রশ্বাস পার্খচরের নিশ্বাস সহযোগে দেহ প্রবিষ্ট 
হইয়া রোগানয়ন করিতে সমর্থ। 

মেচ্নিকফ্‌, মারফন্‌ প্রভৃতি অধাপকগণ বলেন, যে সকল 
ব্যক্তি কোন এক প্রকার সহজসাধ্য ক্ষয়রোগ ভোগ করিয়! 
নিরাময় হইয়াছেন তীহার। কখন যন্মম! রোগাক্রান্ত হইবেন না। 
মেচ্নিকফের প্রথমা পত্রী যন্ষমা'রোগে প্রাণত্যাগ করেন। 


শ্রাবের সহিত এই রোগের বীজাণু বহিগত হইয়। সুস্থ বাক্কির গলা বা নাসিকার 
মধ্যে প্রবেশ করে। ইন্ক.য়েপ্তার প্রাদ্‌র্ভাবকালে নিম্নলিখিত উপদেশ গুলি 
প্রতিপালন করিলে প্রায়ই রোগাক্রমণের ভয় থাকে না। (১) জববদা মুক্ত 
বামুতে থাকা । (২) জনতাপূর্ণ স্থানে ন/ যাওয়া; (৩) গরম কাপত 
পরিধান করা; (8) মধ্যে মধ্যে কুইনাইন সেবন করা ; (৫) কমালে 
ইউকেলিপ্টাস্‌ অয়েল ব্যবহার কর'। (৬) কুড়ি আউন্স জলেচা 
চামচের এক চামচ লবণ মিশাইয়া সেই জলে কুল্তি করা ও মধ্যে মধ্যে 
নাস লওয়া। 


৬৪ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ।, 


মেচ্নিকফৃ এ রোগগ্রন্তা স্ত্রীর সহিত বাস করিয়াও চিরদিন 
সুস্থ ছিলেন। ইহার কারণ জিজ্ঞানস্থু ব্যক্তিগণকে তিনি বলিতেন 
ধে বাল্যজীবনে তীহার গণ্মাল! রোগ ছিল ; এ রসগ্রন্থির ক্ষয় 
রোগই ভবিষ্যতে তাঁহার শরীরে টিকার কার্য করিয়াছে । 

ক্ষয়কাসগ্রস্ত পিতামাতার সন্তান প্রায়ই পৈতৃক সম্পত্তির 
সহিত তাহাদের রোগটিও উত্তরাধিকারিম্বত্বে প্রাপ্ত হইয়া 
থাকেন। কটন্‌ নামক একজন শ্ুবিখ্যাত চিকিৎসক এক 
সহত্ম যন্ষমা-রোগীর ইতিবৃত্ত সংগ্রহ করিয়! দেখিয়াছিলেন মে 
তন্মধ্যে ৩৬৭ জন পিতৃ পিতামহ হইতে রোগ অর্জন করিয়াছে। 
আধুনিক চিকিৎসকগণের মধ্যে কেহ কেহ যক্ষমাকে বংশগত 
ব্যাধি বলিয়৷ স্বীকার করেন না । তাহারা বলেন সন্তান জন্ম- 
কাল হইতে এই রোগবীজ বহন করে না; তবে সাধারণ 
লোক অপেক্ষা এ বংশজ ব্যক্তিগণের এই রোগ প্রবণতা 
অধিক থাকে । যন্মনা-বীজ দেহপ্রবিষ্ট হইলে স্বভাবজ ব্যাধি 
নিবারিণী শক্তি দ্বারা মনুষ্যগণ তাহাদিগকে বিনষ্ট করিয়া 
ফেলে। কিন্তু ক্ষযরোগীর বংশধরগণের দেহে এই ব্যাধির 
প্রতিষেধক শক্তি থাকে না বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। মোঁট 
কথা, “রামেণ বা রাবণেন বা” বক্ষম।-রোগীর সন্তান সম্ভৃতির 
জীবনের ভাবিফল উভয় প্রকারেই সমান। এই জন্য কন্যা 
পুত্রের বিবাহ দিবার কালে বংশপরিচয় জিজ্ঞাপার সঙ্গে সঙ্গে 
তদ্বংশে কাহার যন্মনা-রোগ হইয়াছিল কি না তাহা অনুসন্ধান 
করা অত্যাবশ্যক । 


ক্স | ৬১ 


অত্যধিক পরিশ্রম, শক্তির অতিরিক্ত বল প্রয়োগ, 
অনুপযুক্ত আহার, রাত্রিজাগরণ, অবৈধ ইন্দ্রিয় সেবা, মদ্যপান, 
আর্রভূমিতে বাস, দুষিত বায়ু সেবন, পুনঃ পুনঃ সন্তান প্রসব 
প্রভৃতি বক্গমা'রোগের গৌণ কারণ। যে সকল ব্যক্তি কয়লার 
খনি, তুলা বা পাটের আড়তে কাধ্য করে তাহাদের এই রোগ 
হইবার অধিক সম্ভাবনা থাকে । পল্লীবাসী অপেক্ষা নগর- 
বাসীদিগের মধ্যে ইহার প্রভাব সমধিক । ফলত্ঃ যে কোন 
কারণে শরীরের অনুলোম বা প্রতিলোম ক্ষয় হইতে আরম 
হইলে শীঘ্রই তদ্দেহে বক্ষ্ারোগ-প্রবণতা আসিয়৷ পড়ে। 
এতদ্দেশীয় যুবকগণ অবিষৃষ্যকারিতার বশবর্তী হইয়া অনেক সময় 
শারীরিক অত্যাচারের বিনিময়ে এই রোগ ক্রয় করিয়া থাকে । 

এই কাল-ব্যাধির আক্রমণ হইতে আত্মরক্ষা করিতে হইলে 
মনীষী প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি সকল মান্য করা একান্ত আবশ্যক! 
প্রত্যুষে গাত্রোর্খান ও নিশ্ল বায়ু সেবন এই রোগের প্রতিষেধক । 

অরুণোদয়ের পুর্বে শরীর আবৃত করত কিছুকাল মুক্ত 
বায়ুতে ক্ষিপ্রপদে পরিভ্রমণ করিলে শারীর-যন্ত্রগুলি সুদৃঢ় হয়। 
জগতে যে সকল লোক দীর্ঘায়ু; হইয়াছেন, তাহারা সকলেই 
প্রত্যুষে গাত্রোখান করিতেন। & 1219 6০ 0০৫, 62119 
(0 1156 [08165 2. 7721) 11621019, ৮৮681017% 800 ৯150৮-- 
ইহা অমূল্য উপদেশ। বিচারপতি মান্সফিল্ডের ধন্মাধিকরণে 
যে সকল বৃদ্ধ ব্যক্তি উপস্থিত হইতেন, তিনি তাহাদের নিকট 
অনুসন্ধান করিয়া জানিতে পারিয়াছিলেন যে প্রাতরুথানই 


প্তই ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ । 


তাহাদের দীর্ঘজীবন লাভের অন্যতম কারণ । খাহাদের ফুস্ফুস 
স্বভাবতঃ ছূর্ববল তাহারা ধূলি-মল পরিশূন্ত কোন এক বায়ুপুণ 
স্থানে দাড়াইয়া প্রত্যহ কিছুক্ষণ শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ করিবেন । 
এই প্রক্রিয়ার পরিমিত অনুশীলন করিলে এ যন্ত্র শীপঘ্বই সবল 
হইয়া উঠে; অপিচ ইহা দ্বারা চিত্ত প্রফুল্ল হয়। 

ফুসফুসের বায়াম অভ্যাস করিবার সময় মনকে চিন্তাশৃন্য 
রাখা উচিত। তখন মনে এই ধারণা করিতে হইবে যে, 
প্রতি শ্বাসগ্রহণে বায়ু হইতে জীবনীশক্তি গ্রহণ করিতেছি । 
ইচ্ছাবৃত্তি স্বাস্থ্যলাভের প্রকৃষ্ট উপায়। “আমি বৃদ্ধ হইয়া 
পড়িলাম”--এই চিন্তা সতত মনোমধ্যে উদিত হইলে শীঘ্রই 
বার্ধক্য আসিয়া উপস্থিত হয়। “আমার যৌবনোচিত শক্তি 
অক্ষু্ আছে”_-এই ধারণা সদ সর্ববদা মনে রাখিতে পারিলে 
যৌবন দীর্ঘস্থায়ী হইতে পারে। 

হিন্দুর পুর্ববপুরুষাচরিত প্রাণায়াম ক্রিয়াও ফুস্ফুসের 
আয়তন বৃদ্ধির পক্ষে উৎকৃষ্ট । সদ্গুরুর উপদেশানুসারে 
এই নিত্যকর্ম্মটি প্রতিদিন অনুষ্ঠান করিলে, দেহস্থ সঙ্জীবনী- 
শক্তি বৃদ্ধি হয়। এইরূপ ক্ষমতাপন্ন শরীরে রোগবীজ প্রায়শঃ 
অঙ্কুরিত হইতে পারে ন। 

অবৈধ ইন্দ্রিয় সেবীর মধ্যে যক্ষমা-রোগের প্রাদুর্ভীব 
অধিক। শাস্জ্র বলিতেছেন--“মরণং বিন্দুপাতেন জীবনং বিন্দু 
ধারণা” । শরীরে শুক্র ধাতু অবিকৃত থাকিলে চিত্তপ্রসাদ 
আসিয়া উপস্থিত হয়; দেহে দিব্যজ্যোতিঃ প্রকাশ পায়। এই 


যল্। ৷ ৬৩ 


জ্যোতির সম্মুখীন হইলে সকল জীবাণু ভন্মীভূত হইয়া যায়। 
সান্ডিক আহার, সদ্গ্রন্থ পাঠ, সাধুসঙগ ও সর্বদা ভগবচ্চিন্তা 
করিয়া সংযতেক্দ্রিয় হইতে অভ্যাস করিলে আমরা অনেক 
রোগের হস্ত হইতে নিক্কতিলাভ করিতে পারি। 

খণ করিয়ীও দ্বুত ভোজন করিবে, কিন্তু তাহা বলিয়া 
বাজারের দুষিত ঘ্বত ভোজনে অপকার ভিন্ন উপকার নাই। 
আমরা নির্ববদ্ধতাবশতঃ একান্ত অসার বিলাসিতায় অযথা 
অর্থব্যয় করিয়। থাকি; কিন্তু অনেক সময় আদ্যধন্্ শরীর 
রক্ষায় কপর্দক ব্যয়েও কুন্ঠিত হই। ইহা দ্বারা আমাদের 
লাভের গুড় যে পিপীলিকাঁয় খাইতেছে, তাহ! একবারও চিস্তা 
করি না। “থ্বুতং আরুঃ-_পবিত্র গবা ঘ্বৃতই শ্রেষ্ঠ রসায়ন। 
এই হৃদ্য সামগ্রী আজ' দুর্লভ হইয়াছে বটে কিন্তু বাবুগিরির 
পরিচ্ছদ সার্ট, কোট রুমাল প্রভৃতির ব্যয় সংক্ষেপ করিয়া! 
তদর্থে পয়স্কিনী গাভী পুধিলে এ অভাব এখনও দূর হইতে পারে। 
গাতীর স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখা উচিত। পুর্ববকালে 
গৃহস্থগণ নিজ হত্তে গো-সেঝা করিতেন । প্রায় প্রতি গ্রামে 
গোন্চর মাঠ ছিল। গ্রাভীনকল মাঠে নব নব তৃণ ভোজন 
করিয়া, দৌড়াদৌড়ি করিয়া হৃষ্ট, পুষ্ট ও বলিষ্ঠ থাকিত। 
অধুনা আমরা গাভীকে অর্ধাশনে এক অন্ধকুপ গৃহে দিবারাত্র 
আবদ্ধ রাখিয়া গো-হত্যার পাতকী হইতেছি। গাভীর দুঃখ 
দেখিবার আমাদের অবদর নাই । .এদিকে আমাদের বিলাসিনী 
গুহলন্মীরাও ভ্রমক্রমে কখন গোশালার ত্রিসীমায় পদার্পণ 


৪ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


করেন না। সুতরাং গৃহপালিত গাভীগুলির স্বাস্থ্যহানি 
অবশ্যস্তাবী। পীড়িত গাভীর ছুগ্ধপান হেতু দেশে ক্ষয় ও যকু 
রোগের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি হইতেছে । এ অবস্থার প্রতিকার 
না করিলে আমাদের কোন ক্রমেই মঙ্গল নাই । 

অতি কটু, অতি অগ্ন, অতি তীক্ষ, অদ্ধপক্, বিরসতাপ্রাপ্ত, 
পর্য্যষিত, পুতিগন্ধযুক্ত রাজস ও তামস আহার যথাসম্ভব বর্জন 
করিবে । পশুমাংস শ্থুপরীক্ষিত ও সুসিদ্ধ না হইলে আহার 
করা উচিত নহে। ছুগ্ধ রীতিমত না ফুটাইয়া পান কর: 
অবিধি। মদ্য, গাঁজ' প্রভৃতি মাদক দ্বা বিষব পরিতাজ্য। 

কাল মাহাত্ম্য আজকাল বালকদিগের মধ্যেও চুরুট্‌, 
সিগারেট ও বিড়ি খাইবার ধূম পড়িয়া গিয়াছে । ধুমপানজনিত 
প্রদাহ থাকিলে ফক্ষ্াবীজাণু সহজেই তথায় বংশবৃদ্ধি করিতে 
পারে। হুকায় তামাক খাইলে অপেক্ষাকৃত কম অপকার হয় 
বটে কিন্তু অনেক সময় অজ্ভাতকুলশীল-ব)ক্তি-চুম্ঘিত হুকায় 
মুখস্পর্শ করিয়া অনেকে রোগাক্রান্ত হইয়৷ পড়ে। 

যক্ষযা"রোগীর কাস সংস্থিত বীজাণু বায়ুতাড়িত হইয়া উড়িতে 
থাকে; সুতরাং রোগীর গৃহে সর্বদা গতায়াত করা উচিত 
নহে। রোগীকে পৃথক এক বাতালোকপূর্ণ ঘরে রাখিবার 
ব্যবস্থা করিবে। গৃহে মধ্যে মধ্যে গন্ধক পুড়াইলে বায়ুস্থ রোগ- 
বীজাণ বিনষ্ট হইতে পারে। রোগীর দেহ উষ্ণ বন্ত্র দ্বারা 
আবৃত করিয়া গৃহের বায়ুপথগুলি উন্মুক্ত রাখিবে। এই রোগ- 
গ্রস্ত মাতা শিশুকে স্তন্যপান করাইবেন না । 


যঙ্। ৷ ৬৫ 


রোগীকে ঘত্র তত্র কাস ফেলিতে দেওয়া অনুচিত। কোন 
একটি মুন্তিক পাত্রে পরিশোধক জল রাখিয়া তন্মধ্যে কফ, 
কাসাদি নিক্ষেপ করাই স্বাবস্থা। পরে এ সকল বিষাক্ত 
শ্রেম্মা আধারসহ ভূঁগর্ডে প্রোথিত করিলে রোগবিস্তারের, ভয় 
দূর হয়। 

স্ৃত রোগীর শব্যা বসনাদি দগ্ধ করিয়া ফেলা কর্তব্য । 
যঙ্গনা-রোগগ্রস্ত ব্যক্তির সহিত একত্র ভোজন, একত্র শয়ন বা 
একত্র বসিয়া মঅধিকক্ষণ কথোপকথন করা বিধেয় নছে। 
এমন কি সম্ভব হইলে ক্ষয়রোগীর সহিত এক ভবনে বাস না 
করিলেই ভাল হয়। আমার জনৈক আত্মায় উত্তর-পশ্চিম 
দেশে সরকারী ডাক্তার ছিলেন৷ তাহার বংশধর মধ্যে কাহারও 
যন্মারোগ ছিল না। তিনি হঠা এই রোতো আক্রান্ত হইয়া 
নল্লকাল মধ্যে মৃত্যুমুখে পতিত হ'ন। তাহার শুশ্রাধাকারী 
পিতা, মাতা, ও অন্ুজদ্বয় এই খল রোগে একে একে তাহার 
অনুগমন করিয়াছিলেন 

স্বস্থদেহী রোগীর উচ্ছিষ্ট খাদ্য গ্রহণ করিবে না । যন্ষনা- 
রোগীর ভোজন-পাত্রাদিও কার্ববলিক লোশনে এবং ফুটন্ত জলে 
স্থসংস্কৃত ন। করিয়া ব্যবহার করা নিষিদ্ধ । যন্মনা-বীজাণু- মিশ্রিত 
পূলিকণ' উড়িয়া খাদ্যের সহিত প্রবিষ্ট হইলে রোগ হওয়া 
অপন্তব নহে। অতএব বাড়ীর অন্যান্য জনগণ খাদ্য দ্রব্যের 
বিশুদ্ধতার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখিবে। মক্ষিক! দারা সকল 


রোগ-বীজাণু স্থানান্তরে নীত হইতে পারে। সুতরাং ভোজ্য 
৫ 


নু ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


সামগ্রীতে যাহাতে মক্ষিকা বসিতে না পারে তদ্বিষয়ে মনোযোগী 
হওয়! আবশ্যক । রোগীর পরিচব্যাকারিগণ হস্ত ও পরিধেয় 
বদন উত্তমরূপে পরিশোধক জলে ধৌত করিয়া খাদ্য গ্রহণ 
করিবে । 

যে গ্ুহে যক্ষমা-রোগীর মৃত হয় তাহা ফেনাইল অথব! 
কার্ববলিক লোশন দ্বারা উত্তমরূপে ধৌত করিয়া চুণকাম 
করিলে নিঃশক্ক বাসোপযোগী হইতে পারে। কোন ভাড়াটিয়া 
বাড়ীতে প্রবেশ করিবার পুর্বেব সেই বাড়ী এবন্িধভাবে সংস্কৃত 
করিয়া লওয়া সকলেরই অবশ্য কর্তব্য । 

যন্গমা-রোগগ্রস্ত পিতামাতার সন্ভানের দার পরিগ্রহ করা 
কোন ক্রমে সঙ্গত ,নহে। তাহারা আবাল্য ব্রহ্ষচর্ধ্য অনুষ্ঠান 
করিয়া পবিত্রভাবে কালযাপন করিবে । গব্যগ্বুত, কড়ুলিভার 
তৈল প্রভৃতি ন্েহ দ্রব্য নিত্য ব্যনভার করিবে । দিবসের 
অধিকাংশ ভাগ বাহিরে উন্মুক্ত স্থানে 'মবস্থান করিবে। 
অবস্থায় কুলাইলে জনাকীর্ণ স্থান ত্যাগ করিয়া! সমুদ্রকূলে অথবা 
নাতিশীতোষ্ পার্বত্য প্রদেশে বাস করাই স্ুবাবস্থ।। এই 
সকল লোকের পক্ষে দুই পাঁচ বসর স্থনিয়মে থাকাই যথেষ্ট 
নহে। রোগবীজ সময় ওস্তযোগ পাইলেই পরিপুষ্ট হইয়া 
থাকে । মনে রাখিবে-- 

“দেবে বর্ষত্যপি যথা! ভূমৌ বীজানি কানিচিৎ। 
শরদি প্রতিরোহন্তি, তথা ব্যাধি সমুচ্ছ.যাঃ” ॥ 


ডিপ্থিরিয়।। 


গ্রীকৃভাষাঁয় ঞডিপ্থেরা” শব্দের অর্থ আবরণ । এই 
রোগে গলার মধ্যে এক প্রকার পদ্দা পড়ে। এই জন্য 
ডাক্তাররা ইহাকে ডিপ্থিরিয়া নামে অভিহিত করিয়াছেন । 
এই ব্যাধির জন্মস্থান ও সময় নির্ণয় করা এখন সহজসাধা 
নহে। তবে প্রাচীন ভিষক্দিগের গ্রন্থে দেখা যায় যে, ষোড়শ, 
সপ্তদশ ও অফ্টাদশ শতাব্দীতে ইহা পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে 
আবিভূত হইয়াছিল। ১৮১৮ খুষ্টাব্দে ফরাপীদেশে ইহ! 
একবার জনপদব্যাপকরূপে প্রকাশ পায়। এই সমযে ইংলগ 
ও ক্ষটলগু দেশের মধ্যেও ইহার আগমনের কথা শুনা গয়াছে। 
কিন্তু ত্কালে ইংরাজ বৈদ্যগণ এই রোগের প্রভান সম্যক 
উপলব্ধি করিতে পারেন নাই । ১৮৫৫ খুষ্টাব্দের জানুয়াবি মাসে 
বলোন্‌ নামক স্থানে ডিপ্থিরিয়া বদন ব্যাদান করিয়া লোক 
গ্রাস করিতে আরম্ভ করিলে প্রতিভাশালী বিজ্ঞানবিদ্গণের 
চন্ত ইহার প্রতি প্রথম আকৃষ্ট হইয়াছিল । পুরাকালে 
মনীবিগণের মধ্যে কেহ কেহ এই রোগকে স্কালেট জ্বরের 
রূপান্তর (9081]0. 19৮61 দ1111001. 0707001075 ) বলিয়া 
মনে করিতেন। কিন্তু পরবন্তী যুগে গবেষণা দ্বারা সে ধারণ! 
সম্পূর্ণ ভ্রম বিজুম্তিত বলিয়৷ স্থিরীকৃত হইয়।ছে। 


৩৮ বাধি ও তাহার প্রতিষেধ ! 


ভিপ্থিরিয়া জীবাণু-ঘটিত ব্যাধি। এই রোগের জীবাণু 
দেখিতে ঈষণ বক্র অথবা সরল রেখার ন্যায় ; কিন্তু উহাদের দুই 
মুখ গোলাকার। র্লেভস্‌ ও লিওফার নামক দুইজন বৈচ্দ্রানিক 
সর্ববপ্রথমে এই বীজাণু আবিষ্কত করেন। এ ছুই মহাতআর 
নাম চিরস্মরণীয় রাখিবার জন্য ডাক্তাররা অদ্যাবধি ডিপ্থিরিয়' 
রোগের জীবাণুকে “£ 1150১710610 702.011]05৮ বলিয়' 
সম্বোধন করিয় থাকেন। 

যে ভাবে এই অণুদেহিগণ মানবদেহে রোগানয়ন করে তাহ 
বিশ্দরূপে বর্ণনা করিয়া ফরাসীদেশবাসী ধীমান ইয়ারসিন ও 
ইংলগুবাসী সুন্সমদর্শী সিডনি মার্টন্‌ মহোদয়দয় বিদভ্জন 
সমাঁজের ধন্যবাদার্ত হইয়া রহিয়াছেন। 

সাধারণতঃ গলনলী ও নাসিকার মধ্যেই এই রোগ জন্মিয় 
থাকে। বাহিরের প্রদাহযুক্ত স্থানেও ইহা! জন্মিতে পারে । 
১৮৬৬ খৃষ্টাব্দে বিলাতের পেক্হাম সহরে এব গৃহস্থের কতিপয় 
শিশুসন্তানের ডিপ্থিরিয়া রোগ হয়। শিশুদিগের মাতা প্রথম 
হইতেই তাহাদের পরিচর্যা করিয়াছিলেন; কিন্তু নিজে 
রোগাক্রান্ত হন নাই। সন্তানগণ রোগমুক্ত হইলে একদিন 
মাতা মনে করিলেন, তাহার পক্রন্কাইটিস্” রোগ জন্মিয়াছে। 
রোগশাস্তির জন্য তিনি চিকিত্সকের পরামর্শ গ্রহণ না করিয়াই 
নিজে বক্ষোদেশে এক বুহ ব্রিষ্টার প্রদান করেন। কয়েক 
দরিবল পরে বিষ্টারের ক্ষত মধ্যে ডিপ্থিরিয়ার পার্দা পড়িতে দেখ 
গিয়াছিল। 


“ড়প্থিরিয়]। ৬৯ 


ডিপ্থিরিয়/-বীজাণু অনেকগুলি মিলিত হইয়া! একস্থানে 
অবস্থান করে। উহারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বায়ু দ্বারা পরিবাহিত 
হইয়া রোগীর গলদেশে প্রবিষ্ট হয় এবং তথায় দলপুষ্ট হইতে 
থাকে । উহাদের গাত্রনি£স্ত রস হইতেই এই সাংঘাতিক রোগ 
উৎপন্ন হয়। 

এই সকল জীবাণু সম্পূর্ণ সুস্থ ব্যক্তিকে প্রায়শঃ আক্রমণ 
করিতে পারে না। যে কোন কারণে মুখ গলনলী বা নাসিকা- 
মধ্যস্থ মিউকাস্বিল্লি অন্তুস্থ হইলে জীবাণুগণ তথায় আশ্রয় 
গ্রহণ করিবার স্থযোগ পায় । রোগীর গলমধ্যে ষে পদ্দা পড়ে 
শন্মধ্যেই উহারা বাস করে। এ পর্দার নিন্স্তরে অথবা রক্ত 
নধ্যে উহাদের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয় না। 

এই রোগ প্রথমে স্ানিকরূপে প্রকাশ পায়। পরে 
জীবাণুর গাত্ররস শোধিত হইয়া রোগীর রক্ত পুষ্ট হইলে একে 
একে সার্ববাঙ্গিক লক্ষণ প্রকাশ পাইতে থাকে । 

 [১9100-1)109)1010718-98011195 ”" নামে এই জাতীয় 
মার এক প্রকার জীবাণু আছে। উহারা অনেক জময়ে 
স্বস্থ মনুষ্যের মুখাভ্যন্তরে বসতি করে; অথচ আশ্রয় 
দাতার কোন অনিষ্ট করে না। কোন একটি সমুদ্রকুলব্তী 
স্বাস্থ্যকর স্থানে ৫৯ জন ছাত্রের মুখ পরীক্ষা করিয়া ২৬ জনের 
মুখ মধ্যে এই জীবাণু পাওয়।: গিয়াছিল। এ স্থানে বহুকাল 
হইতে কাহার কখন ডিপ্থিরিয়া রোগ হয় নাই। 

গলক্ষত রোগে ক্ষত মধ্যেও এই “ 752000-1)111711)6712- 


ণঞ ব্যাঁধ ও তাহার প্রতিষেধ। 


7011145 ৮ বর্তমান থাকে । ইহার! ডিপৃথিরিয়া-জীবাণুর হ্যায় 
শক্তিশালী নহে। তবে কোন কোন বিজ্ঞ চিকিৎসক বলেন 
যে কোন কারণে মনুষ্কের স্বাস্থ্যহানি ঘটিলে এবং গলমধ্যে 
ক্ষতাদি প্রকাশ পাইলে এই জাতীয় জীবাণুগুলি বলবান্‌ 
হইয়া ডিপ্থিরিয়া রোগ আনিতে পারে। কিন্তু এ মত 
সর্ববসন্মতিক্রমে গৃহীত হয় নাই। 

ডিপ্থিরিয়া সংক্রামক ব্যাধি। গলক্ষতঃ মুখ ও গলনলীর 
অস্বাস্থ্যকর অবস্থা, টনসিলের বিবুদ্ধি, দন্ত-মাড়ির স্সীতি, 
নাসিকার পুরাতন সদ্দি প্রভৃতি ইহার উদ্দীপক কারণ । বসন্ত 
ও শ্রকালে এই রোগ অধিক হয়। ছুই বশুসর হইতে ছয় 
বসর বয়স্ক শিশুদিগের এই ব্যাধি বড়ই মারাম্বক। ইহ 
নিকট ভদ্র পুরুষ বিচার নাই । দুগ্ধ, বায়ু ও সাঞজিডিকেল 
অস্ত্রাদি সংযোগে এই রোগের জীবাণু সাধারণতঃ গলমধে; 
প্রবিষ্ট হয়। রোগীর প্রশ্বাস গ্রহণ করিলেও রোগ হওয়া 
অসম্ভব নহে। 

ডিপ্থিরিয়া-বীজ শরীরে প্রবিষ্ট হইলে ২ হইতে ৭ দিনের 
মধ্যে রোগ প্রকাশ পাইয়া থাকে । কোন দ্রব্য গলাধঃকরণ 
করিতে কষ্টবোধ, গলমধ্যে প্রদাহ ও তসঙ্গে ভ্বর এই রোগের 
প্রথম লক্ষণ। তাহার পর পীড়িত স্থানে পর্দা পড়ে। প্রদাহ- 
যুক্ত স্থানে এক বা বহু পর্দা যুগপৎ উৎপন্ন হইয়া পার্বতী 
স্থান সকল আবৃত করিয়া ফেলে । এই পর্দ৷ উঠিয়া যাইলে 
নিন্গে ক্ষত দৃষ্ট হয়। এ ক্ষত হইতে অল্প অল্প রক্তআব 


ডিপ্থিরিয়া । ৭১ 


হইতে থাকে । কোন কোন স্থানে পর্দা একবার উঠিয়া গিয়! 
আবার নৃতন পর্দা পড়ে। 

রোগ মুৃতাবাপন্ন হইলে চতুর্থ অথবা পঞ্চম দিনে পর্দা 
উঠিয়া যায় এবং আর নূতন পর্দা প্রস্তুত হয় না। এ সঙ্গে 
অন্যান্য লক্ষণ তিরোভিত হইয়া ৯১০ দিনের মধ্যেই রোগী 
আলোগা। লাত করে। 

পাড়া কঠিন ভাব ধারণ করিলে উপরি উক্ত পর্দা প্রসারিত 

হইতে থাকে । অহ্যাধিক শ্বাসকষ্ট, প্রবল জ্বর ও গলার 
নন্ত্রণায় রোগী অস্তির তইয়! পড়ে। সামান্য তরল পদার্থও 
গলাধুকরণ রা শক্তি থাকে না। গলার উভয় পার্থের 
“লিম্দেটিন গ্রাণ্ড” সকল সঙ্গে সঙ্গে স্ফীত ও বেদনাযুক্ত ভয়। 
এতদ্বাতীত অপরাপর মারাম্বক লক্ষণ উপস্থিত হইয়া শ্াত্বই 
রোগীর জীবন নষ্ট করে। 

এই রোগের আর এক লক্ষণ__পক্ষাঘাত। এ পক্ষাঘাত 
গলমধ্যে আরদ্ধ হয়। রোগীর স্বর অনুনাসিক হইয়া যায়। 
কোন কোন ক্ষেত্রে রোগারন্তের অল্পদিন পরেই এই উপদ্রব 
উপস্থিত হয় । কিন্তু সচরাচর দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় সপ্তাহের 
পুর্বেব উহ। প্রকাশ পায় »া। 

পক্ষাঘাত প্রকাশিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর হস্তপদ 
অবশ হইতে থাকে। হদ্পিণ্ডের মাংসপেশী পক্ষাঘাত গ্রস্ত 
হওয়ায় নাড়ী ছুর্ববল, মৃদু ও ক্ষণবিলোগী হইয়া পড়ে ; ক্রমে 
হৃদ্ক্রিয়। বিলুপ্ত হইয়া! হঠাৎ রোগীর মৃত্যু হয়। ডাক্তার 


ণ২ ব্যাধি ৪ তাহার প্রততিষেধ। 


রজার বলেন ৩৪ জন রোগীর মধো অন্ততঃ একজনের এই 
পক্ষাঘাত প্রকাশ পাইতে দেখ! যায়। 

১৮৬০ খুন্টব্দে পারিসের কোন হাসপাতালে ২১০ জন 
ডিপ্থিরিয়াগ্রস্ত বালকবালিক1 প্রবিষ্ট হয়। উহাদের মধ্যে 
৩১ জনের পক্ষাঘাতের শ্লক্ষণ প্রকাশ পাহয়াছিল। কিন্ত্বু এই 
লক্ষণ প্রকাশ পাইবার নিদ্দিষ্ট কালের মধ্যে অনেক রোগীকে 
স্থানান্তরিত কর! হয়। সকল রোগী একত্র বাস করিলে 
বোধ হয় পক্ষাঘ। হগ্রস্তের সংখ্যা আরও বুদ্ধি হইত । 

বাড়ীতে কাহারও ডিপ্থিরিয়া হইলে,.বালকবালিকাদিগকে 
ততক্ষণাত স্থানান্তরে পাঠাইয়া দিবে; নিতান্ত অন্বিধা হইলে 
রোগীর ঘর হইতে তাহাদিগকে দুরে রাখিবে। প্রত্যহ কোন 
একটি জীবাণুনাশক জলে বাড়ীর সুস্থ জনগণকে তিন চারিবার 
কুলি করিতে দিবে্। রোগার গুহ প্রশস্ত ও বাতালোকপুর্ণ 
হওয়া আবশ্যক । গৃহে বাহাতে সুষ্যকিরণ প্রবিষ্ট হয়, তাহার 
স্থব্যস্থা করিবে। ডাক্তার রুকুস ও ইয়ারসিন বলেন_- 
ডিপ্থিরিয়া-জীবাণু রবিতাপ আদৌ সহা করিতে পারে না। 

রোগীর কফ, কাস ও নাসিকা-নিঃস্থত সঙ্দির সহিত এই 
রোগের জীবাণু বহির্গত হইয়া শয্যা, বসন ও নিকটস্থ তৈজস- 
পত্রে লিপ্ত থাকে ; সুতরাং রোগীর গুহে অনাবশ্যক দ্রব্য কখনই 
রাখিতে নাই। পুস্তক, খেলন৷ প্রভৃতি যে সকল দ্রব্য পুড়াইয়া 


গকার্বলিক এলিড « গ্রেণ, গরম জল ৫ আউন্স মিশ্রিত করিয়! কুলি কর! 
ভাল। নিম্বত্বক্‌ সিদ্ধজলেও কুল্পি করা যাইতে পারে । 


ডিপ্থিরিয়] | ৭৩ 


ফেলা যাইবে না, এমন সামগ্রী রোগীকে বাবহার করিতে দিবে 
না। রোগীর কফ, কাস, সদ্দি প্রভৃতি ফেলিবার জন্য একটি 
নির্দিষ্ট পাত্র রাখিবে। এ পাত্রে পরিশোধক জল রাখা 
আবশ্যক। এক এক খণ্ড কাগজে কফ, কাস নিক্ষেপ করিয়া 
তাহা মধো মধ্যে পুড়াইয়া ফেলিলেই সর্ববাংশে ভাল হয়। যে 
দ্রব্য দ্বারা রোগীর গলমধ্যে ধধ প্রযুক্ত হইবে তাহাও 
তৎক্ষণাৎ দগ্ধ করিবে। 

রোগীর গৃহে বিড়াল, কুকুর প্রভৃতির প্রবেশ নিষিদ্ধ । 
বিড়ালের গলার মধ্যে ডিপ্থিরিয়ার ন্তায় এক প্রকার সংক্রামক 
রোগ জন্মে। এ সকল রোগগ্রস্ত বিড়ীল শিশুদিগের মধো 
এই রোগবিস্তারের সাহায্য করে। 

বাড়ীতে বাহাতে মক্ষিকার উপদ্রব না হয়, সে পক্ষে যত্রবান 
হইতে হইবে; কারণ মক্ষিকাসকল রোগ-বীজাণু বহন করিয়া 
অনেক সময়ে রোগবিস্তারের হেতৃভূত হইয়া থাকে। 

রোগীর কক্ষে পরিচর্্যাকারী ভিন্ন সাধারণ লোকের যাতায়াত 
নিষিদ্ধ। এ গৃহ হইতে কোন দ্রব্য বাহিরে আনিতে হইলে 
উহা ফুটন্ত ও পরিশোধক জলে ধৌত করিয়া গ্রহণ করা উচিত। 
রোগীর গলমধ্যে উষধ প্রয়োগ করিবার সময় ওষধদাতা একখগ্ড 
বন্ত্রের দ্বারা নিজের নাক মুখ রুদ্ধ করিবে । কারণ সে সময়ে 
রোগী কাসিলে বা হাঁচিলে রোগ-বীজ উষধদাতার মুখ বা নাসিকার 
মধ্যে প্রবিষ্ট হইতে পারে। পরিচধ্যাকারী হস্ত ও পরিধেয় 
বসনাদি পরিশোধক জলে ধৌত না করিয়া অন্ন-পানাদি গ্রহণ 


৭৪ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


করিবে না। রোগীর গৃহে মধ্যে মধ্যে ইউকেলিপ্টাস ও 
তাপিন তৈল ছিটাইয়া দেওয়া আবশ্যক। লোবান, অগুরু 
প্রভাতি পুড়াইলেও গৃঁভ-বায়ু বিশুদ্ধ হয়। একখানি বস্ত্র 
ওধধজলে ভিজাইয়া রোগীর গৃহের দরজায় সর্ববদাই ঝুলাইয়া 
রাখিবে। বন্দর শুক্ষ হইলে আবার ৪ষধজলে নিমভ্জিত করিয়া 
লইবে। 

পীডিত-ব্যক্তি নিরাময় ভইলেও তাহাকে কিছুকাল পৃথক 
রাখিবে। ডাক্তার ইয়ারদিন বলেন, পর্দদা বিলুপ্ত হয়া গলনল' 
স্বাভাবিক মবস্থা প্রাপ্ত হইলেও এই রোগের সংক্রামকতা 
নষ্ট হয় না; রোগ-বীজাণু দীর্ঘকাল রোগীর মুখাভান্তরে বিদ্যমান 
থাকে। ডাক্তার লিয়োফীরের মতে রোগী সুস্থ হইলেও 
কয়েক মাস পধ্যন্ত রোগ-জীবাণু তাহার মুখে অবস্থিতি করে। 
এই সময়ে ঠাণ্ডা লাগিয়া বা অন্য কোন কারণে মুখমধ্যস্য 
মিউকাস্বিল্লি আবার গাড়িত হইলে এ সকল জীবাণু তথায় 
আশ্রয় গ্রহণ করিয়া পুনর্ববার রোগোৎপাদন করিতে পারে । 
ণাসিক। মধাস্থ ডিপ্থিরিয়! রোগে রোগ-লক্ষণ তিরোভিভ ভইলেও 
নাক হইতে এক প্রকার রক্তআজাব হইতে থাকে । এ আৰ মধ্যেও 
জীবাণু লক্ষিত হয় । এই সময়ে রোগী পৃথক বাস না করিলে 
রোগ-বিস্তারের সন্তাবনা থাকে । 

গ্রামে ডিপ্থিরিয়া দেখা দিলে বাড়ী সর্ববদ! পরিষ্কৃত পরিচ্ছন্ন 
রাখিবে। ড্রেণের গ্যাস বাহাতে বাড়ীতে প্রবিষ্ট না হয়, 
তণ্ুপক্ষে বিশেষ লক্ষ্য রাখা উচিত। অনেকে বলেন, ড্রেণ' 


ডিপ্থিরিয়।। ৭৫ 


হইতে উশ্খিত গ্যাসের মধ্যেই ডিপ্থিরিয়া-বীজাণু লুক্কায়িত 
থাকে। গৃহে কোন ভোজ্য সামগ্রী খোলা রাখিবে না। ভুগ্ধ 
সম্বন্ধে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করিতে হইবে; যেহেতু ছৃগ্ধ 
বায়ুস্ক রোগ-বীজাণু সকলকে অত্যধিক পরিমাণে আকৃষ্ট করে । 
রাত্রি জাগরণ, শীতসেবা, আর্র-ভূমিতে শয়ন প্রভৃতি সর্ববথা 
পরিত্যজ্য। পানীয় জল রীতিমত না ফুটাইয়া পান কবিবে না। 
গলার মধ্যে অল্প বেদন] হইলেই তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ 
গ্রহণ করিবে । এই সময়ে প্রত্যহ জীবাণু-নাশক জলে কুলি 
কর] সুব্যবস্থা । 

সম্প্রতি ডিপ্থিরিয়ানাশক এক প্রকার রক্তরল (4১10- 
10২1) ) আবিদ্কৃত হইয়াছ্ছে। উপযুক্ত সময়ে বিধিপুর্ববক 
এই রপ সুক্ষমুখ পিচকারি দ্বারা হাইপোডাগিকরূপে প্রয়োগ 
করিলে অচিরকাল মধ্যেই ডিপ্থিরিয়া-জীবাণুর সুত্র্য হয়। 
মহাত্বা ককের ছাত্র বেরিং সর্বপ্রথমে এই প্রণালা দ্বারা 
ডিপ্থিরিয়া রোগীর চিকিতসা করেন। এক্ষণে সকল বিজ্ঞ 
চিকিৎসকই ইহার উপকারিতা স্বীকার করিতেছেন বালিন 
সহরের ফেডারিক হাসপাতালে এই প্রণালী দ্বারা ডিপ্থিরিয়া 
রোগীর চিকিৎসা করিয়া ডাক্তাররা মৃত্যুর হার শতকরা ১৩ 
হইতে দেখিয়াছেন। 

এলিক, কেসেল ও ওয়াজরম্যান ২২৭ জন রোগীকে এই 
প্রণালী দ্বারা চিকিৎসা করেন। রোগাক্রমণের প্রথম ব' 
দ্বিতীয় দিনে এই রস যাহাদের দেহে প্রবিষ্ট করান 


৭৬ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


হয় তাহাদের মধ্যে শতকরা ৯৭ জন শীঘ্রই নিরাময় 
হইযাছিল। 

সম্প্রতি পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণীকৃত হইয়াছে বে মনুষ্যদেহে 
এই রস কেবল ডিপ্থিরিয়ানাশক নহে; উহা এ রোগের 
প্রতিষেধবকও বটে। ডাক্তার কেজ ৭২ জন বালক বালিকাকে 
এক রে।গণপুর্ণ স্থানে রোগ প্রকাশের পুর্বেব এই বিষত্ম রস দ্বারা 
টিকা দিয়াছিলেন; তাহার ফলে টিকাধারিগণের মধো ৮ জন 
মাত্র খুব নুদুভাবে রোগাক্রান্ত হইয়াছিল । 

_ এই টিক! সম্পূর্ণ নির্দোষ । ইহা বালকদিগকেও নিরাপদে 
£দওয়। ঘাইতে পারে। দেশে বা বাড়ীতে ডিপ্থিরিয়ার 
প্রাছুর্ডাৰ হইলে উপযুক্ত চিকিৎসকের লাহায্যে এই টিক! গ্রহণ 
করা উচিত । তাহা হইলে রোগাক্রমণের শঙ্কা অনেক পরিমাণে 
দুর হইবে। যে সাংঘাতিক রোগ এতদিন দুরারোগ্য বলিয়। 
গণনীয় হইত, আজ বিজ্ঞানের ক্রমোন্নতিতে তাহা চিকিৎসকের 
করায়ন্ত হইয়! পড়িয়াছে। “ভবতি বিজ্ঞতমঃ ক্রমশে। জন” । 


জলাতন্ক। 


জল দেখিলেই রোগী ভীত হয় বলিয়া এই রোগের নাম 
জলতস্ক রাখা হইয়াছে । ক্ষিপ্ত বৃক, ব্যাঘ্র, শৃগাল, কুক্ধুর 
প্রভৃতির দংশন হইতেই ইহার উত্পত্তি। পল্লীগ্রামে ফেরুপালের 
উত্পাতে এক এক সময়ে লোক অস্থির হইয়া পড়ে। গত 
১৩২১ বঙ্গান্ধের আশ্বিন মাসের একদিন অপরাহৃকালে আমাদের 
গোবরডাঙ্গা গ্রামে এক উন্মন্ত শুগাল কয়েক ঘণ্টার মধো 
আবালবৃদ্ধ ২২ জনকে দন্তাঘাতে কাতর করিয়াছিল। 
দস্ট-ব্যক্তিগণের মধ্যে ৩ জন জলাতঙ্ক রোগে প্রাণত্যাগ 
করিয়াছেন। ঈশ্বরানুগ্রহে অবশিষ্ট জনগণ এখনও স্থুস্থ 
আছেন। 

অখাদ্য ভোজন প্রভৃতি বহুবিধ কারণে জন্তুগণ ক্ষিপ্ত হইয়! 
থাকে। স্ত্রী অপেক্ষা পুরুষজাতিই অধিক সময় আক্রান্ত হয়। 

শৃগাল বা কুকুর উন্মত্ত হইলে প্রথমেই তাহার স্বাভাবিক 
স্ষপ্তি কমিয়া যায়; সে নিয়ত অন্ধকারে থাকিতে ভালবাসে । 
তাহার জলপানেচ্ছা৷ বলবতী হয়; খাদ্যাখাদ্যের বিচার থাকে 
না। সে তখন নিজের উদগীরণ সামগ্রী ও স্বীয় বিষ্তা পর্য্যন্ত 


শশা শশী শীট শি ৪ পপ আপি পাপী 


১১০০০ ল 


ক্ষত ( 13200 ) ভন্তগণের মধ্যে জল- ভীতি থাকে না। এই জল-ভীতি 
কেবলমাত্র মানবেই দেখিতে পাওয়া ষায়। 


ণ৮ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


ভক্ষণ করিতেও ঘ্বণাবোধ করে না। ক্রমে রোগবৃদ্ধির সঙ্গে 
সঙ্গে উহার মুখ হইতে অবিরত লাল নি:স্থত হইতে থাকে । 
এই সময়ে এ জন্তুর ক্রোধ এতাৃশ প্রবল হয় যে, সে তখন 
ইতস্ততঃ দৌড়াদৌড়ি করে এবং সম্মুখে যাহাকে দেখে তাহাকেই 
বিন। দোষে দংশন করে। এইরপ ক্ষিপ্তাবস্থায় এ ওন্ত মনুষ্য ও 
গবাদি যে কোন প্রাণীকে দস্তাহত করিলে তাহারই জলাতঙ্ক 
রোগ হইবার সম্তাবন! । 

পুর্ববকালে কেহ কেহ মনে করিতেন স্থস্থ কুক্ধুর ও শৃগালে 
ক্লামড়াইলেও জলাতঙ্ক রোগ জন্মিতে পারে। কিন্তু এখন 
পরীক্ষা দ্বারা স্থিরীকৃত হইয়াছে যে ক্ষিপ্ত (1[২21১10 ) জন্তু 
দ্বারা দষ্ট না হইলে কখনই এই রোগ হয় না। 

জলাতম্ক রোগের বীজ ক্ষিপ্ত জন্তুর লালার মধ্যে বিদ্যমান 
থাকে। দষ্টস্থানে এ বিষাক্ত লাল৷ নিপতিত হইয়া দ্েহাভ্যন্তরে 
প্রবিষ্ট হয় এবং কিছুকাল গুপ্তাবস্থায় থাকিয়া রোগানয়ন 
করে। আবুত স্থান দংশিত হইলে অনেক সময় ক্ষতমুখে 
বিষ পতিত হয় না; আবার কোন কোন স্থানে বিষ নিপতিত 
হইলেও অত্যধিক রক্তত্াব হেতু উহা দেহপ্রবিষ্ট হইতে পারে 
না। এজন্য সকল ক্ষেত্রে দষ্ট-বাক্তির জলাতঙ্ক রোগ প্রকাশ 
পাইতে দেখা যায় না। 

ক্ষিপ্ত জন্তু প্রথমে যে সকল লোককে দংশন করে, তাহাদের 
অপেক্ষা যাহাদের শেষে দংশন করে, তাহাদের রোগ জন্মিবার 
আশঙ্কা অনেক কম থাকে; বিষের অসন্ভাবই ইহার কারণ । 


জলাতহ্ব । ৯ 


স্থৃতরাং ক্ষিপ্ত শৃগাল বা কুকুর দষ্ট-ব্যক্তিমাত্রই যে জলাতঙ্ক 
রোগাক্রান্ত হইবে এমত বলা যায় না। জন্‌ হাণ্টার ২১ জন 
কুক্ধর-দষ্ট বাক্তিগণের মধ্যে কেবলমাত্র ১ জনের জলাতঙ্ক 
হইতে দেখিয়াছিলেন। ডাক্তার ইলিয়টুসন্‌ দুইটি বালিকার 
কথ| উল্লেখ করিয়াছেন। এ বালিকাদ্বয় একই সময়ে একটি 
ক্ষিপ্ত কুক্কর কন্তক দঙ্ট হয়। উহাদের মধ্যে একজন শীঘ্রই 
জলাতঙ্ক রোগে মারা পড়ে; কিন্তু অপরটি রোগাক্রান্ত হয় 
নাই। 

শৃগাল বা কুকুরে কামড়াইলে যত দিন জলাতঙ্ক রোগ 
প্রকাশ না পায় সেই সময়কে এই রোগের গুপ্তাবস্থা বলে। 
এতদ্দেশে একটি প্রবাদ আছে যে দংশনের পর ১৮ দিন অথবা 
১৮ মাস মধ্যে এই রোগ প্রকাশ পাইয়া! থাকে ; কিন্তু তাহার 
কোন নিশ্চয়তা নাই । কোন কোন ক্ষেত্রে দ্বাদশ বষ পরেও 
রোগ প্রকাশ পাইতে শুনা গিয়াছে । হবে সাধারণতঃ এক মাস 
হইতে ছয় মাস পব্যন্ত এই রোগের গুপ্তাবস্থা । শ্রাঞ্বর়স্থ 
অপেক্ষা বালকদিগের শীঘ্ই রোগ প্রকাশ পায়। 

জলাতঙ্ক-বীজ ক্ষতমধ্যে সংলিপ্ত হইয়া ধীরে ধীরে মস্তিক্গের 
দিকে অগ্রসর হইতে থাকে । কালক্রমে বিষ শিরোগত হইলে 
রোগ-লক্ষণ উপস্থিত হয়%। পাড়া প্রকাশিত হইবার 
অনতিপুর্বেব রোগী কখন শ্রীত কখন বা গ্রীত্ষ, মস্তক ঘূর্ণন, ভয়, 
মনশ্চাঞ্চল্য অনুভব করে। ইহার পরে জল-তীতি প্রকাশ 


ক পক (পা 


শশা | ও শজপাপ্দাল্পাীশীশশীশাশ 


*এজন্ মুখ বা মস্তকের দংশন আতিশয় বিপজ্জনক | 


৮* ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


পায়। তখন সে জল, দুগ্ধ বা অপর কোন তরল পদার্থ আর 
গলাধঃকরণ করিতে পারে না; অথচ পিপাসায় প্রাণ কগ্ঠটাগত 
হয়। ক্রমে জলদর্শন, জলস্পর্শ বা জলের নাম উচ্চারণ করিলেও 
রোগী ভয়ে অস্থির হইয়া! উঠে। গলাধঃকরণ করিবার পেশীসকল 
আক্ষিপ্ত হয়। শ্বাসনালী ও ডায়েফাম পেশীর আক্ষেপবশতঃ 
শ্বাসকৃচ্ছ, ও হিক্কা হইতে থাকে। 

আমাদের দেশে জনসাধারণের মনে একটি কুসংস্কার আছে 
যে শুগাল কুকুরে দংশন করিলে রোগী শৃগাল বা কুক্করের ন্যায় 
ধ্বনি করিতে থাকে । রোগী যে ধ্বনি করে হাহ! প্রকৃতপক্ষে 
শুগাল-কুক্ধরের ধ্বনি নহে ; উহা হিক্কাধ্বনি মাত্র। এ ধ্বনির 
সহিত শৃগ।ল-কুক্করের ধ্বনির কোন সাদৃশ্য নাই। 

রোগী পুনঃ পুনঃ দুত্রত্যাগ করে। মূত্রে যথেষ্ট পরিমাণে 
“মিউকাস্” লক্ষিত হয়। অজ্ঞলোকের! 'এ “মিউকাস্পকেও 
কুক্করশাবক বলিয় বর্ণনা করিয়! থাকে । 

স্লায়ুমণ্ডলের শক্তিহীনতা এই রোগের অন্যতম লক্ষণ। 
রোগী ভাবী অশুভ চিন্তা করিয়া উন্মত্ত হইয়া উঠে। সে 
তখন নানাবিধ অলীক বস্তু দর্শন করিতে থাকে । বিকটাকার 
মুর্তি অথব! ব্যাগ্র ভল্লুকাদি হিংস্র জন্তসকল তাহার চতুষ্পার্থে 
বেড়ীইতেছে বলিয়া মনে ধারণা করে। কখন কখন শঙ্কিত 
ভাবে চীৎকার করিতে থাকে । তাহার মুখ হইতে প্রচুর 
লালাআাব হয়। অনুচ্চ শব্ধ শ্রবণ অথবা আলোক দর্শন 
করিলে তাহার সমস্ত শরীর কম্পিত ও আক্ষিপ্ত হইতে থাকে । 


ক্িলাতক্ষ। প১ 


অবশেষে অন্তিকালে অচৈতন্যাবস্থা (00178 ) উপস্থিত 
হইয়া তাহাকে কালকবলে নিপাতিত করে। 

এই রোগের ভাবিফল নিতান্ত অশুভ। জলাতঙ্ক-রোগ 
প্রকাশ পাইলে মার কোন ক্রমেই রোগীর নিস্তার নাই। 
সচরাচর দুই তিন দিবসের মধ্যেই শ্বাসরোধে মৃত্যু হইয়া থাকে । 
রূচিৎ কেহ কেহ ৮/১০ দিবস কষ্টভোগ করিয়া প্রাণত্যাগ 
করে। 

শৃগাল-কুক্ধুর দংশন করিলে দ্ট-স্থান অবিলান্ব উষ্জজলে 
ধৌত করিয়া উগ্র নাইটিক্‌ এসিড দ্বারা দগ্ধ করিবে। এই 
ওঁষধের অভাবে উত্তপ্ত লৌহ শলাকা ছারা ক্ষত স্থানটি পুড়াঠয়া 
দিলেও উদ্দেশ্য সিদ্ধ হইছে, পারে । তৎপরে, যতদুর দন্ত বিদ্ধ 
হইয়াছে তৎস্থানের মাংস কোন অন্ত্রচিকিৎসকের সাহ'যো 
কর্তন করিয়! ফেলিবে। জলাতঙ্ক-রোগের বিষ কিছুদিন পধ্যস্ত 
ক্ষতমধ্যে অবস্থিতি করে । স্তরাং দংশনের অব্যবহি* পরেই 
প্রাগুক্ত ব্যবস্থা প্রতিপালিত হইলে অনেক সময় রোগাক্রমণের 
ভয় থাকে না। কিন্তু তাহা বলিয়৷ কেবলমাত্র এই চিকিৎসার 
উপর নির্ভর করা বাইতে পারে না। তবে যে সকল স্থলে 
ংশনকারী জীব দংশনের পর ১০ দিবস জীবিত থাকে তথায় 
উপরি উক্ত ব্যবস্থাই যথেষ্ট ! সে সকল ক্ষেত্রে কোন চিকিগুসা 
না হইলেও দক্ট-ব্যক্তির জলাতঙ্ক প্রকাশ পাইবে না। 
শৃগাল কুক্ুরাদি ক্ষিপ্ত হইয়া ১০ দিবসের মধ্যেই সৃত্যুমুখে পতিত 
হয়। যে জন্তু দংশনের পর ১০ দিবস জীবিত থাকে সে 

৬ 


৮২ বাধ ৮ ভাঙার প্রাতিষেধ 


নিশ্চয়ই ক্ষিপ্ত নাহ; তাহার দংশনে জলাতহ্বের আশঙ্কা 
নাই। 

যে সকল স্থলে জন্ক 'ক্ষপ্ত বলিয়া প্রমাণিত হয় অথব৷ 
ং₹শনের পর আর তাহাকে দেখিতে না পাওয়া বায়, তথায় 
কালবিলম্ব না করিয়া জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক ব্যবস্থা 
অবলম্বন করাই সমীচীন । দংশনের পর এক জপ্তাহের মধ্যে এই 
প্রতিষেধক চিকিতসা আবলম্বন করিলে জলাতঙ্কের ভয় 
থাকে না। পারিসের মগামতি পাষ্ট,র মহোদয় এই চিকিৎসা- 
প্রণালী আবিষ্কিত করিয়া জগদ্বাসীব মহদুপকার সাধন 
করিয়াছেন। ইতঃপুর্বেবে এই দ্ররস্ত রোগের প্রতিষেধক 
চিকিতসা জগতে ছিল না বলিলেই চলে । যদিও আমাদের 
দেশে এ-পাড়। ও-পাড়া হইতে আরন্ত করিয়। গ্রামে গ্রামে এই 
রোগ-নিবারক ওঁষধের অপ্রাচুধ্য নাই এবং শকলেই তারস্বরে 
নিজ নিজ ওষধের গুণ বণনা করিয়৷ লোককে “হীরা-জীরারঃ 
পার্থক্য বুঝিতে দেয় না, তথাচ এ সকল অবৈজ্ঞানিক ভেষজের 
প্রতি কোন ক্রমেই আস্থা স্থুপন কর! চলে না। 

অধ্যাপক পা্উ,র “রাযান্টির্যাবিক্-ভাইরাস্” নামক জলাতঙ্ক- 
রোগ-নিবারক ওষধ প্রস্তুত করিয়া ক্ষিপ্ত শুগাল-কুকুর-দষ্$ ব্যক্তির 
শরীরে পিচকারি দ্বার দর্ববপ্রথমে প্রয়োগ করেন। এখন 
পারি সহরে এই চিকিৎসার ফলে কুক্কর-দষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর হার 
প্রতি সহজে ছুই তিন মাত্র। অধুনা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ 
বৈজ্ঞানিকগণ নিঃসন্দিগ্ষচিন্তে এই চিকিৎসার উপকারিত৷ স্বীকার 


জলাঠক্ক। ৮৩ 


করিতেছেন। আমাদের সদাশধ গভর্ণমেণ্ট এতদ্দেশে বিনামূল্যে 
এই চিটিত্সার ব্যবস্থা ক্যা ভারতবাসীর অশেষ কল্যাণ 
সাধন করিয়াছেন । সিমল' শৈলের সন্নিকটে কশোৌলি নামক 
স্থানে এবং মাদ্রাজ প্রদেশান্তর্গত কনর নগরে গভর্ণমেণ্ট এই 
রোগের দুইটি চিকিগসালয় "স্থাপন করিয়াছেন। মাজকাল 
শুনিতেছি শিলং সহরেও মার একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত 
হইয়াছে। এই সকল গভর্ণমেণ্ট সংস্থাপিত চিকিতসালয়ে 
ছোট বড়, ধনী নির্ধন সকলেই তুল্যভাবে চিকিৎমসিত হইতে 
পারেন । 

কশোৌলি সহর ৬৩০০ ফুট উচ্চে অবস্থিত। এই স্থানে 
পৌছিতে হইলে হাওড়া হইতে রেলযোগে কাল্কা এবং তথা 
হইতে পদব্রজেঃ অশপৃষ্ঠে অথবা রিকৃশ নামক গাড়ীতে ৯ মাইল 
পার্ববত্যপথ অতিক্রম করিয়া যাইতে হয়। পথের একদিকে 
গভীর খাদ এবং অপরদিকে গগনস্পর্শী পাষাণভ্ুপ। পথ 
সর্পগতির ন্যায় বাঁকাভাবে ক্রমেই হিমাচলে উঠিয়াছে। শৃগাল 
কুক্কুর-দষ্ট নিঃস্ব লোক এবং অল্প বেতনভোগী গভর্ণমেণ্ট 
কন্মচারিগণ আবেদন করিলে বিনা ব্যয়ে কশৌলি বাইতে 
পারেন। তীহাদের প্রত্যেককে গভর্ণমেপ্ট লাসম্থান ও 
খোরাকি দিয়া থাকেন। প্রতাহ শতাধিক কুকর-দষ্ট ব্যক্তি 
এখানকার হাঁলপাতালে চিকিৎসিত হয়। 

জলাতঙ্ক -রোগের প্রতিষেধক চিকিৎসাপ্রণালী অতি স্থন্দর। 
বেল! ১০ টার পর হাসপাতালে উপস্থিত হইলে ডাক্তার সাহেব 


৮৪ বাধি ও তাহার প্রহ্ষেধ। 


একবার মাত্র ওষধদ্রব্য সূক্ষমুখ পিচকারি দ্বারা রোগীর উদরের 
চন্মে প্রবিষ্ট করান। ইহাতে কোন প্রকার জ্বাল! বা যন্ত্রণ। 
নাই। ছোট ছোট বালকবালিকারা পধ্যন্ত অসঙ্কোচে এই 
“ইন্জেকসন্” শ্রহণ করিয়া থাকে । উদরের যে স্থানে 
“ইনজেকসন্” দেওয়া হয় তথায় দ্বই এক দিন অল্প বেদনা অনুভূত 
হয় মাত্র; কিন্তু তজ্জনিত জ্বর বা অপর কোন প্রকার অস্থুস্থত! 
উপস্থিত হয় না। রোগীর অবস্থান্ুসারে ১৪ হইতে ১৮ দিনের 
মধ্যেই চিকিতসা সমাপ্ত হইয়া যায় । তখন দক্ট-ব্যক্তি নিরাময় 
হইয়া বাড়ী আসিতে পারেন । তবে এই স্থানে ইহাও বলিয়া 
রাখা উচিত যে জলাতঙ্ক-রোগ প্রকাশ পাইলে আর কশোৌলি 
যাইবার আবশ্মুকতা নাই । সে সময় চিকিৎসার দ্বারা কোন 
ফল লাভ হয় না। তখন রোগীকে এক জনশূন্য অন্ধকার ঘরে 
মশারির মধ্যে রাখিয়া দিবে। রোগীর লালা তোমার গাত্রস্পশ 
না করে তদ্বিষয়ে সতর্ক থাকিবে । দেহস্থ ক্ষতে এ লাল! 
সংযুক্ত হইলে তোমারও জলাতর্ক-রোগ জন্মিতে পারে। 

ক্ষিপ্ত শৃগাল-কুক্ুর-দষ্ট ব্যক্তি কাল বিলম্ব না করিয়া 
কশৌলি যাত্রা করিবে। দংশনের পর সপ্তাহ মধ্যে থাকার 
হাসপাতালে উপস্থিত হওয়াই বিধি। কাল বিলম্ব করিলে 
চিকিৎসার ফলেরও তারতম্য ঘটিতে পারে। 

অসমর্থ বাক্তি দংশনের পরই জেলার সিভিল সাজ্ভন অথবা 
€ মিউনিসিপালিটির মধ্যে বসতি হইলে ) চেয়ারম্যানের নিকট 
কশোৌলি যাইবার জন্য আবেদন করিবে । তাহা হইলে বিন] ব্যয়ে 


জলাতঙ্ক । ৮৫ 


তথায় পৌঁছিবার স্থৃব্যবস্থা হইবে। কন্নুর বা শিলং হাসপাতালে 
যাইতে চাহিলেও তাহার! খরচ দিয়া পাঠাইয়। দিবেন । 

জলাতঙ্কের স্বায় সাংঘাতিক ব্যাধির এমন অনায়াসলভ্য 
প্রতিষেধক চিকিৎসা গাকিতে রাম-শ্বামের কথায় প্রতারিত 
হইয়। অমূল্য জাঁবন বিসর্জন দেওয়া কোন ক্রমেই সঙ্গত নহে। 
জগতে একমাত্র পাফ্ট,র উদ্ভাবিত চিকিতসাই এই রোগ-বিষকে 
মুলে ধ্বংন করিতে সমর্থ। 

ক্ষত শুক্ক হইয়া ২৬ মাস বেশ সুস্থ থাকিলেও অচিকিতসিত 
ব্যক্তির রোগাক্রমণের ভয় দুর হয় না। আশ্রিত বিষ কোন্‌ 
দিন স্বরূপ ধারণ করিয়া আশ্রয় নষ্ট করিবে তাহা কে বলিতে 
পারে? অতএব সময় থাকিতে সতর্ক হইবে ;- হেলায় জীবন 
নষ্ট করিও না। 


ধনুষটঙ্কার | 


ধনুষ্টঙ্কার-রোগের নষ্টকোষ্ঠী উদ্ধার কব এখন সহজ 
সাধ্য নূহ । স্মরণাতীত কাল হইতে এই ব্যাধি ভারতে বসতি 
করিতেছে । চরক বলিয়াছেন-_ 
“গীড়য়ন হৃদয়ং গত্বা শিরঃ শঙ্ছৌ চ গীড়য়ন্‌। 
ধনুর্ববন্নমহে দগাত্রাণ্যাক্ষিপেন্মোহয়েতদা” ॥ 
স্বতরাং বুঝা যাইতেছে, চারকীয় যুগেও এতদ্দেশে ইহার 
আধিপত্য অল্প ছিল না। বয়োধন্মে এই স্মুপ্রাচীন ব্যাধির 
তেজোহানি হয় নাই। ইহার স'হারিণী শর্তি আজও বেশ 
অক্ষু্ন রহিয়াছে । বঙ্গপল্লীসমূহে এক ম্যালেরিয়া জবরই 
সহত্র-বদন হইয়া লোক গ্রাস করিতেছে। পল্লীবাসীর জীবন 
ম্যালেরিয়ার তাড়নেই বাত-কম্পিত দীপ-শিখার হায় সতত 
বিচঞ্চল। ইহ! বিবেচন। করিয়াই বোধ হয়, ধনুষ্ঙ্কার জন শুন্য 
পল্লীগ্রামে নিজ প্রভাব সর্বদা! প্রকাশ করে না) তবে মধ্যে 
মধ্যে সুতিকাগারে গিয়া প্রসূতি ও শিশুর সংবাদ লইয়া 
থাকে । 
জনাকীর্ণ সহরের ধুলিমণ্ডিত রাজপথগুলিই ইহার বিহার 
স্থান। এক কলিকাত। সহরে ইহার আক্রমণে কোন কোন 
সঞ্চাছে ২০ জনেরও অধিক লোক মানবলীল! সম্বরণ করে । 


ধনুগহকার ৮৭ 


শাহত, বিক্ষত, ও অস্ত্রবিদ্ধ জনগণের প্রতি ধনুষটস্কারের 
অনুগ্রহ দৃষ্টি অধিক । এই জন্য সমরাঙ্গন পরিদর্শন করা ইহার 
আবাল্য অত্যান। আঘাত-প্রাপ্ত শৈনিকের দেহপ্রবিষ্ট হইয়া 
তাহাকে শান্তি নিকেতনে প্রেরণ করিতে এই বাধি সর্বদাই 
সচেষ্ট থাকে । গত আমেরিকার যুদ্ধ ৮৭৮২২ জন আহত 
ব্যক্তির মধ্য ৩৬৩ জনের ধনুষ্টঙ্ক'র প্রকাশ পাইয়াছিল। 
সম্প্রতি ডাক্তাররা জীবাণু-নাশক চিকিওসাপ্রণালী আবিষ্কৃত 
করিয়া এই “শ্রণীর ব্যাধির গর্ব খর্ব করিয়াছেন। কিন্তু তাহা 
বলিয়া ইহ'র। রণে ভঙ্গ দিবার পাত্র নহে । বাসগৃহ যেরূপ 
রজ্জু-কান্ঠাদি দ্বারা স্শ্রিষ্ট না রাখিতে পারিলে প্রবল বাত্য। 
আপিয়া তাহাকে ভগ্ন করে, এই সম্কট সম্কুল স্থানে বাস করিয়া 
দেহ-গেহ তেমনই স্ুনিযমাদি স্হায়ে সুরক্ষিত না করিলে 
অলক্ষ্যে এ সকল রোগ আসিয়া তাহাকে পাতিত কারয়া 
ফেলে । 

ধনুষ্টঙ্কার-রোগে শরীর দুর্দমশীয়রূপে আকুঞ্চিত হইয়া 
ধনুর্বব বক্রাকৃতি ধারণ করে। সম্মুখ, পশ্চা ও পার্থ সকল- 
দিকেই দেহ বক্র হইতে পারে। সম্মুখদিকে বক্র হইলে 
পুরস্টঙ্কার (.1570105001900 ), পশ্চাদিকে বক্র হলে 
পশ্চাট্ক্কার ( 0101901)010795 ) এবং পার্থদিকে বক্র হইলে 
পার্থ টক্কার (10161705010 601)05 ) নামে ইহা অভিহিত হইয়া 
থাকে । কিন্তু এই ত্রিবিধ টঙ্কারের মধ্যে পশ্চাট্রস্কারই 
( 019151)9607799 ) সচরাচর পরিলক্ষিত হয়। কোন কোন 


৮৮ বাধি ও তাহার প্রংতষেধ। 


ক্ষেত্রে দেহ যষ্টিব কঠিন হইয়া থাক । আমুর্বেনদ শাস্ত্রে চরক 
এই অবস্থাকে দণ্ডক রোগাখ্য। প্রদান করিয়াছেন । 

আর্্রভূমিতে শয়ন, অত্যধিক শীঃ সেবা অথবা কোন প্রকার 
বানা আঘা*ই এই রোগের নিদাঁন মাধ্য গণনায় হইত । কিন্তু 
কিছুকাল ওল নিকোলিয়ার নামক জনৈক বৈজ্ভ্তানিক প্রমাণ 
করিয়াছেন যে এই রোগের এক কার জাবাণু আছে। এ 
জীপাণুগণ নেখিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সরল বেপার শ্যাৎ , তবে উহাদের 
উভঘ প্রন্থ গোলাকার। জয়ঢাক বাঙজাইবার যার সহিত 
ইহা মর বের অনেকটা সৌসাদৃশ। আছে 

এই সকল কালরূপী জীবাণু দুষিত জলে মথনা রাগ্ডপথে 
ধৃলিকণা মধ্য লুক্কায়িত থাকে । শরীরের কোন স্থান কাটিয়া 
যাইলে ঠপব। দলিত, পেষিত, মভত ব' দক্ষ »₹লে উহারা 
তন্মধ্য দি'ং দেহে প্রবিষ্ট হইতে পরে ॥ এইটি ছমট অণুদেহি- 
নিচয় সামান্য একটু ক্ষত দেখিলেই ম্মধো অন প্রবিষ্ট হইবার 
স্তরযোগ অশ্রসপ্ধান করে। শরীরের কোন » নর ত্বক অল্প 
উঠিয়া যাইলে কিংবা কোন. স্থানে পেরেক, আগ পিন বা তদ্ধৎ 
কোন সৃন্মনাগ্র অস্ত্র বিদ্ধ হইলে উচ্ারা এ চক্ষর অগাচর রন্ধ, 
দিয়া অনায়াসে দেহাত্তান্তরে চলিয়া যায়। ডাক্তার টেলার 
বলেন--কোন একটি ধনুষক্কার-রোগীর শরীরে ক্ষতাদি কিছুই 
দৃষ্ট হয় নাউ; কিন্তু তাহার জীবনাবসানের ন্বল্লাকাল পুর 
বদ্ধা্ুষ্ঠের অগ্নভাগে একটি কৃষ্ণবর্ণ চিহ্ন দেখা গিয়াচিল। 
তখন অনুসন্ধানে প্রকাশ পাইল যে রোগাক্রমণের কতিপয় দিবস 


ধষ্টঙ্কার। ৮৯ 


পুরধেব এ স্থানে একটি কণ্টক বিদ্ধহয়। এই সামান্য ঘটনার 
প্রতি রোগীর মন আদৌ মাকৃষ্ট হয় নাহ। সুতরাং সে 
চিকিৎসকের নিকট ইহা প্রকাশ করা অনাবশ্যক মনে করিয়াছিল । 
১৮৭২ খুষ্টা'বর “ত্রিটিস মেডি.কল জার্ণাল” নাক পত্রে এইরূপ 
আরও ক.এ%ট রোগীর কথ। লিখিত আছে। 

ধণুষ্টক্কাররোগ সাধারণ 5 ছুই ভাগে বিভক্ত । যে সকল 
স্থলে আঘাত প্রাপ্তির পর রোগ প্রকাশ পাহু তাহাকে আঘাত- 
জনিত (1 10100010) ধনুষ্টক্কার বলে। অঙ্গে আঘাতের কোন 
চিহ্ন লক্ষিত না হইলে এই রোগ স্বতোজাত (10101711010) 
ধর্সম্টম্কার নামে কথিত হয়। কিন্তু শেষোক্ত ক্ষেত্রে শরীরের 
যে কেন দ্ব।র দিয়া রোগ-বীজাণু প্রবিষ্ট হইয়াছে বলিয়া নিশ্চয় 
ধারণা করিতে হইবে। এই রোগের জীবাণু দেহাভ্যন্তরস্থ ন1 
হইলে কখনই প্রকৃত ধনুষ্ঙ্কার রোগ জন্মে না। আর্রভূমিতে 
শয়নোপবেশন এবং শীত-ভোগাদি এই রোগের উদ্দীপক কারণ 
মত্র। 

সুতিকাগারে প্রসূতি ও নবজাত শিশুর এই ব্যাধি যথেষ্ট 
হইয়া থাকে । এক বোম্বাই সহরে ৩ বসরে ২৩২ জন প্রসূতি 
এই রোগাক্রান্ত হইয়াছিল। প্রসূতির প্রসব-দ্ধার ও শিশুর 
'নাভীক্ষ* দিয়া এই জীবাণু দেহমধ্যে উপনীত হয়। অস্বাস্থ্যকর 
সৃতিকাগুহে বাস করিলে সন্তান ও প্রসবিত্রী--উভয়েরই এই 
“রোগ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। 

সন্তান ভূমিষ্ঠ হইবার ছুই সপ্তাহ মধ্যেই রোগ প্রকাশ 


৯৬ বাধি ও তাহার প্রতিষেধ । 


পাইব'র সম্ভ'বনা মধিক থাকে । নবপ্রসুগণের মধ্যে অনেকে 
প্রসবে »€ সপ্তাহকাল মধ্যেই রোগাক্রান্ত হয়। ওয়ারিং 
নামক এক৬- বগুদশী ব্যক্তি দুই শতাধিক ধনুষ্কার গ্রস্ত প্রসূতির 
হিসাব রাখিয়া! দেখিধাছেন, প্রপবের প্রথম দিনে ৭ জ্ঞন, দ্বিঠীয় 
দিনে ৩২ ক্ষন, তৃনীয় দ্িনে ২৯ জন. চতুর্থ দিনে ২৩ জন, পঞ্চম 
দিনে ২২ জন ষষ্ঠ দিনে ৩২ জন, সপ্তম দিনে ১৫ জন, অফ্টম 
দিনে ১৪ জন, নবম দনে ১৫ জন, দশম দিনে ১৪ জন, একাদশ 
দিনে ২ জন, দ্বাদশ দিনে ৯ জন, ত্রয়োদশ দিনে ৪ জন, চতুর্দশ 
দিনে ১ জন, সপ্তদশ দিনে ১ জন এবং অফ্কাদশ দিনে ১ জন 
রোগাক্রাস্থ হহয়াছল। 

পশ্চিম ভারঠায় দ্বীপপুঞ্জীমুহে নিগ্লে'দিগের মধ্যে 
প্রসবাগারে এহ রাগের প্রাদুর্ভাব সর্বাপেক্ষা অধিক । 

ধনুষটহ্কার ধোগের জীবাণু দেত প্রবিষ্ট হ্যা তথায় বংশবৃদ্ধি 
করত এক প্রকার বিষ-পদার্থ উৎপন্ন করে। এ দ্ষিপদার্থ 
দ্বারা মেরুদণ্ড উত্তেজিত হইলে রোগলক্ষণ সকল প্রকাশ 
পায়। 

উঞ্ণপ্রধান স্থানে ইহার প্রভাব অধিক । কিন্কু সার জেমস্ 
সিমসন ইহা শ্বীকার করেন না। তিনি বলেন, শীত গ্রীষ্মের 
সহিত ইহার বিশেষ কোন সম্বন্ধ নাই । তবে ইহা দুষ্ট হইয়াছে 
যে, যুরোপ প্রভৃতি শীত প্রধান দেশের লোক শ্রীক্ষপ্রধান দেশে 
আসিয়! বাস করিলে তত্রশ্য অধিনাসী অপেক্ষা নবাগতগণ ইহা 
দ্বারা অপেক্ষাকৃত অল্প আক্রান্ত হইয়া থাকে । 


ধনুগ্গার ৯১ 


'পুর্ববকালে লোক সকল মনে করিত, পুরুষ অপেক্ষা রমণীগণ 
এই রোগে অধিক পীড়িত হয়; কিন্তু সে ধারণা ভ্রমাত্মুক।, 
পুরুষের প্রতিই ইহার অনুগ্রহ-দৃষ্টি অধিক। ১০৬৯ ঞ্ন 
ধনুষ্টঙ্কার-রোগীর তালিকা মধ্যে ৮২৯ জন পুরুষ ও ২৪০ জন 
মাত্র আলোক থাকিতে দেখা গিয়াছে ' কার্ণিং ১২৮ জন 
রোগীর তালিকা! প্রস্তুত করিয়া দেখিয়া্ছেন, তন্মধো ১১২ জন 
পুরুষ ও ১৬ জনস্ত্রী ছিল। গ্রাসগো৷ সহরের অধ্যাপক লরি 
মহোদয় যে ২২১ জন রোগীর কথা উল্লেখ করিয়াছেন, তম্মধোও 
রমণী অপেক্ষা পুরুষের সংখ্যা অধিক! 

“লক জ” (100-18% ) এহ রোগের প্রধান লক্ষণ । 
রোগ প্রকাশের পূর্বেব রোগী মুখব্যাদান করিতে কষ্টানুভব 
করে; ক্র-ম নিন্ন হন্বস্থির মাংসপেশী সধল আডঙষ ও সস্কুচিত 
হয়। এই অবস্থাকে ডাক্তাররা “লকৃ-জ” বলিয়া থাকেন। 
এই সময়ে রোগী কোন পথ্যহ আর গলাধঃকরণ করিতে পারে 
না। ধনুষ্টঙ্কারের সমস্ত লক্ষণ বর্তমান থাকিয়া যদি এ আাদ্য 
লক্ষণের মভাব থাকে তবে তাহাকে প্রকুত ধনুষ্টঙ্কার রোগ 
বলা যাইতে পারে না । অপর পক্ষে মূল লক্ষণ “লকৃ-জ” প্রক।শ 
পালে “রাগী ধনুষ্টস্কারাক্রান্ত হইয়াছে, ইহা এক প্রকার শ্ির 
সিদ্ধান্ত করা যায়। রোগবুদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের সমস্ত পেশী 
আক্ষিপ্ত হইতে থাকে । একবার আক্ষেপের পর কিছুকাল 
বির।ম'বস্থায় থাকিয়া আবার আক্ষেপ উপস্থিত হয়। বোগ 
অশ্ত্যাধক বৃদ্ধি পাইলে বিরামকাল আর লক্ষ্য কর! অসস্তব হইয়! 


৯২ বাধি ৪ তাহার গ্রাণষধ 


পড়ে। খন রোগীর গারস্পর্শ কবিল বা শরীরে প্রবল 
বাতাস লাগিলে “ফিট” হমতে থাকে । এই মাংসপেশীর 
আক্ষেপ দন কর! রোগীর সাধান্ীত বল প্রকাশ করিলে 
আক্ষেপ দ্বিগুণ বদ্ধিত হয় আক্ষেপ কালে রোগী এক 
প্রকার মস্পর্সট কাতরোক্তি প্রকাশ করে। 

সৃিকগা-ত শিশুর এই রোগ হইলে প্রথমেই শিশুর 
চোয়ল ধারয়। যায়। সে **ন স্তন্তপানে অসমর্থ ভয়। 
ক্রম তাহার সমস্ত শরীর আছন্ট ও আকুঞ্চিত হইতে থাকে । 
শিশুর হস্ত" এুষ্টি দৃট়রূপে বদ্ধ গাকে এবং তাহার আীবাটিও 
সন্চে সাঙ্গ শক ইয়া উঠে 

ণ” “রাগের ভাবিফল নিশান্ত মন্দ। রোগীর প্রাণরক্ষা 
এক প্রক্ধাব অনভ্তভব বলিলেও ».ল। তবে রোগ-লক্ষণ মৃতদ্রগতি 
হ'ল ণ .ব'গী ১০ দিবপ গীপিত থাকিলে আশার দীপবর্তিক! 
উজ্জ্বল 55 প€ হইতে পাত পাঁ» দিবসের মধ্যেই অধিকাংশ 
রোগী শ্রণণ্যাগ করে। বাস +পত প্রায়শঃ ম্বতার কারণ 
হইয। থার+ | 

ন্রম্টঙ্গার সংক্রামক বাধ ব” যা বর্ণিত হইয়াছে | স্থতরাং 
এই বোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে এক পুথক অন্ধকার গৃহে রাখিবার 
ব্যবস্থা নরিবে। বাতালোেকপুণ স্থানে ধনুষ্টঙ্কার-রোগীকে 
রাখিলে তাহার রোগ বৃদ্ধি হয়। পরিচধ্যাকারী ভিন্ন এ ঘরে 
অপর লোকের প্রবেশ নিষিদ্ধ। রোগীর, ক্ষত মধ্যে ও মুত্রে 
এই রোগের জীবাণু দৃষ্ট হয়। অতএব রোগীর ক্ষত “ড্রেস” 


ধনছুহ্ার। ৯৩ 


করিবার সময় বিশেষ সতর্ক থাকিবে । যে স্থানে রোগীর মুত্র 
নিক্ষিপ্ত হয়, সে স্থান আঁবলম্ে কার্বলিক লোশন দ্বারা ধৌত 
করিবে । রোগীর সমল শধ্যাবসনাদি দগ্ধ করাই স্থব্যবস্থা। 
পরিচর্যাকারী নিজ হস্ত বিশোধক ওষধ ও সাবানজলে উত্তমরূপে 
ধৌত করিয়া খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করিবে । যে গৃহে ধনুষ্টঙ্কার- 
রোগীর মৃত্যু হয়, তাহা ওঁষধ জলে বিশোধিত ও টুণকাম করিয়া 
ব্যবভার করাই সমীচীন । 

ধনুষটঙ্কার-জীবাণু সাধারণতঃ বায়ুতাড়িত হইয়া ধুলিকণার 
সহিত ক্ষত মধ্যে প্রবিষ্ট হয়। ক্ষতস্থান কার্বলিক অয়্েল* 
বা তদ্বৎ কোন জীবাণুনাশক বধ দ্বার! সর্বদা আবৃত করিয়! 
রাখিলে রোগাক্রমণের ভয় থাকে না। সামান্য আঁচড়ও 
উপেক্ষণীয় নহে। কোন স্থান একটু কাটিয়া বাইলে বা দগ্ধ 
হইলে অবিলম্বে সতর্ক হইবে। কীচে কাটিয়া গিয়া ধনুষ্টঙ্কার 
হইতে শুন! গিয়াছে। ফলতঃ এই সকল আগন্তুক আণুবীক্ষণিক 
জীবাণুর প্রাবেশ-দ্বার অর্গলবদ্ধ রাখিলে অনিষ্টাপাতের আশঙ্ক' 
থাকে না। ডাক্তার ডা কষ্ট বলেন-__ 

* 7১1060 298]9915 ৪0151021]070906006 1092175 
(69001) 1017 (6121185 25 50061 25 10 19905 
[5620017 [িশোর। 5209010901012 


আমাদের দেশের অনেক লোক শরীরে সামান্য একটু ক্ষত 


পচা শট শপ জপ পপ স্পা আপ ০৯ পন পপ 


গকার্বলিক এসিড ১ ভাগ, অলিভ অয়েল (বা! তদভাবে নারিকেল তৈল) 
৯ ভাগ। 


৯৪ ব্যাধি ও তাষ্ঠার প্রতিষেধ। 


হইলে বড় একটা গ্রান্থ করেন না। অপরিষ্কুত জলে ক্ষত 
ধৌঠ করিলে বা ক্ষত অনাবৃত রাখিলে, এ জল ব! ক্ষতের 
পি ষ্ট বায়ু কি ভাবে ক্ষত দুষিত করিয়া ভুলিতে পারে, তাহ 
তাহাদের মনে কখন উদিত হয় না আবার ইহাও দেখিতে 
পাই কাহারও কোন স্থানের চম্ম বিচ্ছিন্ন হইল, অথবা কাটিয়। 
যাইল, অমনই তিনি তৎস্থানের রক্ত রুদ্ধ করিবার জন্য রাস্ত। 
হইতে কিঞ্চিৎ মাটী লইয়া ক্ষতমুখে সংযুক্ত করিলেন। এইরূপ 
নির্ববদ্ধিতাবশতঃ আমরা অনেক সময় অনেক রোগকে সাদরে 
আহ্বান করিয়া থাকি । এতদ্দেশীয় জনসাধারণের মধ্যে 
বীজাণুতন্বের আলোচনা নাই বলিলেই হয়। আমাদের 
দেশবসিগণ এই নকল অবশ্য-জ্ঞাতব্য বিষয় শিক্ষা করিয়া 
তাহাদের সিিগ্ধ মন্তিষ্ধ উত্তপ্ত করিতে রাজি নহেন। যে 
সময়-ক্ষেপ করিয়া তাহারা এতদ্বিষয়ে জ্ঞানলাভ করিবেন, 
সেই সময়টুকু সবান্ধবে বসিয়া পরছিদ্রানুসরণ ও পরনিন্দা 
করিয়। কাটাইতে পারিলেই তাহারা সুখী । বিজ্ঞানালোকদীপ্ত 
বুরোপের রমণীগণ পর্য্যন্ত এই সকল জ্ঞন চর্চা করিয়া থাকেন । 
কিন্তু এ হতভাগ্য দেশের পুরুষেরাও এতদ্বিষয়ে উদাসীন। 
আদ্রভূমিতে বাস, অনাবৃত গাত্রে হিমভোগ প্রভৃতি ধনুষটঙ্কার- 
রোগের উদ্দীপক কারণগুলি সর্ববথা পরিহাধ্য । সুতিকাগারের 
দোষে এতদেশে অনেক প্রসূতি ও শিশু অকালে ধনুষঙ্কার- 
রোগে মারা পড়ে। ইংলগ্ড ও ওয়েল্সে শিশুর মৃত্যুর হার 
শতকরা ৮; অপর পক্ষে আমাদের দেশে শতকরা ৪৮টি শিশু 


ধনুগঙ্কার । ৯৫ 


ধ্অতি শৈশবেই প্রাণত্যাগ করে । এদেশে সাধ'বণতঃ 'যরূপ- 
ভাবে সূতিকাগার নির্মিত হয়, 'তাহাতে তাহ।কে “যমাগার” 
ৰলিলেও বোধ হয় দোষ হয় না। সেই পুতিশন্ধময় দারুণ 
অস্বাস্থ্যকর সুঠিকাগারের দোষে কত শত ক্ষুদ্র শিশু অকালে 
চলিয়া যায়, "ক তাহার সংখ্যা করে ? আমরা শ্জ নিজ বাস- 
গুটি যাহাতে পরিষ্কীত পরিচ্ছন্ন থাকে, যাহাতে উহার মধ্যে 
আলোক-বায়ু সমানভাবে প্রবেশ করিতে পারে, তদ্বিষয় লক্ষা 
রাখিয়া থাকি। আর্দ্র মৃত্তিকাতে শয়ন করিলে পীড়া হইতে 
পারে এই ভয়ে খাট বা পধ্যস্কোপরি শয়ন স্থান নির্দেশ করি। 
কিন্তু আশ্চযোর বিষয় এই যে, নবজাত শিশ্রুর এ সকল সুখ 
শান্তির দিক আমরা একবারও ফিরিয়া চাহি না। আমর! 
প্রকাশ করি, শিশু আমাদের বড় আদরের সামগ্রী; শিশুকে 
আমর! প্রাণতুল্য ভালবাদি। শিশু জন্মগ্রহণ করিলে আমর 
কত আনন্দোৎসব করিয়া থাকি, কত বন্ধুবান্ধবকে ভূরিভোজনে 
পরিতুষ্ট করি--কত দেবতার পুজা করি। শিশুর মৃত্যুতে 
আমরা কীদিয়া আকুল হই ; সংসার শুন্য দেখি । কিন্তু শিশুকে 
জীবদ্দশায় গৃহপ্রাঙ্গণে শীতবাতসমাকুল, শুষ্ক খজ্ভুর পত্রাচ্ছাদিত 
এক জঘন্য স্থানে রাখিয়া উহার অকাল মৃত্যুর হেতুভূত হইয়া 
খাকি। হায়! হায়! কিমাশ্চধ্যমতঃপরম্‌ । 

বাড়ীর মধ্যে যে ঘরটি সর্ববাপেক্ষা ভাল, যে ঘরের মেঝে 
বেশ খটুখটে এবং যে ঘরে রৌদ্র ও আলোক সমানভাবে 
প্রবেশ করে, সেই ঘরেই সূতিকাগার হওয়া উচিত। আমাদের 


৯৬ বাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


দেশে একটা কুসংস্কার আছে যে সূতিকাগার হইলেই এঁ স্থান 
অশুদ্ধ হয়। .ব স্থানে আমাদের বংশধর ভূমিষ্ঠ তইবে, সে স্থান 
যদি অশুদ্ধ হয়_-সে স্থান যদি অপবিত্র হয়--তবে আমরা 
কাহার স্তবখ শান্তির জন্য এই অক্রাস্ত পরিশ্রম করিয়! 
কোঠা-বালাখানা প্রস্তুত করি % অতএব জ্ঞানচক্ষ উন্দীলন 
করিখা দেখ, কুসংস্কার ত্যাগ কর, বাহাতে হেলাষ শিশুর জীবন 
নষ্ট না হয় ততপক্ষে যত্রবান হও 1 শীতের রাত্রিতে এক বিন্দু 
ঠাণ্ডা! লাগিবার ভয়ে আমরা রাশি রাশি উঞ্ণবন্ত্র পরিসপান করিয়া 
ঘরের মধ্যে বসিয়; থাকি, আর নবনীত-কেোঃেল শিশুকে 
অবাধে বাহিরের কোন এক অনাবৃত স্থানে অদ্র মৃত্তিকার 
উপরে একখানি মলিন ছিন্ন কন্ত! ব! মাদুর পাতিয় ফেলিয়া রাখি। 
শিশুর শক্তি কতটুকু? সে কতক্ষণ শীত-বাতের সহিত সংগ্রাম 
করিতে সমর্থ হয়? সন্ধ্যার প্রাকালে স্থস্থ শিশু ভূমিষ্ঠ 
হুইল, পরদিন প্রাতে শুনিলাম শিশুটি মারা গিয়াছে। ক্ষুত্র 
শিশু সারারাত্রি হিমভোগ করিয়া স্বরতঙ্গ, জব, পক্ষাঘাত, 
বাত অথবা ধন্ুষ্টঙ্কার-রোগে মারা পড়িল, আর ভ্রমান্ধ আমর! 
ছেলেকে “পেঁচোয” পাইয়াছিল বলিয়া মনকে প্রবোধ দিলাম। 
বাহিরে সুতিকাগার প্রস্তুত করিতে হইলে কতকগুলি বিষয়ে 
লক্ষ্য রাখ! নিতান্ত প্রয়োজন। স্থানটি অপেক্ষাকৃত উচ্চ, খটখটে 
এবং প্রশস্ত হওয়া আবশ্বক। উহার নিকটে কোন নালা, 
নরর্দামা বা হুগন্ধময় স্থান থাকিবে না। ঘরটি দৈধ্যে দশ বার 
হাত এবং প্রন্থে পাচ ছয় হাত হইলে ভাল হয়। 'ঘরখানি 


ধনুট্ঙ্কার। ৯৭ 


এরূপভাৰে প্রস্তত হইবে যে উহার মধ্যে হিম প্রবেশ করিতে 
না পারে। কিন্তু এ সঙ্গে বায়ু গতায়াতের জন্য প্রশস্ত জানাল! 
রাখিতে যেন ভুল নাহয়। বিলাতের কোন এক সরকারি 
প্রসবাগারে প্রথম প্রথম ভূমিষ্ঠ হইবার পর এক সপ্তাহের মধ্যে 
অনেক শিশু মারা পড়ে। শিশুর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান 
করিতে গিয়। তত্রত্য প্রথিতনামা চিকিতৎসকগণ বুঝিলেন যে উক্ত 
গৃহে আবশ্যক বায়ু গমনাগমনের অভাব হইতেছে । এই অভাক 
দুর করিবার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর মৃত্যু সংখ্যা অনেক হ্রাস হইল । 
বিশুদ্ধ বায়ুই আমাদের জীবন। কফ-কাসাদি চিহিত, 
মুত্রগন্ধে আমোদিত, বাতালোকবিহীন গৃহ মধ্যে বাদ করাইলে 
শিশুর স্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন লাভের আশা স্ত্রদুর পরাহত। 
কতদিনে আমাদের অজ্ঞানান্ধকার ঘুচিবে তাহা জগদীশ্বর 
জানেন। 

শিশুর শশ্য! বসনাদির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পুতি দৃষ্টি রাখাও 
নিতান্ত আবশ্যক। আমাদের দেশের গৃহলম্মনীদের এতদ্বিষয়ে 
আদৌ দৃষ্টি নাই। কোন নবীনা ইংরাজ-জননীর শব্যা-বসন 
দেখিয়া তাহাকে নবপ্রসূ বলিয়া মনে কর! যায় না। অপর 
পক্ষে এতদ্দেশীয় প্রসুতিগণ যে কক্ষে শিশুসস্তান লইয়! বাস 
করেন, তন্মধ্যে প্রবেশ করিলে মুহূর্তকালও থাকিতে ইচ্ছা 
হয় না। সুতিকাগারে শিশুর ভাগ্যে কয়েকখানি মলিন কস্থা 
ব৷ বন্ত্রধণ্ড ভিন্ন বড় কিছু মিলে না। প্রন্গৃতি ও শিশুর পরিচর্য্যা 


করিবার জন্য যে পরিচারিকা নিযুক্ত হয়, তাহার পরিধেয় 
ন্‌ 


৯৮ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


বস্্রখানিও মসিকুষ্ণবর্ণ শিশু অনেক সময় পরিচারিকার 
ক্রোড়েই শায়িত থাকে । অপরিক্কত শব্যাবসন ধনুষ্টঙ্কার- 
রোগের অন্যতম কারণ। এ নকল মলিন বসনে রোগ-বীজাণু 
লিপ্ত থাকা অসম্ভব নহে। 

পল্লীগ্রামে সচরাচর এক খণ্ড চেঁচাড়ির দ্বার! শিশুর নাড়ী- 
কাটা হইয়া থাকে। এ প্রথা অতিশয় দূষণীয়। নাড়ীকাটার 
দোষে এবং নাভীক্ষত অপরিক্কত রাখিলে শিপ্টদিগের প্রায়ই 
ধনুষ্টঙ্কার রোগ হইয়া থাকে । 

একখানি তীক্ষধার কাচি পরিশোধক জলে কিছুক্ষণ 
নিমজ্জিত রাখিয়। পরে এ কীচি দ্বার। নাড়ীচ্ছেদ করাই স্থব্যবস্থা। 

ক্ষতস্থান অনাবৃত রাখিবে না। কোন একটি অনুগ্র জীবাণু- 
নাশক উষধ দ্বার! ক্ষত প্ড্রেস” করিবে । “ট্রেসিঙ্গ” সিক্ত 
বা! দুর্গন্ধযুক্ত হইলে ততক্ষণ উহা! পরিবর্তিত করিতে হইবে । 

কিছুদিন হইল কোটামি ও টিজোনি নামক দুইজন বৈজ্ঞানিক 
ধনুষস্কারগ্রস্ত জীবের রক্তরস হইতে এক প্রকার ধধ আবিদ্ধুত 
করিয়াছেন। ইহাকে ধনুষ্টক্কারের “য়্যান্টিটক্িন্” (7569008 
37)0-0081) বলে। রোগ প্রকাশ পাইবার পুর্বে এই ওষধ 
সূঙ্ষনমুখ পিচকারি ছার! ত্বক্‌ নিন্সে প্রযুক্ত হইলে রোগাক্রমণের 
ভয় থাকে না। এই চিকিশুসা এখনও পরীক্ষাধীন রহিয়াছে। 


*এক থগ্ড লিল্টে বোরিক এমিডের মলন.মাখাইয়া ক্ষতে লাগাইয়া রাখবে। 


হাম ও বমন্ত। 


সম্ভবতঃ হাম-বসন্তও বীজীণুঘটিত গীড়া। তবে ইহাদের 
বীজাণু এত সূষ্গনাণুসুদ্ষম যে অণুবীক্ষণের লাহায্যেও আমরা 
তাহাদিগকে দেখিতে পাই না%। ষোড়শ খুঁফীন্দে হাম 
সর্ববপ্রথমে লোহিত সাগরের উপকণে আত্মপ্রকাশ করে। 
শীত ও বসন্তকাল ইহার প্রকৃষ্ট সময়। শিশুদিগের মধ্যেই 
এই রোগের প্রাদুর্ভাব অধিক। তবে কোন কোন সময় প্রাপ্ত 
বয়স্কদগেরও এই গীড়। হইতে দেখ। ঘাঁয়। বালিকা মাপক্ষ। 
বালকরাই ইহা দ্বার অধিক সময় আক্রান্ত হয়। 

হামের বীজ দেহপ্রবিষ্ট হইবার পর দশ হইতে ত্রয়োদশ 
দিবসের মধ্যেই রোগ প্রকাশ পাইয়া থাকে। কিন্তু 'সার টমাস 
, ওয়াটদন্‌ বলেন, চতুর্দশ দিবসেও অনেকের রোগ প্রকাশ 
পাইতে দেখা গিয়াছে । সর্দি, কামি, ভুরভাব, নানিকা ও চক্ষু 
হইতে জলক্রব প্রভৃতি এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। পরে 
হঠাও একদিন শরীরের তাপ অত্যন্ত বৃদ্ধি হয়। সচরাচর হুর 
ঞ প্রকাশের পর দ্বিতীয়, তৃতীয় অথবা চতুর্থ দিনে “ইরাপ্শন্” 


অনেকে মনে করেন, এই নকল রোগের বীজীণু পুষ্পবেধুর গ্ঠায় কারণ 
রোগীর গৃহ হইতে যে দিকে যখন বায়ু প্রবাহিত হয় মেঃ দিকের অধিবামীরাই 
'&রাগাক্রান্ত হইয়! থাকে, ইহা! সর্বদাই দেখ ঘায়। 


চা বাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


বাহির হয়। এই ইরাপ্শন্‌ প্রথমে মুখমগ্ডলে বাহির হইয়! 
ক্রমে সর্ববাঙ্গে প্রকাশ পাইতে থাকে । 

স্বজাত-হামের মাকার দেখিতে লালবর্ণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সরিষার 
ন্যায়। প্রায়ই সাত হইতে দশ দিবসের মধো উহারা অদৃশ্য 
হইয়া যায়। 

হামের দ্বারা সাধারণ স্বাস্থ্য অতান্ত ক্ষু্ন হয়। উদরাঁময় এই 
রোগের সহচর । কাহারও কাহারও এই উপদ্রবটি দীর্ঘকাল স্থায়ী" 
হইয়। পড়ে । অত্ান্ত ভূর, বিবমিষ', কাসি, স্বরভঙ্গ ও অন্যান্থা 
দুর্লক্ষণ সংযুক্ত এক প্রকার হাম আছে। ডাক্তারের তাহাকে 
“11111577801 10062816৭” বলেন। ইহারা দেখিতে কৃষ্ণবর্ণ ; 
এই দুষ্ট হাম অল্প অল্প এবং অনিয়মিতভাবে প্রকাশ পায় ও 
অদৃশ্য হয়। ইহা! প্রথমে হামরূপে প্রকাশ পাইয়! পরে বিষম 
মাকার ধারণ করে। কোন কোন সময় ইহ! দ্বার! অনেক 
লোকের জীবন নষ্ট হয়। 

পল্লীগ্রাম অপেক্ষা জনগহন সহরে হামরোগে মৃত্যুর সংখ্যাঃ. 
অধিক । হাম ভালরূপ বাহির না হইলে তাহাকে চলিত কথায় 
“হাম লাট্‌ খাওয়া” বলে। হাম এইরূপ পলা খাইলে” বিশেষ 
আশঙ্কার কারণ হয়। 

এই রোগ স্পর্শাক্রামক্* ; এক সময়ে বু লোকের ইহা 
হইতে দেখা যায়। বাড়ীতে কাহারও হাম হইলে রোগীকে 

তৎক্ষণাৎ এক পৃথক ঘরে রাখিবে। সংস্পর্শে ও বস্তি 


*খোস, পাচড়া, দক্ত প্রস্তুতি রোগও গও স্পরশীক্রামক | 


হাম ও বলস্ত। ১৩৯ 


সংযোগে: এই ব্যাধি-বীজ এক স্থান হইতে অন্য স্থানে নীত হয়। 
অুবতরাং বাড়ীর ত্স্থ বালকবালিকাগণকে রোগীর সংস্পর্শে 
মালিতে দেওয়া কদাচ উচিত নভে । মতদিন রোগার কাছি 
ও গায়ের ছাল উঠা মারোগ্য না হয় ততদিন তাহাকে পৃথক 
বাস করানষঈ ন্ুব্যবস্তা। ল্লান ও শরীরে তৈল মর্দন জারা এই 
রাংগার স্পশাক্রামকতা! অনেকটা বিনস্ট হয়। এই জন 
আমাদের দেশে রোগান্তে আরোগ-নানের” ব্যবস্থা আছে। 

বসন্ত অনান্ত সংক্রামক ও স্পরশ্শীক্রামক । এই ব্যাধি 
ভারতে চিরপরিচিত। এতদ্দেশে একটি কিংবদন্তী আন্ছ জে, 
এই রোগ প্রথমে উদ্ু হইতে মানবদেহে পরিচালিত হয়! 
মোটকথা, এই রোগের জন্মভূমি কোথার এবং কিরূপেই 
না ইহ| মনুষ্যসমাজে প্রথম প্রবিষ্ট হইল তাভা নিশ্চয়রূপে 
(কহই বলিতত পারেন না । তবে অনেকে বলেন ইহা ভারতে 
জন্ম গ্রুচণ করিয়া তথা হইতে দেশাস্তরে সন্প্রপারি5 হয়। 
বসন্তের অধিষ্ঠানী দেবী “শীতলা” শ্মরণাতীত কাল হইতে 
ভারতবাসীর পুজা হইয়া আছেন। থুষ্ট জশ্মাইবার প্রায় দুই 
হাজার বৎসর পূর্বেবেও বসন্ত এদেশবাসীর উপর অ'ধপতা 
করিয়াছে। 

এই পীড়ায় চর্ম মসুর সদৃশ হিরাপ্শন্” বাহির হওয়ায় 


* বসস্তের বীজও বসার সাহায্যে দূরতর স্থানে চালিত, হয়। প্রবাসা 
বসঝ্ত-রোগীর নিকট হইতে পঞ্রেব সহিত রোগ-বীজাথু চলিয়! আঙিছে শুন! 
শিয়াছে। 


১৪২ ব্যাধি ও তাহার প্রতিযেধ। 


সংস্কৃত ভাষার ইহাকে মসুরক] বলে। এই ব্যাধি বসন্তকা লই 
অধিক প্রাদুভূত হয়ঃ বোধ হয় এইজন্য লোক ইভা(ক 
বসন্ভ নামে অভিহিত করিয়াছে । 

ভারতের বিভিন্ন স্থানে ইহা বিভিন্ন নামে জভিভি *। 
বথা--“গীড়ঙ্গ,” “ঠাকুরাণী,” “দেবী,” “শীশলা, “ইচ্জাবসন্তু, 

“মাত1৮, “ভবানা)” “বাবা” “লীতলাগুটি, ” “বড়পীড়া)” “জগদন্বা: ' 
ইত্যাদি । শুনিয়াছি সিংহলবাসীরা ইহাকে মহাব্াাধি বলে । 

তিন সহজ বগুলর পুর্বেব চীনবাসীর! এই রোগের সহিত 
+2চিত ডিল 7 অঠি প্রাচীতক।ল হইতে আরব দেশেও ইহ 
আধিপশ্য করিতেছে । কাফ্রগণ ইহ দ্বারা অতি সহজেই 
আক্রান্ত হয়; এই কারণে কেহ কেহ বলেন, পুর্বকালে যখন 
বাণিজ্যসুত্ে ভারতের সহিত আফ্রিকার ঘনিষ্ঠতা ছিল, তখন এই 
রোগ ভারত হইতে তথায় নীত হয়। ফলত এ সকল অনুমান 
মাত্র। 

এহ রোগের গুপ্রাবস্থা দ্বাদশ দিবস । রোগ প্রকাশের 
পুর্বেব গাত্রবেদন। হঠয়৷ প্রনল ভর হয়। জ্বর হইবার তৃতীয় 
অথবা চত্রর্থ দিবসে বসন্তের গুটিকা বাহির হয়। এই গুটিক? 
তামের ম্যায় মুখমণ্ডলে প্রথমে বহির্গত হইয়া ক্রমে দুই তিন 
দিবস মধ্যেই সর্ববাঙ্গে পরিব্যাপ্ত হইয়া পড়ে। গুটিকার 
চত্ুষ্পার্থ রক্তবর্ণ হইয়া উঠে। প্রায়ই অষ্টাহের মধ্যে গুটিকা- 
গুলি পরিপক্ক হয় এবং ক্রমে পুয় নির্গত হইয়া ছুই সপ্তাহের 
মধ্যেই ক্ষত শুল্ক হইয়া বায়। 


হাম ও বসন্ত। ১০৩ 


সচরাচর স্রজাত-বসন্তভ উদগত হইলেই জ্বর অন্তহিত ভয়। 
কোন কেন জাতীয় বসন্ঠ বাহির হইলেও জ্বর ত্যাগ হয় না; 
আধকন্ত শিরঃগাড়া, অস্থির", ভন্দ্রা ও বিকারের লক্ষণ সকল 
প্রকাশ পায়. ইহাকে “দুঙ্ট বসন্ত” বলে। ইহার ভাবিফল 
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মন্দ! ফুসফুসের প্ুদাহ, পরিপাক-বিকার, 
চক্ষুতে ক্ষত, কর্ণ হইতে পুয় নিঃসরণ, রল্তআাব প্রভৃতি ব ন্তু 
রোগের বিবিধ উপসর্গ আছে । অনেক স্লে চঙ্ষুর মধো 
বসন্ত হইয়া চক্ষু নষ্ট হয়) অন্যপিক গুটিকা নির্গত হঈলে 


শু ঘারিলটি সি টু খ্বসা বা স্ত জাভা এর 
মন্দ, ডিশ শ্রুগ ভি চঙ্গদয় স্মিত হই 04178 


| 


এই রোগে মুত্র ভার শতকরা ৩০। রেগাব বয়স ও 
উপসগের উপর শ্ভা্ভ ফল নিভর করে। অভি শিশু ও 
অতি বুদ্ধের বসম্ভরোগ বিশেষ ভমান্ত। গর্ভিণীর এই রোগ 
হইল গর্ডআ্রাব ও মৃত্া হওয়া অসম্ভব নহে । 

হম বা বসন্তের বীজ দেশ প্রবিষ্ট না হইলে কখনই এই 
সক,। বোগ জন্মেনা। যে সমায রোগীর গাত্রের ছাল উচিত 
আর্ত হয়, তখন এ ছালের মধ্যে রোগ-বীজাণু অবস্থিতি করে। 
কোন কোন নিভ্দ্ত চিকিৎসক বলেন, বসন্ত-রোগের বীজ ঢুই শত 
ব€সর কালও সঙ্গীব থাকিতে পারে। 

হাম বা বসন্তভ-রোগ কাহারও একবার হইলে এ বান্তি আর 
এ রোগে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত ভয় না। তবে কচি কাভারও 
কাহারও দ্বিতীয় আক্রমণের কথা শুনা যায়। ১৭৭৪ খুষ্টাব্ডে 
ফরাসীদেশের নরপতি পঞ্চদশ লুই ৬৪ ব্তসর বয়সে বসস্তরোগে 


ও 


১০৪ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হ'ন। চতুর্দশ বৎসর বয়ক্রম কালে রাজার একবার 
বসম্তরোগ হইয়ছিল। সুতরাং এই দ্বিতীয় আক্রমণের কারণ 
অনুসন্ধানের জন্য তণকালে রাজ্য মধ্যে এক বিষম আন্দোলন 
উপস্থিত হয়। অবশেষে ভিষক্ত্রে্ঠ গ্রেগরি বুঝিতে 
পারিলেন যে বাল্যকালে পঞ্চদশ লুই মহোদয়ের প্রকৃত বসন্ত 
হয় নাই ; উহ! পানি-বসন্ত মাত্র । 

বসন্তবীজ দেহপ্রবিষ্ট হইলে চন্ম মধ্যে প্রথমে প্রদাত 
উপস্থিত তয়। পরে এ প্রদাভযুক্ত স্থানে গুটিকোদগম হইয়া 
থাকে । বসন্ত মধ্যে রস সঞ্চিত হইয়া থে “লম্প” (1,170) ) 
উৎপন্ন হয়, উহাই এ রোগের বাজ। এঁবীজ অপর কোন 
বাক্তির রক্তের সহিত মিশ্রিত হইলে তাভারও বসন্ত হইয়। থাকে | 

মনুষ্যের স্যয় অন্যান্য জীবেরও বসন্ত হয়। গোজাতির 
মধ্যে ইহার প্রাদুর্ভাব যথেষ্ট । অধুনা গো-বসন্তের বীজ লহয়া 
এই রোগের প্রতিষেধক টিক] দেওয়া হইতেছে। 

বসন্ত-রোগীকে ক্ষণকালও বিলম্ব না করিয়া এক পৃথক 
ঘরে রাখা উচিত। এ সঙ্গে সম্ভব হুলে বাড়ীর অন্যান্য 
লোককে স্থানান্তরে পাঠানই সুব্যবস্থা । রোগীর গুহ প্রশস্ত 
ও বায়ুপুর্ণ হওয়া আবশ্বাক । তথায় অনাবশ্যক দ্রব্যাদি রাখা 
অন্ুচিত। কয়েকখানি বন্ত্র কার্ববলিক লোশনে নিমজ্জিত করিয়া 
এ কক্ষের জানালা ও দরজায় সর্ববদ। বুলাইয়া রাখিবে এবং 
ঘরের মেঝেটি মধ্যে মধো পরিশোধক জলে ধৌত করিয়া 
ফেলিবে। রোগীকে সর্ববদা মশারির মধ্যে রাখিতে ভুলিবে না; 


হাষ ও বসস্ত । ১৩৫ 


কারণ বসন্তের ক্ষতে মক্ষিকাদি বলিয়া রোগ-বিস্তার করিতে পারে। 
রোগীকে ঘত্র তত্র কফ-কাসাদি ফেলিতে দেওয়াও নিষিদ্ধ । একটি 
পাত্রে পরিশোধক জল রাখিয়া উনাতেই কফ-কাস নিক্ষিপ্ত 
করিতে উপদেশ দিবে। 

রোগী নিরাময় হইলেও “তাহাকে কিছুকাল পক বাস 
ক্রাইবে। স্ুন্থ স্ঙ্গে আদিনার পুর্বে অন্ততঃ দুই তিনবার 
কোন পরিশোধক জলে তাহাকে সান করাইয়া লইবেক্। 
তাহার ব্যবহত শয্যা, বস, রুমাল, ভেোজন-পাত্র প্রভৃতি .দগ্ছ 
করিয়া ফেলাই কর্তব্য । তদভাবে পরিশে।ধক জলে নিমজ্জিত 
9 ফুটন্ত জলে সিদ্ধ করিয়! গ্রহণ করিবে! ।॥ বসন্ত-রোগার 
গৃহ কার্বলিক লোশনে বা তদ্ব কোন জলে উত্তমরূপে ধৌত 
ও চুণকাম না করিয়া ব্যবহার করিবে না। 

যাহার! অল্পদিন হইল টিক! গ্রহণ করিয়াছে অথবা যাহাদের 
একবার বসন্তরোগ হইয়াছে, এমন লোকই এই বোগার 
পরিচর্যা করিবার উপযুক্ত পাত্র। সংক্রামক রোগীর পরিচর্যয। 
করিতে হইলে ঘে সকল নিয়ম অবশ্য প্রতিপালন করিতে হয়, 
এই রোগীর পরিচধ্যাকারী সে গুলি মান্য করিতে কদাচ ভুলিবে 
না। রোগীর হে অপর লোক প্রবেশ করা উচিত নহে। যদি 


শাাএরথস -.. সপ সপ ক ৬ পাপা পাপা সপ আও আস সপ সপে পি সপীপ স্পা পাশ পিজ্জা পিস পোষ শা এ ০ পপ এস আজ 


আমাদের দেশে “আরোগ্য-ন্লানের” সময় নর বিশপত্রসহ হরিদ্র বাটিয়! গাত্রে 
“পন কর! হয়। ইহ! দ্বার] রোগ-বীজ বিনষ্ট হইতে গারে। 

1রোগীর শব্য।-বসনাদি বিষনাশক জলে ধোঁত ন৷ করিয়া! রজকালয়ে পাঠাইতে 
নাই । 


১০৬ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষ্ধ। 


প্রবেশ করিতে হয়, তবে একখানি মোটা চাদর দ্বারা সর্ববাজ- 
আচ্ছাদিত করিয়া প্রবেশ করিবে এবং বাহিরে আসিবার সময় 
এ চাদরখানি গৃহের দরলগাত্র রাখিয়া হস্ত পদাদি উত্তমরূপে ধৌত 
করিয়। স্থানান্তরে যাইবে । 

রোগীর গাত্রে কার্ববলিক তৈল মাখাইয়া রাখিবেক । ইহাতে 
রোগ-যন্ত্রণার অনেক লাঘব হয়, ছিতীয়তঃ ক্ষতমধ্স্থ রোগ-বীজও 
বায়তাড়িত হইয়। ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত হইতে পারে না। 

টিকা গ্রহণই বসন্তের শ্রেষ্ঠ প্রতিষেধক | বাড়ীতে বা গ্রামে 
বসল পয দিল কল বিলম্ব না করিয়' সাল টিকা গ্রুলণ 
করিবে । বাল্যকালে একবার টিকা ভইয়াছে বলিয়! কখনই 
নিশ্চিন্ত থাকিবে না। 

পূর্ববকালে এ দেশে বসন্ভ-রোগাক্রান্ত মানুষের বীজ লইয়া 
টিক দিবার পদ্ধতি ছিল। উহাকে “ইন্অকুলেশন” বল! হইত। 
১৭০০ খৃষ্টাব্দে এই “ইন্অকুলেশন্” টিকা টাঞ্কির কনফ্টাপ্টিনোপল 
নামক স্থানে সর্বপ্রথম প্রচলিত হয় । কিন্তু এই টিক! অনেক 
সময় মারাত্মক হইয়া উঠিত। এজন্য ১৮৫৬ খফ্টাব্ডে 
আমাদের সদাশয় গভর্ণমেণ্ট উহার পরিবর্তে পত্যাক্সিনেশন্” 
অর্থাত গ্ো-বসন্তের টিক। দিবার নিয়ম বিধিবদ্ধ করিয়াছেন । 

১৭৯৬ খৃষ্টাব্দে ইংলগ্ডে, ১৭৯৯ খষ্টাব্দে আমেরিকায় এবং 
১৮০০ খুষ্টাব্দে ফরাসীদেশে প্রথম ভ্যাক্সিনেশন্ঠ (৪০০ 


৮৮ পাশ ০০০০ ৯০০০ 


ককাকালিক এসিড ১ ভাগ অলিভ অয়েল (তদতাবে নারিকেল 
৯ ভাগ একভ্র মিশ্রিত ক্রিয়! লইবে। 





হাম ও বসন্ত । ১০৭ 


12110 ) আরম্ত হয়। ইংলণ্ডের স্বিখ্যাত ডাক্তার জেনার 
মহোদয় ইহার প্রবর্তক। আজ সেই চিরম্মরণীয় জেনারের 
কুপায় ছুরিকার অগ্রভাগে এক বিন্দু গো-বীজ লইয়া আমরা 
ভীষণ মানবশক্র বসন্ত-রোগের আক্রমণ হইতে আত্মরক্ষা করিতে 
সমর্থ হইয়াছি। 

বসন্ত্-বীজ দেহমধ্যে প্রবিষ্ট করাইয়া এই দুষ্ট ব্যাধির 
চস্ত হইতে অব্যাহতি পাইবার চেষ্টা প্রাচীন মিসর, চীন, তাতার 
প্রভৃতি দ্েশবাসীরাও করিত। তবে ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন 
কী অসলেছিত হি; চীন দেশে পুয়ের পরিনার্রে গুটিকার 
কচ্ছু নাসারন্ধে, প্রবিষ্ট করান হইত । স্কটুলগ্ডে সুস্থ শিশুকে 
বসন্ত-রোগীর সহিত এক শব্যায় রক্ষা করা হইত। কোন 
কোন স্থানে বসন্ত-রোগের পুয়সংযুক্ত সুত্র শিশুর হস্তে বীধিয়' 
দেওয়া হইত। আবার কোথায় বা বসন্তের ,শু্ষ কচ্ছ শিশুর 
কোমল হস্তে অথন! পদতলে ঘর্ষণ করিবার 'রীতি ছিল। 

শরীর স্থস্থ থাকিলে প্রত্যেক তিন মাস বয়স্ক শিশুকে টিকা 
দেওয়া উচিত। পঞ্চম বুসর বয়সে এবং দ্বাদশ বশসর বয়সে 
আবার টিকা গ্রহণ করা আবশ্যক । এতত্তিন্ন বসস্ভের 
“এপিডেমিক” সময়ে কালাঁকাঁল বিচার না করিয়া সকলের 
পক্ষেই নূতন টিকা গ্রহণ করা সমীচীন । 


শি স্পেস পপ শীতিপপকত আপা সপ শপ শ্পাটরত 


'আতুড়ে শিশু ও গভিনী নকলেই নিরাপদে টিকা লইতে পারেন। | পরীক্ষা 
দ্বারা স্থিরীকৃত হইয়াছে, যে স্থলে টিকা দেওয়া শিশু বসস্ত-রোগে একটি মবে, 
সেই স্থৃল টিক্ষা না দেওয়! শিশু ৪৪*টি মারা যায়। 


পি সস পদ | জা শীট সি পাশে পা শেক 


১৯৮ বাধি ও তাহার গপ্রতিষেধ। 


অনেক পলীগ্রামে প্রথমতঃ গো-বীজে একটি শিশুকে টিকা 
দেওয়া হয়। পরে এ শিশুর বসন্ত হইলে তাহার হস্ত হইতে 
বীজ লইয়া আবার অন্য শিশুকে প্রদত্ত হয়। এ প্রথা সম্পূর্ণ 
নির্দোষ নহে। যে শিশুর বীজ গ্রহণ করা হয় তাহার শরীরে 
উপদংশাদি রোগ থাকিলে এ রোগ-ব্যি সঙ্গে সঙ্গে অন্য দেভে 
ক্রামিত হইতে পারে । এই দৌষ নিবারণের জন্টা তাজধ্ণাল 
প্রতোক স্থানে গভণমেণ্ট কর্তক যথেষ্ট পরিমাণে চগা-বাজ 
প্রেরিত হইতেছে। 
কোন কোন বিজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, গার্দভ-দুপ্ধ এই রোগের 
প্রতিষেধক । রোগের প্রাদুর্ভাবকালে প্রত্যেক লোক অঙ্গ 
কাচ্চা পরিমাণ এই দুগ্ধ পান করিলে বসস্তের কবল হইন্ডে 
নিস্তার পাইতে পারেন। কেহ কেহ উচ্ছে খাইতে উপদেশ 
দেন। কাহারও কাহারও মতে কণ্টীকারির মুলই উত্তম 
প্রতিষেধক । কিন্তু টিক! গ্রহণের ন্যায় আর কোন ব্যবস্থাই 
এই রোগের সুনিশ্চিত প্রতিষেধক নহে । 


পরিশিষ্ট । 


কার্ববলিক লোশন--কার্বলিক এমিড ১ ভাগ, উঞ্ণজল ২০ ভাগ) 
পারক্লোরাইভ লোশন-_পারক্লোরাইড অব্‌ মার্কারি (রসকপূর ) 
১ ভাগ, জল ১০০০ ভাগ। 
কণ্ডিস্‌ ফুইডু লোশন-_পটাস পারম্যাঙ্গানেট্‌ ১ ডাম বা ৬০ গ্রেণঃ 
জল ১ পাইণ্ট। 
রোগীর বন্ত্রদি এবং ঘরের আসবাবপত্র বিশোধন-কার্ষ্যে 
ইহারা ব্যবহৃত হয়। 
যে পাত্রে রোগী! কফ-কাসাদি নিক্ষেপ করে, সে পাত্রমধ্যেও 
কার্ববলিক লোশন, পারক্লোরাইড লোশন অথবা কগ্ডিস্‌ ফুঁইভ 
লোশন-_ইহাদের মধ্যে যে কোন একটি জীবাণুনাশক জল 
রাখা ষায়। 
রোগীর পরিচধ্যাকারিগণ নিজ হস্ত ও পরিধেয় বসনাদি 
প্রথমে সাবান-জলে উত্তমরূপে ধৌত করিয়া পুনরায় উপরি উক্ত 
যে কোন একটি ওষধ-জলে ধৌত করিয়া লইবে । 
আইজাল্‌ লোশন-_-আইজাল্‌ (1291 ) ১ ভাগ, জল ২০০ ভাগ। 
ফেনাইল লোশন---ফেনাইল ১ ভাগ, জল ১০০ ভাগ। 
রোগীর ঘর, মল-মূত্র ত্যাগের স্থান এবং বাড়ীর ড্রেণ প্রভৃতি 
দোষশুন্য করিবার জন্য এই দুইটি লোশন সর্ববদাই ব্যবহৃত হয়। 


১১০ ব্যাধি ও তাহার প্রতিষেধ। 


প্রচুর পরিমাণে কলিচুণ গুলিয়া ঢালিয়া দিলেও এ সকল 
স্থান নির্দোষ হইতে পারে । 

বারনেট্‌ ফইড--এক ড্রাম জলে ৫ গ্রেণ ক্লোরাইড অবৃ জিঙ্ক 
মিশাইলে যে লোশন হয় তাহাকেই বারনেট্‌ 
ফুইড বলে। 

ইহাও নর্দামা-_পাইখানা এবং রোগীর শয্যাঁবসনাদি 
শোধনার্থে উত্তম। 

"গন্ধক দ্বারা গৃহশোধন--জনশৃগ্া ঘরের দরজা, জানাল! আবদ্ধ 
করিয়া গন্ধক পুড়াইবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে 
সে ঘর আর না খুলিলেই ভাল হয়। পরে বায়ু 
গতায়াতের জন্য কয়েক দিন ঘর খুলিয়৷ রাখিয়া 
চুণকাম করিয়া ব্যবহার করিবে । 

হাজার কিউবিক্‌ ফুটু স্থান শোধন করিতে অন্ধ হইতে 


এক সের গন্ধক আবশ্বক হইতে পারে। 


সমাপ্ত ।